

মিজানুর রহমান রানা
রাতের শহরটা যেন নিঃশব্দে শ্বাস নিচ্ছে। নাসার কাছাকাছি এক অজ্ঞাত দেশের রাস্তায়, ছেঁড়া জামা, এলোমেলো চুল, আর চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক যুবক। লোকজন তাকে দেখে বলে, পাগল!

কেউ হাসে, কেউ ভয় পায়। কিন্তু কেউ জানে না, এই পাগল আসলে কে? কী তার নাম।
একজন গোয়েন্দা। নাম ইরফান।
তার মিশন ডন জামশেদ নামের এক দুর্ধর্ষ মাফিয়া চক্রের দেশবিরোধী কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ। জামশেদের চক্রের মূল ঘাঁটি শহরের এক গোপন গবেষণা কেন্দ্রের পাশে, যেখানে নাসার কিছু প্রযুক্তি চুরি করে বিক্রি করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কাছে।
ইরফান জানে, সরাসরি ঢোকা অসম্ভব। তাই সে পাগলের ছদ্মবেশে শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়ায়, তথ্যের খোঁজে।
একদিন শহরের পুরনো লাইব্রেরির সামনে বসে ইরফান পাগলের মতো গুনগুন করছে। একটা মেয়ে তার সামনে এসে দাঁড়ায়।
ইরফান মেয়েটার দিকে আড়চোখে তাকায়, তারপর পাগলের মতোই হাসে।
“তুমি কি সত্যিই পাগল?”
ইরফান মেয়েরটির কথায় পাগলের মতোই তাকায়। মেয়েটির চোখে কৌতূহল।
ইরফান একটু পাগলাটে ভাব নিয়ে প্রশ্ন করে, “আরে ভাই তুমি কে?”
“শিলা আহমেদ। আমি সাইকোলজি পড়ি। তোমাকে কয়েকদিন ধরে দেখছি। তুমি পাগলের মতো আচরণ করলেও, চোখে বুদ্ধির ঝিলিক আছে।”
ইরফান চমকে ওঠে। এই মেয়েটি কি তার ছদ্মবেশ ভেদ করে ফেলেছে?
শিলা ইরফানের সাথে কথা বলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত বন্ধন গড়ে ওঠে। ইরফান বুঝতে পারে, শিলা শুধু একজন ছাত্রী নয়, সে নিজেও কিছু অনুসন্ধান করছে।
শিলা জানায়, তার ভাই একসময় জামশেদের চক্রে কাজ করত। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। শিলা এখন জামশেদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করছে নিজের মতো করে।
ইরফান সিদ্ধান্ত নেয়, শিলাকে বিশ্বাস করা যায়। সে শিলাকে প্রশ্ন করে জামশেদ সম্পর্কে। শিলা বিস্তারিত জানান। সে বলে, জামশেদের চক্রে রয়েছে তিনটি স্তম্ভ। রীতা হচ্ছে জামশেদের ডানহাত, যিনি শহরের প্রযুক্তি বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। চেঙ্গিস খান তার বিশেষ সহকারী, যিনি অস্ত্র ও তথ্য পাচারে দক্ষ। আর জামশেদ হচ্ছে মূল ডন, যার পরিকল্পনা নাসার প্রযুক্তি চুরি করে একটি সাইবার যুদ্ধ শুরু করা।
ইরফান ও শিলা মিলে রীতার অফিসে ঢোকার পরিকল্পনা করে। ইরফান পাগলের বেশে ঢোকে, শিলা সাংবাদিক পরিচয়ে। তারা জানতে পারে, আগামী সপ্তাহে একটি বড় তথ্য পাচার হবে।
তথ্য সংগ্রহের সময়, রীতা ইরফানকে চিনে ফেলে।
“তুমি পাগল না। তুমি গোয়েন্দা!”
ইরফানকে বন্দি করা হয়।
শিলাও ধরা পড়ে।
তাদের নিয়ে যাওয়া হয় জামশেদের গোপন ঘাঁটিতে।
জামশেদ হাসে, “তোমরা ভেবেছিলে আমাকে থামাতে পারবে?”
ইরফান বলে, “তোমার খেলা শেষ। আমি সব তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছি রাষ্ট্রীয় সংস্থায়।”
জামশেদ চমকে ওঠে। তারপর বলে, “প্রতিবারই তুমি আমার কিছু না কিছু ক্ষতি করো এবং নিজেও ক্ষতির শিকার হও, তারপরও তোমার শিক্ষা হয় না ইরফান?”
চেঙ্গিস খান রেগে গিয়ে ইরফানকে মারতে যায়, কিন্তু শিলা হঠাৎ জামশেদের ডেস্ক থেকে একটি অস্ত্র ছুঁড়ে মারে চেঙ্গিসকে। হুলস্থুল শুরু হয়।
এ সময় আগে থেকে খবর দিয়ে রাখা সংস্থার লোকজন এসে যায়। জামশেদ, রীতা, চেঙ্গিস সবাই ধরা পড়ে। ইরফান ও শিলা মুক্ত হয়।
ইরফান শিলার দিকে তাকিয়ে বলে, “তুমি না থাকলে আমি হয়তো সত্যিই পাগল হয়ে যেতাম।”
শিলা হাসে, “তুমি পাগল ছিলে না, কিন্তু ভালোবাসায় একটু পাগল হওয়া যায়।”
তারা হাঁটতে হাঁটতে শহরের আলোয় মিলিয়ে যায়। তারপর সাগরের কাছে এসে বসে। কিছুক্ষণ দু’জনের কথা বলে। এ সময় শিলা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, “একই মিশনে আলাদাভাবে এসে দু’জনের পরিচয়, কিন্তু মনে হচ্ছে আমরা বহুদিন থেকেই দু’জন দু’জনকে চিনি।”
ইরফান উত্তর দেয়, “আমার জীবনটাই এমন। মিশনে মিশনে জীবনটা পার হয়, কত নর-নারীর সাথে পরিচয় হয় তারপর দায়িত্ব-কর্তব্যের খাতিরে সবই ভুলে যেতে হয়…।”
কথাটা শেষ করতে পারলো না, হঠাৎ করেই ইরফান লক্ষ্য করলো সাগরের তলদেশ থেকে একটা সাবমেরিন ভেসে উঠলো, দ্রুতই সেখান থেকে একটা রশি এগিয়ে এলো এবং শিলাকে টান মেরে সাবমেরিনে নিয়ে সাগরের জলে মিলিয়ে গেলো।
ইরফান হতবাক। মুহূর্তে এটা কী হয়ে গেলো? সে ভাবছে, এটা জামশেদ বাহিনীরই কাজ। জামশেদ ধরা পড়লেও তাদের অন্যান্য গডফাদাররা কিন্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তারা শিলাকে টোপ হিসেবে নিয়েছে, ইরফানকে ধরার জন্য।
ইরফান সিদ্ধান্ত নিলো শিলার জন্য তাকে ধরা পড়তেই হবে।
সাগরের ধারে বসে থাকা ইরফান যেন পাথর হয়ে গেছে। শিলাকে সাবমেরিনে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। কোনো শব্দ নেই, কোনো চিৎকার নেই, শুধু এক নিঃশব্দ অপহরণ।
ইরফান জানে, জামশেদ ধরা পড়লেও তার চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। এই অপহরণ ছিল পরিকল্পিত। শিলা এখন টোপ। আর ইরফান একজন পাগল গোয়েন্দা, যার সামনে এখন এক নতুন মিশন।
ইরফান ফিরে যায় সংস্থার হেডকোয়ার্টারে। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানায় মেজর হায়দার, যিনি জামশেদ চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
তিনি ইরফানকে বলেন, “তুমি যা করেছো, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু সাবমেরিন অপারেশন আমাদের নজরে ছিল না।”
ইরফান বলে, “আমাকে একবার সুযোগ দিন। আমি শিলাকে ফিরিয়ে আনবো।”
হায়দার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, “তুমি একা যাবে না। আমরা তোমাকে একটা বিশেষ ইউনিট দেবো।”
ইরফান মাথা নাড়ে, “না। আমি আবার পাগল হবো। একা। ছায়ার মতো।”
ইরফান তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে, সাবমেরিনটি ডিপ ব্ল্যাক নামের এক গোপন সংস্থার। এই সংস্থা জামশেদের চেয়েও ভয়ংকর। তাদের উদ্দেশ্য নাসার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন।
শিলার ভাই, যে নিখোঁজ হয়েছিল, সে আসলে এই সংস্থারই একজন বিজ্ঞানী ছিল। তাকে ব্যবহার করে তারা নাসার কোড ব্রেক করতে চায়। আর শিলাকে অপহরণ করেছে, কারণ তার ডিএনএতে ভাইয়ের কিছু জিনগত কোড রয়েছে।
ইরফান আবার পাগলের বেশে শহরে ঘুরতে শুরু করে। কিন্তু এবার তার গন্তব্য সাগরের নিচে।
সে এক পুরনো ডুবোচালককে খুঁজে বের করে যার নাম ক্যাপ্টেন রুশদি, যিনি একসময় নৌবাহিনীতে ছিলেন।
রুশদি বলেন, “সাবমেরিনে ঢুকতে হলে তোমাকে মরতে হবে। অন্তত, মরার অভিনয় করতে হবে।”
ইরফান হাসে, “আমি তো পাগল। মরার অভিনয় আমার কাছে সহজ।”
রুশদি ইরফানকে একটি ছোট ডুবোযান দেয়। ইরফান সাগরের নিচে গিয়ে ডিপ ব্ল্যাকের সাবমেরিনের কাছে পৌঁছায়। সাবমেরিনে ঢোকার জন্য সে নিজের শরীরে নিউরাল জ্যামার লাগায়, যাতে তার চিন্তাভাবনা স্ক্যান করা না যায়। সে সাবমেরিনে ঢুকে পড়ে, ছায়ার মতো।
ভেতরে সে দেখতে পায় শিলাকে একটি কাচের ঘরে রাখা হয়েছে। তার চারপাশে বিজ্ঞানীরা কাজ করছে।
একজন বিজ্ঞানী বলে, “শিলার জিনোম কোড আমাদের কাছে আসছে। এখন শুধু ইরফানকে ধরলেই কোড সম্পূর্ণ হবে।”
ইরফান বুঝে যায়, সে নিজেও এই কোডের অংশ। জামশেদ তাকে আগে থেকেই টার্গেট করেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল, ইরফান ও শিলার মিলনে তৈরি হবে এমন একটি জিনগত সূত্র, যা মহাকাশ প্রযুক্তির এক নতুন যুগের চাবিকাঠি।
ইরফান ধীরে ধীরে শিলার ঘরের কাছে যায়। শিলা তাকে দেখে চমকে ওঠে। “তুমি এখানে?”
ইরফান বলে, “তোমাকে ছাড়া আমি সত্যিই পাগল হয়ে যেতাম।”
শিলা চোখে জল নিয়ে বলে, “তারা আমার ভাইকে ব্যবহার করেছে। এখন আমাকে। তুমি যদি না আসতে…”
ইরফান তার হাত ধরে।
“আমি এসেছি। এবার আমরা একসাথে পালাবো।”
ইরফান সাবমেরিনের ফিউশন কোর-এ টাইমার বসায়। তারপর শিলাকে নিয়ে সাবমেরিনের পেছনের অংশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু ঠিক তখনই ডিপ ব্ল্যাকের প্রধান ডক্টর ভ্যালেন তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।
সে অমায়িক হাসি উপহার দিয়ে বলে, “তোমরা ভেবেছিলে, আমি তোমাদের যেতে দেবো?”
ইরফান বলে, “তুমি ভুল ভাবছো। আমি তো একটা পাগল।”
সে হঠাৎ ডক্টর ভ্যালেনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হুলস্থুল শুরু হয়। শিলা সাবমেরিনের জরুরি সিগনাল চালু করে। সাগরের ওপরে সংস্থার হেলিকপ্টার এসে যায়।
ইরফান ও শিলা উদ্ধার হয়। ডিপ ব্ল্যাক ধ্বংস হয়। শিলার ভাইকে পাওয়া যায় মস্তিষ্ক ধোলাই করা অবস্থায়।তাকে পুনর্বাসনের জন্য পাঠানো হয়।
ইরফান ও শিলা একদিন আবার সাগরের ধারে বসে।
শিলা বলে, “তুমি কি আবার পাগল হবে?”
ইরফান হাসে, “তুমি পাশে থাকলে, আমি শুধু প্রেমে পাগল হবো।”
শিলা হেসে উত্তর দেয়, “পাগলামির শেষ নয়, শুরু মাত্র। পুরুষ মানুষ মাত্রই পাগল!”
ইরফান উত্তর দেয়, “শুধুমাত্র মনের মানুষের জন্য।”
ইরফানের কথা শুনে হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলে শিলা।
রোববার, ১৭ আগস্ট ২০২৫ খ্রি.
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শেয়ার করুন












