নীলার সন্ধানে

মিজানুর রহমান রানা :

একটি প্রেম, বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের গল্প

নীলা—সবুজ শাড়িতে মোড়ানো এক শান্ত, সংবেদনশীল তরুণী। তার চোখে ছিল একধরনের নির্লিপ্ত আত্মবিশ্বাস, যেন সে জানে জীবনের প্রতিটি বাঁক কিভাবে নিতে হয়। কলেজে পড়াকালীন, সে পরিচিত হয় ইরফানের সঙ্গে—এক স্বপ্নবাজ তরুণ, যার চোখে ছিল ভবিষ্যতের রঙিন ছবি, কিন্তু পকেটে ছিল শূন্যতা।

তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল কলেজ লাইব্রেরিতে। নীলা তখন রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা পড়ছিল, আর ইরফান খুঁজছিল আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। বইয়ের খোঁজে হাত ছুঁয়ে যায়, চোখে চোখ পড়ে, আর শুরু হয় এক নীরব সংলাপ।

কয়েক মাসের মধ্যেই তারা একে অপরের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। প্রেম ছিল গভীর, কিন্তু বাস্তবতা ছিল কঠিন। ইরফান তখনো চাকরি খুঁজছে, আর নীলা পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে সংসারে সাহায্য করে।

তারা ভালোবেসে বিয়ে করে। শুরুতে সবকিছু স্বপ্নের মতো ছিল। ছোট্ট একটা বাসা, দু’জনের হাসি, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক সংকট তাদের সম্পর্ককে ক্লান্ত করে তোলে।

ইরফান চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। নীলা টিউশনির টাকা দিয়ে সংসার চালায়, কিন্তু তার মনে জমতে থাকে অভিমান। ইরফান বুঝতে পারে, কিন্তু কিছু করতে পারে না। একদিন ঝগড়ার পর, নীলা চুপচাপ চলে যায়। কোনো চিঠি, কোনো বার্তা নয়। শুধু একটা খালি আলমারি আর তার সবুজ শাড়ির গন্ধ রেখে যায়।

নীলা চলে যাওয়ার পর ইরফান ভেঙে পড়ে। সে রাস্তায় রাস্তায় খুঁজে বেড়ায়, পুরনো বন্ধুদের কাছে যায়, এমনকি নীলার কলেজেও যায়। কিন্তু কেউ কিছু জানে না। সময় গড়িয়ে যায়, আর ইরফান বুঝতে পারে—নীলা তাকে ছেড়ে গেছে, হয়তো চিরতরের জন্য।

তবুও সে হাল ছাড়ে না। একদিন, এক পুরনো বন্ধুর পরামর্শে সে একটা ছোট ফার্মেসী খোলে। শুরুটা কঠিন ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে তার সততা আর পরিশ্রম তাকে সফল করে তোলে। পাঁচ বছরে সে হয়ে ওঠে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

নীলা চলে গিয়েছিল কক্সবাজারে, এক ছোট্ট স্কুলে শিক্ষকতা করতে। সে চেয়েছিল নতুন জীবন শুরু করতে—যেখানে প্রেম থাকবে না, থাকবে শুধু দায়িত্ব। সে নিজের মতো করে জীবন সাজায়, ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসে, বই পড়ে, আর নিজের ভেতরের শূন্যতাকে আড়াল করে রাখে।

তার হাতে সবসময় বই থাকে—রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, কিংবা নতুন প্রজন্মের কবিদের লেখা। সে জানে, ইরফান তাকে খুঁজবে, কিন্তু সে চায় না ফিরে যেতে। তার বিশ্বাস, ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, তবে একদিন দেখা হবেই।

একদিন, ইরফান কক্সবাজারে ছুটিতে যায়। সমুদ্রের ধারে হাঁটতে হাঁটতে সে একটা স্কুলের করিডোরে চোখ রাখে। সেখানে, সবুজ শাড়ি পরে, এক নারী বসে আছে—হাতে বইয়ের স্তূপ, চোখে সেই পুরনো আবেশ।

ইরফান থমকে যায়। সে এগিয়ে যায়, কিন্তু কিছু বলতে পারে না। নীলা তাকায়, চোখে জল জমে ওঠে। দু’জনের মাঝে নীরবতা, কিন্তু সেই নীরবতাই যেন হাজার শব্দের চেয়ে বেশি বলে।

নীলা বলে, “তুমি তো এসেই গেলে।”

ইরফান উত্তর দেয়, “তুমি তো কখনো হারাওনি, আমি শুধু দেরি করে খুঁজেছি।”

তারা আবার একসাথে হয়। কিন্তু এবার আর আগের মতো নয়। তারা জানে, ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, দায়িত্বও। তারা কক্সবাজারেই একটা ছোট্ট পাঠাগার খোলে, যেখানে নীলা বই পড়ায়, আর ইরফান ওষুধের পাশাপাশি মানুষের গল্প শোনে।

নীলার সবুজ শাড়ি আর ইরফানের চোখের দীপ্তি—দু’জনের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়, যেখানে প্রেম আছে, কিন্তু তার সঙ্গে আছে উপলব্ধি, ক্ষমা, আর একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি।

ঠিক সেই সময়ই হাজির হয় জামশেদ। তার মুখে ক্রুর হাসি। ইরফানকে বলে, “অনেকদিন পর তোমাদেরকে একসাথে পেয়েছি।”

ইরফান দেখলো জামশেদের পেছনে নিয়াজ ও রীতা দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বুঝার আগেই তাদেরকে সমুদ্রের পাড়ে রাখা একটি জাহাজে টেনে তুলে ফেললো। তার পর একটা কামরায় বন্ধী করে রাখা হলো। ইরফান হোয়াটস অ্যাপে তুষারকে একটা মেসেজ দিলো।

দ্রুত খবরটা পেয়ে যায় তুষার। সে বিষয়টা ইমতিয়াজকে। দু’বন্ধু মিলে রওয়ানা দিলো ইরফানের সন্ধানে।

বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
————

You might like

About the Author: priyoshomoy