জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় জৈব কৃষি চর্চায় কনিকা রানীর সফলতা

রনজিৎ বর্মন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :

বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এসে দেখি অভাব অনটনের সংসার। স্বামীর একার আয়ের উপর সংসার কষ্টের মধ্যে দিয়ে চলতো। বিয়ের কয়েক বছর পর যখন সংসারে সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে তখন সংসারের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিকল্পনা করলাম বসতভিটায় বার মাস সবজী চাষ করবো এবং প্রতি বছর ১০ শতক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান চাষ করবো।

আর তারপর থেকে বসতভিটায় স্বামী-শাশুড়ির সহযোগিতায় মৌসুম ভিত্তিক আলু, টমেটো, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি, ডাটাশাক, ওলকপি, ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা, উচ্ছে, শিম, লালশাক, পালংশাক, চালকুমড়া, লাউ, কচুরমুখি,পুইশাক, শসা, মরিচ, পেয়াজ, রসুন, হলুদ ও সরিষা ইত্যাদি সবজী চাষ করি। ও আমন মৌসুমে ১০ শতক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করি। নিজের পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষি নিয়ে এমনটাই জানাচ্ছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামের কৃষানী কনিকা রানী (৩৮)।

এ প্রসঙ্গে কনিকা রানী আরও বলেন, নিজের প্রচেষ্টায় টিকিয়ে রেখেছেন কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ কৃষি বাড়ী। শৈশবকাল থেকে দাদু ঠাকুরমা ও বাবা-মার কাছ থেকে তার কৃষি কাজের সূচনা। এক ছেলে, স্বামী ও শাশুড়িকে নিয়ে মোট চার জনের সংসার তার। ১ বিঘা বসতভিটা ও ৪ বিঘা বিল জমি সেখানে বৈচিত্র্যময় সবজী উৎপাদন ও কৃষি চর্চা করেন কনিকা রানী। স্বামী হিমাংশু মন্ডল পেশায় একজন কৃষক ও গ্রাম্য হোমিও চিকিৎসক । দিনের অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরের কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি।

কনিকা রানী গৃহস্থালীর কাজ, বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন, প্রানী সম্পদ পালন এবং সমন্বিত কৃষি কাজ ধান রোপন, ধান কাটা মাড়াই, বীজ সংরক্ষন সহ সব ধরনের কাজ করেন। এভাবে বৈচিত্র্যময় শাক-সবজী চাষাবাদ করার মধ্যে দিয়ে কনিকা রানী তার সংসারের অভাব দুর করতে প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ধান ও শাক সবজী আবাদ করায় একদিকে যেমন তাকে বাজার থেকে চাল ও শাক সবজী কিনতে হয়না অন্যদিকে পরিবারের চাহিদা পুরন করতে পারছেন।

নিজের ১ বিঘা বসতভিটায় তিনি যে সকল প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেন তা হলো ফলজ ও বনজ উদ্ভিদবৈচিত্র্য আম গোবিন্দভোগ, সিতা ভোগ, নিলাম্বরী, লতা, জাম, কাঁচকলা, কাঁঠালে, বড়বাউলে কলা, নারকেল, পেয়ারা, পানি আমড়া,সবেদা, জামরুল, বাতাবি লেবু, ডুমুর, তাল, খেজুর, করমচা, কেওড়া, রেইনট্রি, নিম, কদবেল, পাতিলেবু, লিচু, আপেল, নারকেল ও বিলিতে কুল, তেঁতুল, আঁশফল, আমলকি, জলপাই, গবেদা, কমলালেবু, ডালিম, আঙুরফল,কাঁঠাল, সুপারি, পেঁপে, গাব গাছ, দেশী বেল।

প্রাথমিক চিকিৎসা কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়া নিজ গ্রাম ও বাড়ির আশপাশ থেকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে রেখেছেন। প্রয়োজনে কোন উদ্ভিদ খুজে পেতে অনেক বেগ পোহাতে হয় না। তাই তিনি এ সমস্ত প্রয়োজনীয় উদ্ভিদকে হাতের কাছে পেতে নিজ আঙিনায় গড়ে তুলেছেন ছোট একটি ঔষধি গাছের বাগান। তার ঔষধি উদ্ভিদবৈচিত্র্য বাগানে রয়েছে, অনন্তমূল, অপরাজিতা, ঈষাণমূল, লালকেউটে, কালকেউটে, শিউলি, সোনাঝুরি, কৃষ্ণ তুলসী, রাধা তুলসী, মাধবীলতা, শিষ আকন্দ, শ্বেত আকন্দ, ঝাউগাছ, চিরবসন্ত, পাথরকুচি, দূর্বাঘাস, মেহেদী, ধুতরা, ইনসুলিন, প্রভৃতি।

কনিকা রানী সারাবছর বসতভিটায় মৌসুম ভিত্তিক স্থানীয় ফসল বৈচিত্র্য লালশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, সীম, বরবটি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, ঢেড়স, চালকুমড়া, উচ্ছে, করল্লা, বেগুন, টমেটো, ওল, কচুরমুখী, আদা, হলুদ, শসা, পেয়াজ , রসুন, পুইশাক, সরিষা, মরিচ, আলু, ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মূলা, বড় আলু. মানকচু ইত্যাদি চাষাবাদ ও সংরক্ষণ করেন।

উপকুলীয় এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তায় পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পুরনে বসতভিটায় অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য, ও মসলা বৈচিত্র্য আদাবরুন/বিলশাক, তেলাকচু, ঘুমশাক, কলমীশাক, গাদামনি শাক, হেলাঞ্চ, মাটিফোড়া শাক, খুদকুড়ো, হাতিশূর, সেঞ্চি শাক, ঘোড়া

শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy