

মো. আলামিন হোসেন :
সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলাকে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্য দিয়ে এক অনন্য পরিচিতি দিয়েছে। বর্ষাকালে এর দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি আর শুষ্ক মৌসুমে সবুজের সমারোহ, উভয়ই পর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে।

চলনবিল মূলত কয়েকটি ছোট-বিলের সমষ্টি, যা আত্রাই, বড়াল, গুমানী, ও করতোয়া নদীর প্লাবনভূমিতে অবস্থিত। তাড়াশ উপজেলা এই বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষায় চলনবিল এতটাই বিশাল আকার ধারণ করে যে একে ছোটখাটো সাগর মনে হয়। তখন বিলের মাঝে জেগে থাকা গ্রামগুলোকে দ্বীপের মতো দেখায়,
চলনবিল জীববৈচিত্র্যের এক অফুরন্ত ভান্ডার। এখানে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, যা স্থানীয়দের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। বিশেষ করে শোল, গজাল, টাকি, মাগুর, শিং, পাবদা, বোয়ালসহ নানান ধরনের মাছের জন্য চলনবিল বিখ্যাত। এছাড়া, বিলুপ্তপ্রায় অনে প্রজাতির মাছও এখানে দেখা যায়।
পাখিপ্রেমীদের জন্যও চলনবিল এক অসাধারণ জায়গা। শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে বিলের পরিবেশ। বালিহাঁস, সারস, পানকৌড়ি, বকসহ অসংখ্য প্রজাতির দেশীয় ও অতিথি পাখির আবাসস্থল এই চলনবিল।
চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি এর কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও বেশ সমৃদ্ধ। শুষ্ক মৌসুমে বিলের পানি কমে গেলে এখানে ধান, গম, সরিষা, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করা হয়। এখানকার উর্বর পলিমাটি ফসল উৎপাদনে অত্যন্ত সহায়ক। বর্ষায় মাছ ধরা আর শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ, এই দুইয়ের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে স্থানীয়দের জীবনযাপন।
তাড়াশ উপজেলার চলনবিলকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক পর্যটন সম্ভাবনা। বর্ষাকালে নৌকায় বিল ঘুরে বেড়ানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বিলের বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। এছাড়া, শুষ্ক মৌসুমে বিলের একপাশে বাইসাইকেল চালিয়ে বা হেঁটে বেড়ানোও বেশ উপভোগ্য।
তবে, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ, দখল, পলি জমার কারণে চলনবিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫















