

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মুরগির ঘর থেকে আটকের পর আবারো বনে ফিরলো বিরল প্রজাতির মেছো বিড়ালের দুই ছানা। ১/১১/২০২৫ (সোমবার) রাতে উপজেলার গহীন বনে মেছো বিড়ালের ছানাগুলোকে অবমুক্ত করে স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবক ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর পৌর শহরের পশ্চিম বালিকান্দি গ্রামের একটি মুরগির ঘর থেকে মেছো বিড়ালের ছানা দুটি উদ্ধার করে স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার বালিকান্দি গ্রামে বিকেলে হাঁস মুরগির ঘর থেকে বিড়ালের মতো দুটি বাচ্চা দেখতে পায় স্থানীয় বাসিন্দা বিএম শাহীন। এ সময় তিনি স্বাভাবিক বিড়ালের বাচ্চা মনে করে সেগুলোর কাছে গিয়ে ধরতে চাইলে শরীরের আকৃতি, রং ও গাঁয়ে ছোপ ছোপ কালো দাগ দেখে সন্দেহ হয়। বিষয়টি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকদের জানালে তারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চাগুলো মেছো বিড়ালেন ছানা বলে শনাক্ত করে। পরে বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য দুর্গাপুর বন বিভাগের কার্যালয়ে রাখা হয়।
বিএম শাহীন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে আমার হাঁস এবং মুরগির খোয়ার থেকে হাঁস মুরগি কমে যাচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম হয়তো শিয়ালের কাজ। তাই ইচ্ছে করে হাঁস মুরগি অনেকটা কমিয়ে দিয়েছি। গত রবিবার বিকেলে মুরগির খোয়ারে পরিষ্কার করতে গিয়ে ভিতরে বিড়ালের বাচ্চার মত দুইটি ছানা দেখতে পাই। পরে মুরগির ঘর থেকে বাচ্চা গুলো বের করতে গিয়ে দেখি তাদের নখ বড় বড় এবং গায়ের রং কিছুটা ভিন্নরকম ছোপ ছোপ কালো দাগও রয়েছে সারা গাঁয়ে এতে কিছুটা সন্দেহ হলে আমার চাচাতো ভাইকে বিষয়টা জানাই। পরে বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সংগঠনের সদস্যদের জানালে তারা বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তখন আমরা জানতে পারি এই বাচ্চা গুলো মূলত মেছো বিড়ালের ছানা।
পরিবেশ ও প্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল জানান, বন বিড়াল পাওয়া গেছে এমন সংবাদ শুনে পশ্চিম বালিকান্দি গ্রামে একটি মুরগির খোয়ার ঘর থেকে দুটি মেছো বিড়ালের ছানা উদ্ধার করি। ছানাগুলো বেশ বড়। মুরগির ঘরের ভেতরে জিআই তারের সাথে পেঁচিয়ে থাকায় বাচ্চাগুলো চলাফেরা করতে পারছিল না এবং ভিতরেই আটকে যায়। আমরা বাচ্চাগুলোকে হাঁস মুরগির ঘর থেকে উদ্ধার করি। পরে এগুলোর পরিচর্যা এবং পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য দুর্গাপুর বন বিভাগের অফিসে রেখে আসি। বাচ্চাগুলো একেবারে সুস্থ থাকায় এবং নিজেদের খাবার শিকার করে খাওয়ার সক্ষমতা থাকায় সোমবার রাতে গহীন বনের জলাশয়ের ধারে অবমুক্ত করা হয়।
তিনি আরো জানান, আমরা এর আগেও ৫৯টি রেসকিউ অভিযানের মাধ্যমে অজগর, বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর, বনরুই,হরিণ সহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছি। এর আগে চলতি বছরের ১৩ই জুন সদর ইউনিয়নে আরও দুটি মেছো বিড়ালের ছানা উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছিদ।
দুর্গাপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মজনু প্রামানিক বলেন, আমরা সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে নিয়ে উপজেলার গহীন বনে মেছো বিড়ালের দুটি ছানা অবমুক্ত করছি। বাচ্চাগুলো মোটামুটি বড় হওয়ায় এখন নিজেরাই নিজে থেকে শিকার করে খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এজন্য আমরা বাচ্চা গুলোকে একটি জলাশয়ের ধারে অবমুক্ত করেছি। আর যেহেতু মেছো বিড়াল একটি নিশাচর প্রাণী তাই আমরা দিনের পরিবর্তে রাতে প্রাণীগুলোকে অবমুক্ত করেছি যেন তারা নিরাপদে চলতে পারে এবং নিরাপদ স্থান খুঁজে নিতে পারে।
এবিষয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, আমরা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর সদস্যদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে এই মেছো বিড়ালের ছানাগুলো পুনরায় অবমুক্ত করার জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছি। মেছো বিড়াল একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী। এসব প্রাণী সাধারণত বড় জলাশয়, পুকুর ও হাওর অঞ্চলে বসবাস করে। এদের মূল খাবার হলো মাছ। তবে বিভিন্ন সময় খাদ্যের সন্ধানে এরা লোকালয়ে চলে আসে এবং হাঁস মুরগির খামারে ঢুকে পরে। এরা সাধারণত ইঁদুর, বিষধর সাপ সহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক প্রাণী খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে এই প্রাণীর শরীরে কালো ছোপ ছোপ চিহ্ন থাকায় অনেক সময় মানুষ এটিকে চিতা বাঘ বা বাঘ বলে ভুল করে হত্যা করে। প্রাণীটি একেবারেই নিরীহ প্রজাতির একটি প্রাণী। আমরা সচেতনতার মাধ্যমে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি প্রাণীটি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য।
০২ ডিসেম্বর ২০২৫
















