বঙ্গবন্ধু হত্যার সেই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের খবর কেউ রাখে না!

এম এইচ সামাদ, নেত্রকোনা থেকে :

১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টে যখন জাতির পিতার পরিবারসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তখন সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বহু নেতা যেখানে নিশ্চুপ ছিল সেখানে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে প্রথম গারো পাহাড় সীমান্তে সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত প্রেমিকেরা।

বর্তমানে কোথায়, কেমন আছেন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদী সেই যোদ্ধারা? তাদের খুঁজতে গিয়ে জানা গেল তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে অভাব অনটন আর পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে দুনিয়া ছেঁড়ে চলে গেছেন।

কেউবা ভারতে গিয়ে আর ফেরেননি আর যারা এখনো বেঁচে আছেন তাদের অনেকেই অভাবে কষ্টে জীবন-যাপন করছেন।

gif maker

তাদেরই একজন নেত্রকোনার উত্তর সাতপাই এলাকার জনাব সাইয়েদুল কাদির। যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদিযোদ্ধাদের অন্যতম একজন।

এছাড়া ১৯৭১ সালে কিশোর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এই প্রতিরোধী যোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এখন তার নাম উঠেনি! তার মুক্তিযোদ্ধার সনদের ডি.জি নং- DGI178426, বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৬৫ বছর।

পেশায় একজন দর্জি। বর্তমানে ৫ সদস্যের পরিবারে ২ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। কয়েক বছর পূর্বে মেয়েকে বিয়ে দেন। ২ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মানষিক প্রতিবন্ধী ও ছোট ছেলে নেত্রকোনা সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বেকার! উনার ভাষ্যমতে তিনি একজন আহমদী সম্প্রদায়ের মুসলমান।

আর তা জানার পর থেকে কিছু ধর্মান্ধ মৌলবাদীর দ্বারা তা কটু কথা শুনতে হচ্ছে এবং তার ভাড়া নেওয়া দোকানটিও ছাড়তে হয়েছে। তার প্রতিবন্ধী ছেলে শ্রমিকের কাজ করে কিছুদিন সংসার চালিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারনে বাহিরে সব ধরনের কাজ বন্ধ থাকায় তারা খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছেন।

পূ্র্বে একাধিকবার তাদের বিষয়ে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে এলাকার কমিশনারসহ কেউই তাদের খোঁজ খবর নেয় না। এলাকার অনেকেই সরকারি ত্রান পেলেও তিনি কোন সরকারি ত্রান পাননি।

বর্তমানে কাজ-কর্ম বন্ধ থাকায় দু’ বেলা খাবারও মিলছে না তার। তিনি জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার কাছে আমাদের এটুকুই চাওয়া আমরা দেশের সুনাগরিক এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদি যোদ্ধা হিসেবে জীবনের এই ক্রান্তিলঘনে যেন আমাদের প্রাপ্ত সম্মানটুকু পাই। আমরা কারো দয়া চাইনা আমাদের প্রাপ্ত সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই।

You might like