

নিউজ ডেস্ক :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়র মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে পরকীয়া নারী নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী সোনিয়া।

গত ১৭ নভেম্বর চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩ এর গ) ৩০ ধারায় মামলা স্ত্রী সোনিয়া বাদী হয়ে মামলা ২ জনকে আসামী করে মামলা করেন। মোকদ্দমা নং ৩০৬/২০২০ ।মামলা আসামী ১. মাহফুজুল হক পিতা মাওলানা শহীদুল্লাহ ২. আলো পিতা আরব আলী।

মামলার আর্জিতে মেয়র স্ত্রী সোনিয়া বলেন- ইসলামি শরীয়া মোতাবেক ২০১০ সালে মেয়র মাহফুজের সাথে তার বিয়ে হয় । বিয়ের পর মেয়ের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে সোনিয়ার বাবা তাকে স্বর্ণালংকার ও ঘরের সকল আসবাবপত্র দেয় । পরে ব্যবসার কথা বলে শ্বশুরের কাছে ৫ লাখ এবং বায়রার কাছে সাড়ে সাত লাখ টাকা ধার নেয় মাহফুজ । বিয়ের পরই তার স্ত্রী দেখেন তার স্বামী মেয়র মাহফুজ একজন পরকীয়ায় আসক্ত । সে নারীদের সাথে অবাধ পরকীয়ায় লিপ্ত। প্রায়ই মাদকসেবন করে তার স্ত্রীকে মারধর করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৪জন সন্তান এবং ৪ বছরের সন্তান রয়েছে ।
তার স্ত্রী বলেন শুধুমাত্র সন্তানদের মায়ায় এত নির্যানত সহ্য করেও সংসার করে আসছি কিন্তু আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য নানা ভাবে তাকে শারীরীক নির্যাতন করে মাহফুজ । মুখবন্ধ করে সব কিছু সহ্য করে আসলেও আলো নামে এক নারীকে নিয়ে মাহফুজ পরকীয়া ও অবাধ মেলামেশা করে । প্রতিবাদ করলে স্ত্রী সোনিয়ার উপর নেমে আসে নির্যাতন। মেয়র মাহফুজের বাবা এই নির্যাতন দেখেও না দেখার ভান করে এবং মাহফুজের পরকীয়াকে সমর্থন করে গেছে নিরবে ।

বর্তমানে স্ত্রী সোনিয়া প্রায় আড়াই মাসের গর্ভবতী। এমন অবস্থায়ও মেয়র মাহফুজের নির্যাতন থেমে থাকেনি। তাকে ৫ লাখ টাকা না দিলে স্ত্রীকে ঘরে থাকতে দিবেনা সাফ জানিয়ে দেয়। ১নং ও ২নং সাক্ষীসহ সামাজিক সাল্লিশ করলেও মেয়র তা মানতে রাজি না হয়ে স্ত্রীর উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে।
আলো নামে নারীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত মেয়র মাহফুজের চরম নির্যাতনে হাসপাতালে ভর্তি হয় স্ত্রী সোনিয়া এবং তাকে অব্যাহত হুমকি দিতে থাকে মেয়র মাহফুজ । উপায় অন্তর না দেখে স্ত্রী সোনিয়া ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে চাঁদপুরে মামলা দেয়ার জন্য বলা হয় এবং তিনি গত ১৭ নভেম্বর সর্বশেষ চাঁদপুর আদালতে মামলা দেন এবং সুবিচার চান ।
এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার ১০টার দিকে ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়র মাহফুজুল হকের সাথে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলেও তিনি জানান,আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা আমার স্ত্রী সোনিয়াকে দিয়ে এ মামলার সহযোগিতা করেছে। সামনে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচন। তাই প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা আমার পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে ।
তিনি বলেন, ২নং আসামী আলো আমার দ্বিতীয় বৈধ স্ত্রী। আমার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই আমার দ্বিতীয় বিয়ে করেছি ।আমি অনেকটা বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমার প্রথম স্ত্রী সোনিয়ার আমি সংসার করছি না । কারণ আমার স্ত্রী সোনিয়ার চালচলন ভালো ছিলো না। অনেক কথা বলতে পারিনি। কারণ আমি সম্মানিত ব্যক্তি। একজন নির্বাচিত মেয়র। সে ঠিকমতো সংসার করতে পারিনি। আমার আগের ঘরে ৪ সন্তান। ছেলে সন্তান আমার কাছে থাকে। মেয়েরা মার কাছে থাকে। আমি মূলত মানসিক নির্যাতনের শিকার। কারো কাছে কিছু বলতে পারছি। সাংসারিকভাবে আমি সুখী না। সরজমিনে আসলে সব বলতে পারতাম। এক পর্যায়ে তিনি কান্নাজনিত কন্ঠে অনেক কথা বলেন ।
(সূত্র : চাঁদপুর খবর)
আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য
আপডেট সময় : ১১:২৯ এএম
২১ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি, শনিবার











