চাঁদপুরে ১০৫ বছরের ঐতিহ্যের ২ টাকার চিকিৎসালয় বন্ধ, মানবিক সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো গরিব রোগী

প্রিয় সময় ডেস্ক : :

মাত্র ২ টাকায় ডাক্তার দেখা, সাথে বিনামূল্যে ওষুধ! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন মানবিক সেবাই ১০৫ বছর ধরে দিয়ে আসছিল চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়। গরিব, অসহায় ও নিম্ন-আয়ের মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে পরিচিত শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানটি এখন তালাবদ্ধ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চাঁদপুর পৌরসভায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। দায়িত্ব নিয়েই তিনি কোনো প্রকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে ঐতিহ্যবাহী এই দাতব্য চিকিৎসালয়টি বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরের সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। চাঁদপুর বিষয়ে সোচ্চার থাকার কারণে বিষয়টি সাংবাদিক ও সম্পাদক শাহরিয়ার পলাশ এর নজরে আসার পর একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা তাঁকে ফোন করে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ জানান।

পরবর্তীতে আমি তৎকালীন প্রশাসকের সাথে মুঠোফোনে তিনি যোগাযোগ করেন। বন্ধের কারণ জানতে চাইলে তিনি যে ব্যাখ্যা দেন তা তাঁকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি জানান, সেখানে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে চিকিৎসা দিতে দেখেছেন, তাই তিনি এটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

সাংবাদিক ও সম্পাদক শাহরিয়ার পলাশ তাকে বিনয়ের সাথে জানান, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিশেষ করে ঈদের ছুটির সময় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টগণ নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। খোদ সরকার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেয়, যেখানে তারা প্রতিদিন রোগী দেখেন। যদি সেটি অন্যায়ও হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু তাই বলে ১০৫ বছরের একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।

সাংবাদিক ও সম্পাদক শাহরিয়ার পলাশ এর কথার প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রশাসক আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে দাতব্য চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালু করা হবে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও আজও সেটি চালু হয়নি। ধুলো জমছে শতবর্ষী সেবা কেন্দ্রের চেয়ার-টেবিলে।

পুরাণবাজারসহ চাঁদপুর শহরের হাজারো দরিদ্র মানুষের প্রাণের দাবি, অবিলম্বে ২ টাকার এই দাতব্য চিকিৎসালয়টি চালু করা হোক।

সাংবাদিক ও সম্পাদক শাহরিয়ার পলাশ জেলা প্রশাসন, চাঁদপুর-এর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসালয়টি চালু করে গরিব মানুষের সেবা নিশ্চিত করা হোক।

একই সাথে চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সাংবাদিক ও সম্পাদক শাহরিয়ার পলাশ বলেন, ‘আপনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি আবারও গরিবের মুখে হাসি ফোটাবে।’

 

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ :
.

You might like

About the Author: priyoshomoy