একজন চা পাগলের গল্প

সোহেল আহমেদ ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জেই তার জন্ম। নাম হলো সালাউদ্দিন আহমেদ জনি। বয়স যখন ৪ তখন থেকেই চায়ের প্রতি ছিলো তার ঝোক। এ জন্য তার মায়ের কাছে খেতে হয়েছে মার। তারপরও তার চা চাই-ই চাই। আস্তে আস্তে যখন সে বড় হলো চায়ের নেশা যেনো তাকে আরো গ্রাস করে ফেলছে।

আলাপকালে জানা গেছে সে প্রতিদিন ৩০/৩৫ কাপ চা খায়। তখন জনি জানালো, তার চাকুরীটা ছিলো মার্কেটিং এর। তাই চাকুরীর সুবাদে তাকে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরা লাগে অনেক। যার কারণে চা সবখানেই পাওয়া যায় বলে, চা’কেই বানিয়ে ফেলেছে তার প্রধান খাবার।

সে জানালো তাকে যদি দাওয়াত করে এনে চা দেওয়া হয় তাতেই সে অনেক খুশি। জনির কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিলো, আপনি কোন চা বেশি পছন্দ করেন? জবাবে সে বললো, চা’খোরের কাছে সব চা-ই প্রিয়। তবে তার মালাই চা বেশি খাওয়া পরে।

বন্ধুমহলে তাকে চা’খোর জনি বলে ডাকা হতো। বৈবাহিক জীবনে সে এক সন্তানের জনক। এখানেও যেনো তার বকা খাওয়া কমে না তার বউয়ের কাছে। জনি জানালো, চা খাওয়া নিয়ে মাঝেমাঝে তুমুল ঝগড়া হয়েছে তার বউয়ের সাথে। কেননা সে বাসায় থাকলে নাকি কয়েকদফা চা বানানো লাগে।

জনি জানালো , তার কাছে চা হলো অমৃত। মাঝে মাঝে সে নিজেই মসলা চা বানিয়ে খায়। করোনাকালীন সময়ে সে তার অফিসে মসলা চা বানিয়ে আশেপাশের লোকজনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলো এমনকি তখন সে চা তার নিজ হাতে বানিয়ে রাখতো। জানতে চাইলাম যে আপনি কি কি চা খেয়েছেন? উত্তরে সে জানালো আদা চা, লেবু চা, তেতুল চা, মালটা চা, কাঁচামরিচ চা, তন্দুরী চা, মালাই চা, মসলা চা, লবন চা, রংধনু চা, কমলা চা এমনকি যখন সে মালয়েশিয়া ছিলো তখন এসব চায়ের পাশাপাশি খেতো তেতারে চা, তেপানাস চা, তেআইছ চা।


পরিশেষে জনি জানালো, চা প্রতিটি মানুষই কম বেশি পান করে তবে আমি অনেকটা বেশিই চা কে ভালোবাসি। চা খেলে যেনো মনে হয় শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সবাই চা খাবেন তবে আমার মতো চা পাগল হবেন না।

You might like