১৯৭১ সালের মতো আবার আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : সালমান এফ রহমান

মাকসুমুল মুকিম :

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে শুধু বাঙালি জাতির পিতা আর বাংলাদেশের স্রষ্টাই হননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক।

আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁরই সহধর্মিণী ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।’ – স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি কেন্দ্রে সাধারণ জনসাধারণের মাঝে খাবার বিতরণ ও শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-১ আসনের(দোহার-নবাবগঞ্জ) সাংসদ সালমান এফ রহমান এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর শুধু সহধর্মিণীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং মা হিসেবে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ মা।

সালমান এফ রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক অর্থাৎ ৭ মার্চের ভাষণের আগমুহূর্তে বঙ্গমাতাই জাতির পিতাকে চুড়ান্ত অনুপ্রেরণা জুগিয়ে ছিলেন। আমি ছিলাম শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠী। সেই সুবাদে স্বাধীনতার পর থেকেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় আসা-যাওয়া ছিল খুব বেশী। তখন থেকেই জেনেছি দেশের স্বাধীনতাসহ সব গৌরব অর্জনের নেপথ্য প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মতো আবার আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে ঐক্যবদ্ধের কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, কে নৌকার মনোনয়ন পাবে তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে এখন থেকেই আমাদের নৌকার জন্য ভোট চাইতে হবে। কারণ, ঢাকা জেলার এই পাঁচটি আসন আমি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চেয়েছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সালমান এফ রহমান সকাল ১০ টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রান্তিক জনগণের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। এরপর উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। বেলা ১১ টায় উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ শেষে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিং মেশিনের উদ্বোধন করেন এবং রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করেন।

দুপুর ১২ টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে উপজেলা প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন।

এরপর শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৬ টি ল্যাপটপ, মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিল ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যেগে প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ শেষে নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মাঝিরকান্দা বাসষ্টান্ড এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যেগে প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ঝিলু, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কিসমত ভূঁইয়া, নারী নেত্রী লাবন্য ভুইয়া প্রমুখ।

এরপর দুপুর দেড়টায় দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের পালামগঞ্জ বাজার প্রাঙ্গণে রাইপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যেগে প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এরপর উপজেলার জয়পাড়া ওয়ান ব্যাংক মোড়ে শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সভা শেষে প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

পরে দোহার উপজেলার উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দোহার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে উপজেলা পরিষদে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৬ টি ল্যাপটব, মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণসহ কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায়, দোয়া পাঠ ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

এরপর উপজেলার দোহার বাজার, বিলাশপুর, সুতারপাড়া হলের বাজার, মেঘুলা বাজার এবং নারিশা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। সর্বশেষ বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের পদ্মা কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং আলোচনা শেষে প্রান্তিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলমাছ উদ্দিন, সহ-সভাপতি লায়ন আব্দুস সালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক মো. নুরুল হক বেপারী, ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের মহা-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ মোল্লা, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-সম্পাদক আনার কলি পুতুল, সাবেক ছাত্রনেতা সুরুজ আলম সুরুজ, দোহার পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ, যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন মাঝি, ঢাকা জেলা দক্ষিন ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগ, রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন, বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান কিসমত,আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আ. বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, দোহার সার্কেল এএসপি আশরাফুল আলম, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান সহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

You might like