

আনিসুল হক সুমন, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা থেকে চার জন শহীদ হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে শহীদের স্মরণে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে । মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, সুসঙ্গ করকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে শহীদ ওমর ফারুক ব্লাড ডোনার সোসাইটির আয়োজনে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় এম এস এস স্পোর্টিং ক্লাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক মালিক সমিতি ক্লাব। নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় নিশ্চিত করেন এম এস এস স্পোর্টিং ক্লাব।
শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন দলকে গোল্ডকাপ ও রার্নাস আপ দলের হাতে রৌপ্য কাপ তুলে দেন। পুারস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শহীদ উমর ফারুক ব্লাড ডোনার সোসাইটির সভাপতি কামরুজ্জামান রাজু এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষাবিদ শহীদুল্লাহ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ জিন্নাহ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক রফিকুল ইসলাম, সুসং সম্মিলিত সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মনজুরুল হক মঞ্জু, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, বিএনপি নেতা ফারুক মড়ল, পৌর যুবদলের আহবায়ক আবু সিদ্দিক রুক্কু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক কমল, পৌর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সজীব, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক সালমান মুক্তাদির, বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
খেলায় আয়োজক কমিটিতে ছিলেন, শহীদ উমর ফারুক ব্লাড ডোনার সোসাইটির উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, সংগঠনের উপদেষ্টা ও দুর্গাপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব সম্রাট গণি, সাবেক পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফুর রহমান, দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আজিজুল হক আজিজ, ছাত্র প্রতিনিধি রাতুল খান রুদ্র, সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুম বিল্লাহ অভি, শহীদ উমর ফারুক ব্লাড ডোনার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আশিক এলাহী, সদস্য আল আমিন শেখ লাবীব, শাহীন আলম, মেহেদী হাসান।
আয়োজকরা জানান, দুর্গাপুরের ৪ শহীদ উমর ফারুক, জাকির হোসেন, সাইফুল ইসলাম সেকুল, মাসুম বিল্লাহ তাদের আত্মত্যাগ কে স্মরণ করে রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে খেলাধুলার চেতনা জাগিয়ে তুলতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। শহীদদের স্মরণে পরবর্তিতে আরো নতুন নতুন কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ২৩ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঝড়ের পরেও কাপটা ভাঙে না
মিজানুর রহমান রানা :
ঢাকার উপকণ্ঠে ছোট্ট একটা খোলা জায়গা। চারদিকে গাছগাছালি, ঘাসে ঢাকা মাটি, আর তারই মধ্যে এক গুঁড়ো কাঁচের দোকান। নাম নেই, তবু পরিচিত। একপাশে কাঠের বেঞ্চে বসে ইমতিয়াজ আর সোহানা। দু’জনের মধ্যে এক ধরণের দূরত্ব—যেন কাছাকাছি থেকেও কিছুটা দূরে।
সোহানা বলল, “এই জায়গাটা আগেও দেখেছি, অনেক বছর আগে, বাবা-মায়ের সঙ্গে। তখন আমি চায়ের স্বাদ বুঝতাম না, কিন্তু সেই গন্ধটা আজও মনে আছে।”
ইমতিয়াজ উত্তর দিল, “স্মৃতিগুলোর গন্ধ থাকে, স্বাদ নয়।”
সোহানার ঠোঁটে হালকা হাসি। কিন্তু চোখে গভীরতা। সে বলে, “তোমার দর্শন অপূর্ব, তুমি দর্শনের ছাত্র ছিলে, আর আমি ছিলাম বিজ্ঞানের। সুতরাং তোমার যুক্তির কাছে আমি হারবো হয়তো কিন্তু…।”
ইমতিয়াজ হেসে উঠলো। তারপর বললো, ‘তোমার বিজ্ঞান চলমান, ঘূর্ণয়মান। আর জ্যামিতিক ও গাণিতিক। কিন্তু জীবন সব নিয়মকে ছাড়িয়ে যায়।’’
সোহানা প্রথম যখন ইমতিয়াজকে দেখেছিলো তখন্ কিন্তু তাকে এতোটা বুদ্ধিমান মনে হয়নি। দীর্ঘ ১২ বছরের সহবস্থানে তার কাছ থেকে জীবনের অনেক দর্শন পেয়েছে, যা তাকে বিমোহিত করে।
এ সময় চা-ওয়ালা একটা ধোঁয়ায় ভর্তি কাপ এগিয়ে দিল। দুইজনে কাপ হাতে তুলে নিলো। যেন কাপের ধোঁয়া তাদের কথার রেশকে বহন করছে।
কথা চলছিলো। স্মৃতির আলপথ বেয়ে তারা হাঁটছিল মনের ভেতর। হঠাৎ—বাতাস থেমে যায়। রাস্তার ওপারে এক সাদা প্রাইভেট কার, অদ্ভুত গতিতে ছুটে আসছে সোজা তাদের দিকেই।
সময় যেন থেমে গেল। ইমতিয়াজ কিছু বোঝার আগেই চিৎকার করে উঠল, “সোহানা!”
ধাক্কাটা এতটাই প্রবল ছিল যে শব্দটা আকাশ ছুঁয়ে ফিরে আসে। সোহানা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। চায়ের কাপ গড়িয়ে গিয়ে বিস্মৃত হয়ে গেলো, ধোঁয়ার বদলে উঠল ধুলোমাখা আতঙ্ক।
গাড়িটা থেমে গেল দূরে, কিন্তু চারপাশে জমে রইল শুধুই স্তব্ধতা। অবাক কাণ্ড গাড়িটার কোনো ড্রাইভার নেই!
হাসপাতালের করিডর যেন এক অজানা নাটকের মঞ্চ। ইমতিয়াজ বসে আছে, চোখে অনিদ্রা, মুখে চিন্তার ভারী রেখা।
ডাক্তার বলল, “মাথায় সামান্য আঘাত। স্ক্যানে গুরুতর কিছু নেই। তবে পর্যবেক্ষণে রাখতেই হবে।”
তার মাথায় শুধু ঘুরছিল সেই মুহূর্তটা—সোহানার বলা শেষ কথা, চায়ের ধোঁয়ার সুর, আর সেই অজানা ভয়ার্ত দৃষ্টি।
তার নিজের ভেতরে শুরু হলো এক ধরণের অপরাধবোধ। “আমি যদি একটু আগে সাড়া দিতাম।”
তিন দিন পর, সোহানার চোখ খুলল।
জানালার বাইরের বর্ষা তখন শুরু হয়ে গেছে। পাতা কাঁপছে, জল গড়িয়ে পড়ছে, আর আলোর ছায়া তার মুখে খেলা করছে।
সে ধীরে বলল, “তুমি আমার পাশে ছিলে?”
ইমতিয়াজ উত্তর দিল, “আমি ছায়ার মতো ছিলাম, সবটুকু আলো তোমার। তোমাকে ছাড়া কি আমি কোথায়ও যেতে পারি?’’
সোহানা হাসল। সেই হাসিতে ছিল ব্যথার আলো, কিন্তু সাহসের ছায়াও।
তারা দু’জনেই জানত, এই মুহূর্তটাই তাদের সম্পর্কের পরীক্ষামূলক মোড়। দুঃখ আর কষ্ট মানুষকে সঠিক পথ দেখায়, যা আগে কখনও মানুষ ভাবেনি।
পুলিশ রিপোর্টে লেখা—“কারের ব্রেক ফেল করেছিল, চালকের দোষ নয়।”
কিন্তু ইমতিয়াজের মনে শান্তি নেই। তার মনে প্রশ্ন, “এই মুহূর্তেই কেন? আর সে সময় সে নিজে কারটিকে পরীক্ষা করেছে, তাতে কোনো চালকই ছিলো না।”
সে নিজে নিজে পুরনো কথাগুলো মনে করতে থাকে। সেই চায়ের দোকানে বলা প্রতিটি শব্দ যেন এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
সোহানা একদিন বলল, “জীবনে কোনো কিছুই কাকতাল নয়, শুধু আমরা বুঝে উঠতে পারি না হয়তো।”
এই কথাটা ইমতিয়াজের জন্য হয়ে উঠল এক দর্শন। সে বুঝল, জীবন কখনো শুধু ঘটনাগুলোর সমষ্টি নয়—সেগুলো আমাদের উপলব্ধির আয়নায় প্রতিফলিত হয়।
এক সপ্তাহ পর, তারা আবার গেল সেই চায়ের দোকানে।
চায়ের কাপটা আগের জায়গায় নেই। তবে সেই গন্ধ, সেই বাতাস, সেই পরিবেশ—সব ছিল।
সোহানা বলল, “আজ যেন সেই কাপটা আবার আমাদের জন্য গড়া হয়েছে।”
ইমতিয়াজ হেসে বলল, “তবে এবার সেই কাপের মধ্যে শুধু চা নয়, আমাদের দু’জনের গল্পও থাকবে।”
গল্পটা থেমে যায় না। তারা বাড়ি ফেরার সময় দেখে—দোকানের পাশে এক বাচ্চা ছেলে সাদা কাগজে আঁকছে একটা চায়ের কাপ, পাশে একটা গাড়ি।
সোহানা হাসে, “এই তো আমাদের গল্পের প্রতীক।”
ইমতিয়াজ সেই ছবিটা কিনে নেয়। কাগজটায় লেখা ছিল: “ঝড়ের পরেও কাপটা ভাঙে না।”
হঠাৎ পেছন ফিরে দেখে, ছেলেটা আর নেই। তাকে খুঁজতে থাকে কিন্তু কোথায়ও সে নেই।
অনেকদিন পর… আবারও সেই চায়ের দোকানে যায় তারা। বসে বসে চা পান করে আর আশেপাশে ছেলেটাকে খুঁজে। এ সময় দোকানি প্রশ্ন করে, “ভাইজান, আপনি কি কাউরে খুঁজতাছেন?’’
‘‘হ্যা। আমি একটা ছোট ছেলেকে খুঁজছি। এখানে ছিলো গত সপ্তাহে।’’
দোকানী হাসে। তার মুখ রহস্যময়। সে বলে, “যার খুঁজতাছেন সেই ছেলেটা এই পুকুরের পানিতে পড়ে মরে গেছে গতকাল। তার নাম ছিলো আবুল। সে মানসিকভাবে সুস্থ ছিলো না।”
‘মানে কি? তাহলে সে ছবি আঁকলো কীভাবে?’’
ইমতিয়াজ সেই ছবিটা দোকানীর কাছে এগিয়ে দেয়। দোকানী হেসে উত্তর দেয়, আরে পাগল তো, কত কিছুই আঁকে!”
দোকানীর উত্তরটা ইমতিয়াজের পছন্দ হলো না। সে ভাবে, আবারও সে আসবে, আর এই ছবির কাহিনী সে উদ্ধার করবেই।’’
এ সময় সোহানা উঠলো, তারপর ইমতিয়াজের হাত ধরে বললো, “চলে, আর বসবো না। এখানে বসলেই তুমি এসব বিষয় নিয়ে ভেবে ভেবে টেনশনে জড়াবে। তার চেয়ে চলে আমরা বাসায় ফিরে যাই। আর কিছুদিনের মধ্যেই বিয়েটা করে ফেলি।”
তারা যখন বিয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন ডাকবাক্সে একটি চিঠি আসে। ভিতরে সেই শিশুর আঁকা ছবির অনুরূপ এক নতুন চিত্র—এইবার কাপের ধোঁয়া আকাশে রূপ নিচ্ছে দুটি ছায়ামূর্তির, যাদের হাতে বিয়ের আংটি।
চিঠিতে কোনো লেখক নেই, শুধু নিচে লেখা: “যে ভালোবাসা ঝড়ের মধ্যেও টিকে থাকে, তাকে কেউ হারাতে পারে না।”
বিয়ের দিন সকালে তারা সেই চায়ের দোকানে যায় শেষবারের মতো। আশেপাশে ঝিরঝিরে বৃষ্টি, ছায়াময় পরিবেশ। সেখানে আবার সেই শিশুটিকে দেখে। এবার সে চুপচাপ শুধু একটি শব্দ বলে: “ভালোবাসা”।
তারপর মিলিয়ে যায় বাতাসে।
দোকানি এবার মুখ গম্ভীর করে বলে, “এই জায়গাটাতে মাঝে মাঝে কিছু গল্প নিজের মতো করে লেখা হয়ে যায়। আপনারা দু’জনই সেই গল্পেরই অংশ।”
ইমতিয়াজ ও সোহানা সেই ছবিটিকে দেয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছে। সেই ছবির গা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে যেন জীবন্ত।
নিচে তারা লিখেছে “যেখানেই জীবন থমকে দাঁড়ায়, সেখানেই গল্প শুরু হয়।”
সন্ধ্যায়, তারা আবার ফিরে যায় দোকানে। চা হাতে নিয়ে বসে, আকাশে রং বদলায়, গন্ধে মিশে থাকে গল্পের শুরুর ছোঁয়া। সোহানা বলল, “তুমি কি জানো, ছবিটা দেখে আমার মনে হয় আমরা চায়ের কাপে শুধু সময় নয়, জীবন ঢেলে দিয়েছি।”
ইমতিয়াজ হাসল, “আর জীবনের সবটুকু দর্শন আমাদের কাপেই ফুটে উঠেছে।”
হঠাৎ সোহানা প্রশ্ন করলো, “তাহলে গাড়িটার চালক কে ছিলো? ওই ছেলেটা?
ইমতিয়াজ সোহানার ওই প্রশ্নে নিশ্চুপ থাকে। তারপর ধীরে ধীরে বলে, !না। ছেলেটা নয়। আমি জানি সে কে? তবে তোমাকে বলবো না।”
ইমতিয়াজের চোখে ভেসে উঠে, চট্টগ্রামের রাঙামাটির একটি দৃশ্য। লোকটা ইমতিয়াজকে গুলি করতে চেয়েছিলো। পাশে সেনাবাহিনীর মেজর ইরফানসহ অন্যরা অস্ত্র তাক করে আছে। সেই মুহূর্তেই লোকটা আস্তে আস্তে মাচার নিচে দেবে যায়। তারপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুরো সেনাবাহিনী তাকে খুঁজে কিন্তু তার আর অস্তিত্ব পায়নি। লোকটার নাম নাথান বম।
বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ২৩ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ২৩ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ












