কুড়িগ্রামের তরুণদের মাঝে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি

সম্পাদকীয়

প্রিয় সময়ে ‘কুড়িগ্রামে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাঙ্কন, রচনা বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত’ শিরোনামে সংবাদটি আমরা পড়েছি এবং এ সংবাদে অভিভূত হয়েছি। এ রকম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রজন্ম সচেতন হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী চিত্রাঙ্কন, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা ছিলো না; বরং দুর্নীতির মতো একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা ছিলো।

এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব ভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়। চিত্রাঙ্কন, রচনা এবং বিতর্কের মতো মাধ্যমগুলো শিশুদের এবং তরুণদের মনকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, তারা কেবল তথ্য মুখস্থ করে না; বরং বিষয়টিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে। দুর্নীতির কারণ, প্রভাব এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী ছবি আঁকে বা লেখালেখি করে, তখন তার মধ্যে একটি দৃঢ় নৈতিক চেতনা গড়ে ওঠে। বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করে; যা’ তাদের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করে।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে দুদক একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে: দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের শিশুরা এবং তরুণরা আগামীদিনের কর্ণধার। তাদের মধ্যে যদি এখন থেকেই সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং স্বচ্ছতার বীজ বপন করা যায়; তবে ভবিষ্যতে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুধু বিজয়ীরাই পুরস্কৃত হয়নি; বরং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীই দুর্নীতিবিরোধী মনোভাবের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করেছে। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এ ধরনের কার্যক্রমের প্রতি তাদের আগ্রহ রয়েছে।

সর্বোপরি, এ অনুষ্ঠানটি সমাজের সকল স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এটি অন্যান্য জেলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যেও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে।

আমরা মনে করি, এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিছক একটি আয়োজন নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করা কতোটা জরুরি। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, এবং তাদের মননে সততা ও নৈতিকতার বীজ বপন করতে পারলেই একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব। এ উদ্যোগটি কেবল কুড়িগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং এটি সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। প্রতিটি স্কুল-কলেজে যদি এমন নিয়মিত কর্মসূচির আয়োজন করা যায়; তবে তা’ আমাদের তরুণদের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এ ধরনের মহৎ উদ্যোগকে সমর্থন করি এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এ সংগ্রামে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার জন্যে উৎসাহিত করি।

বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শেয়ার করুন
priyoshomoy

You might like

About the Author: priyoshomoy