নরসিংদী-৪ আসনে অস্ত্র ও মাদকসহ বিএনপির এমপি প্রার্থী বকুলের কর্মী গ্রেপ্তার

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যেই সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ বিএনপির এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বাজনাব ইউনিয়নের হারিসাংগান এলাকায় টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফয়েজ আহমেদের ছেলে জনি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিএনপির এমপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ঘনিষ্ঠ কর্মী।

অভিযানে জনির কাছ থেকে রামদা, চাপাতি, চুরি, টেটাসহ একাধিক ভয়ংকর দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের পরিমাণ ও ধরন দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভোটের দিন সহিংসতা, ভীতি সৃষ্টি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র ও মাদক মজুদ করা হয়েছিল।

তাদের দাবি, নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার আরও বিভিন্ন স্থানে গোপনে অস্ত্র মজুদ রয়েছে, যা দ্রুত উদ্ধার করা না হলে ভোটের দিন ব্যাপক রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এলাকাবাসী জানান, ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন এবং নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা অবিলম্বে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাপক তল্লাশি ও সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে।

নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে কিশোর নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিতে নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগেও একাধিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন গুলিতে নিহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এলাকায় এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া।

এই বিরোধের জেরে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না গুলি করলে শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না তাকে গুলি করে। আমরা কোনো দলের নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy