

বিশেষ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের নির্বাচন সবসময়ই জনমতের কেন্দ্রবিন্দু। ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রশাসনের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবকিছু মিলেই নির্বাচন হয়ে ওঠে গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ উঠেছে, জামায়াতের নেতৃবৃন্দ সারাদেশে অবৈধ টাকা বিলাচ্ছে, ভোটারদের অগ্রিম সিল মারা হচ্ছে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অনেক নেতা টাকাসহ ধরা পড়ছে। এই ঘটনাগুলো শুধু নির্বাচনের স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং গণতন্ত্রের ভিত্তিকেও নড়বড়ে করে তুলছে।

বিভিন্ন জেলায় দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের স্থানীয় নেতারা ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ বিতরণ করছে। কোথাও কোথাও ভোটারদের হাতে অগ্রিম সিল মারা ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে নগদ অর্থসহ নেতাদের আটক করেছে। স্থানীয় জনগণ বলছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটের পরিবেশকে কলুষিত করছে।
নির্বাচন কমিশন বারবার বলছে, তারা অবৈধ অর্থের ব্যবহার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সেনা, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যেমন ফরিদগঞ্জে নারী কর্মকর্তাদের দিয়ে নারী বুথ পরিচালনা। কমিশনের দাবি, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।
অর্থের প্রলোভন ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে দুর্বল করে। ভোট কেনা-বেচার সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জনগণ যদি মনে করে তাদের ভোটের মূল্য শুধু টাকার বিনিময়ে নির্ধারিত হয়, তবে আস্থা হারাবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এ ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।
সাধারণ ভোটাররা ক্ষুব্ধ। তারা বলছে, ভোটাধিকার বিক্রি নয়, বরং এটি তাদের মৌলিক অধিকার। তরুণ প্রজন্ম সামাজিক মাধ্যমে বলছে, অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়া মানে ভবিষ্যৎকে বিক্রি করা। অনেকেই চাইছে, প্রশাসন আরও কঠোর হোক।
৩ প্লাটুন সেনা, ২ প্লাটুন বিজিবি, ১ প্লাটুন র্যাব, প্রায় ৩০০ পুলিশ সদস্যসহ আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—যে কোনো সহিংসতা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
অর্থের প্রভাব কমাতে প্রয়োজন ভোটার সচেতনতা। রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। গণতন্ত্রের শক্তি হলো জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকার—এটি রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
বাংলাদেশের নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়, বরং একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। অবৈধ অর্থের ব্যবহার গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ ও সচেতনতা জরুরি। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকার—এটি রক্ষাই আমাদের সবার দায়িত্ব।
প্রকাশিত : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.














