চাঁদপুরে স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্ত: ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে সদর হাসপাতাল, ১৫ তলা নতুন ভবনের পথ খুললো

মিজানুর রহমান রানা :

চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে যে কার্যক্রম এতদিন অলীক কল্পনা মনে হতো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইস্যু করা একটি চিঠিতে তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য  শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তদবিরে অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এই মেগা প্রকল্প।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুরাতন সংসদ ভবন থেকে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে (০২ ভাদ্র ১৪৩৩) একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্র ইস্যু করা হয়। পত্র সংখ্যা- ০৩.০০.২৬৯০.০০০.০০৫.১৪.০০০১.২৬-৮১৮।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মোঃ উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই পত্রে বলা হয়েছে- ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুর-কে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে হাসপাতাল সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভূমিতে নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে।

পত্রের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়, জনাব শেখ ফরিদ আহমেদ, এমপি, এর আধা সরকারি পত্র নম্বর: চাঁদ-৩/২০২৬/০০১৬৬; তারিখ: ১০/০৮/২০২৬।

পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সংসদীয় আসন-২৬২, চাঁদপুর-৩ এর নির্বাচনী এলাকায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুর-কে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে হাসপাতাল সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভূমিতে নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন।”

এমতাবস্থায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুর-কে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে হাসপাতাল সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভূমিতে নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন এ কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। পত্রটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

অনুলিপি দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ৬ দপ্তরে।

২০ বছরের অবহেলার অবসান:

চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও এখানে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নেন। বারান্দা, মেঝেতে রোগীদের গাদাগাদি নিত্যচিত্র। গত ২০ বছরে হাসপাতালটিতে কোনো অবকাঠামোগত বড় উন্নয়ন হয়নি। একটি বহুতল ভবন ছিল অতি জরুরি, যা জেলার ৩০ লাখ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি একটি বহুতল ভবনের গুরুত্ব তুলে ধরে জোর দাবি জানানো হয়। বলা হয়েছিল, চাঁদপুর সদর হাসপাতালে জায়গার অভাবে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

সেই দাবির মাত্র একদিন পর, অর্থাৎ ১০ আগস্ট এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রদান করেন। আর মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা আসে। যা নিঃসন্দেহে একটি বিরল ও দ্রুত পদক্ষেপ।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক: যিনি স্বপ্ন দেখান না, বাস্তবায়ন করেন:

চাঁদপুর-৩ আসনের মানুষের মুখে এখন একটাই কথা- শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আপনি সেরাদের সেরা। আপনি শুধু স্বপ্নই দেখান না, স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন করেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন। চাঁদপুরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে তার অবদান অনস্বীকার্য।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত হলে এবং ১৫ তলা নতুন ভবন নির্মিত হলে চাঁদপুরে আর কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা কুমিল্লায় ছুটতে হবে না। এখানেই হবে আইসিইউ, সিসিইউ, উন্নত সার্জারি ও কিডনি ডায়ালাইসিসসহ সব আধুনিক সেবা।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করছি, কারণ জনগণের এই প্রাণের দাবিটি তুলে ধরার সাথে সাথে একজন মানবিক সংসদ সদস্য তা আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। এটি গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে এক অনন্য সমন্বয়ের দৃষ্টান্ত।

এখন চাঁদপুরবাসী তাকিয়ে আছে, কবে এই ১৫ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই চিঠি সেই অপেক্ষার সময়কে অনেকটাই কমিয়ে দিল। (তথ্যসূত্র : জিএম শাহীন, সিনিয়র সাংবাদিক, চাঁদপুর)

 

প্রকাশিত :  ‍সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy