

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর শহরের রায়পাড়া আবারো রমরমা মাদকপল্লীতে রূপ নিয়েছে। হাত বাড়ালেই মিলছে নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের ত্বরিত ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

রায়পাড়া এক সময় সারা দেশের মাদক স্বর্গ রাজ্য হিসাবে পরিচিত ছিল। মাঝে কিছু দিন বন্ধ ছিল মাদক কারবার। এখন আবার সেখানে মাদক কারবার বেপরোয়া। অভিযোগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। হবে কি করে সর্ষের মধ্যে যে ভূতের বসবাস। একদিকে পুলিশের নামে মাদক ব্যাবসায়ীরা সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোহারা দিচ্ছে আরেকদিকে রমরমা বাঁধা হীন মাদক কারবার। ভীষন দুশ্চিন্তায় রায়পাড়ার শান্তিকামী সাধারণ মানুষ।
একটি অভিযোগ পত্র অনুসারে স্থানীয় কয়েক জন মাদক কারবারি এলাকার পরিবেশ ধ্বংস করছে। এদের নেতৃত্ব দেয় জনৈক রিয়াজ। মানুষ তাকে পুলিশ সোর্স রিয়াজ নামে চেনে। স্থানীয়রা জানান এই রিয়াজ দুদ্ধর্ষ আওয়ামীলীগ ক্যাডার হিসাবেও চিহ্নিত। সে জলিল মুন্সীর ছেলে। অভিযোগ রয়েছে এই রিয়াজ ইয়াবা ডিলার।
রিয়াজ ছাড়াও সাত্তারের ছেলে জাফর, হালিমের ছেলে কবির, খালেকের ছেলে মুন্সী, মুরগী রহিম এবং বাবুর ছেলে রনি পাইকরি ইয়াবা মাদক ব্যাবসায়ী। এরা ডিলার। এদের সাথে খুচরা ইয়াবা কারবারি হচ্ছে ইবার ছেলে ইমরান, সফিকুলের স্ত্রী সালমা, হাজুর ছেলে হোসেন, রমজান, মনার ছেলে উসমান, উসমানের ভাই ইকবাল।
রায়পাড়ার সামাজিক সূত্র জানায় পুলিশের দুটি বিশেষ শাখা ও মাদক আবগারি নামে মাসোহারা সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তির টাকা দেয় উল্লেখিত মাদক কারবারিরা। ফলে এরা বাঁধাহীন ইয়াবা অবৈধ মাদক ব্যবসা করছে। রায়পাড়া, আলতাফের মোড় হতে রেললাইন ওভারব্রিজ পর্যন্ত অন্তত ১০/১২টি স্পটে এরা মাদক বিক্রি করে। মাঝে মধ্যে পুলিশ রাব এলে এরা স্পট পরিবর্তন করে। তবে তাতে মাদক কারবার বন্ধ হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মাদক কারবারিরা রায়পাড়ায় রাজনৈতিক সেল্টার পায়। এটি গত ২০ বছরের চিত্র। যা সমাজের জন্য অতীব ভয়ঙ্কর একটি দিক। কেননা ক্ষমতাসিন রাজনৈতিক দু একজন নেতা অনেক সময় নিজের পকেটের লোক বাড়ন্ত দেখাতে মাদক কারবারিদের দিয়ে মিটিং মিছিল করায়। আর্থিক সুবিধা গ্রহণের কথাও মাঝে মধ্যে শোনা যায়।
যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ভূমিকায়। মাদক কারবারিদের সাথে কোন চুক্তির প্রশ্নই নেই। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন আরো কঠোর মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন।
প্রকাশিত : রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

















