পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযান: গোয়ালঘর-ধানের গোলায় মিলল ২ হাজার ১৫০ কেজি অবৈধ সার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার পৃথক তিনটি স্থানে রাতভর অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে কিছু ব্যক্তির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ইসলামপুর এলাকায় মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া ও রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি দলও অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ের মাচা ও ধানের গোলা থেকে ৪২টি বস্তায় রাখা ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া ও ৬৫০ কেজি ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় সার ডিলারদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে বিপুল পরিমাণ সার সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুত করেছিলেন।

ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণব্যবস্থায় পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, “সারের কোন সংকট নেই। আমরা নিয়মিত সারের মজুত পরীক্ষা করছি, রেজিস্ট্রার মেইনটেইন সহ যথাযথ নিয়মে কৃষকদেরকে সার দিচ্ছি। যারা অবৈধভাবে সার মজুত করে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে।”

প্রকাশিত :  ‍ রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

You might like