“দ্য বাম্বো ব্যারিকেট, আইতে-যাইতে নিষেধ !”

মনির সাকী, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক এখন তুঙ্গে। সারাদেশ লকডাউন, প্রায় অঘোষিত কারফিউ। মানব জীবন সিমাহীন দুর্ভোগের সম্মুখিন হয়ে পড়েছে।

অনেক পরীবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে এক মুঠো ভাতের জোগাড় করতে তো আবার কেউ পরিবারের কারো চিকিৎসার স্বার্থেও যেতে পারছেনা চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। জানেন কেন ? কারন রাস্তা বন্ধ! দেয়া হয়েছে বাঁশের প্রতিবন্ধকতা।

এতে সুবিধা হয়ছে ঠিকই যারা এই দুর্দশার মধ্যেও মাদক-চোরা কারবারি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের, কারন প্রশাসনের লোক আসতে আসতে তারা এই বাম্বো ব্যারিকেটের আর্শিবাদে পালিয়ে যেতে পারবে।

http://picasion.com/

আর অসুবিধায় পড়েছে যারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে পারে তারা। এই ধরুন কোন স্থানে আগুন লাগলো তখন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ব্যারিকেট খুলে আসতে আসতে কর্মসারা, আপনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হাসপাতালে নিতে গিয়ে আধা-মরা অথবা একজন ডাক্তার আপনার কাছে আসতে গিয়ে সেই অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পারে বিকজ্ দ্য বাম্বো ব্যারিকেট।

এই তো সেদিন ভাইয়ের ঘরে চাল নেই। ওদের বাসা প্রায় ৮-১০ মাইল দুরে, তো ফোনে বলছে আমাদের ঘরে চালনেই এখন কি রান্না করবো! তো বললাম যে, নো-চিন্তা ! ক’টা টাকা নিয়ে আসছি। এই বলে রওনা দিলাম।

খানিকটা দুরে যেতেই দেখলাম রাস্তা বন্ধ ! পাশে একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই রাস্তা বন্ধ কেন ? সে বলল ভাই “দ্য বাম্বো ব্যারিকেট, যাইতে-আইতে নিষেধ” ঘরে বইয়া থাহেন। আমি বললাম ” ঘরে বইয়া থাহুম ঠিক আছে কিন্তু ঘরে চাউল না থাকলে কি খাইয়া থাহুম” । যাহোক, সেদিন এক প্রকারে পায় হেটেই ভাইকে কিছু টাকা দিয়ে আসলাম।

কিন্তু এভাবে তো সবাই নাও চলতে পারে! কেউ অসুস্থ হলেতো এমন ভাবে হাসপাতালে তাড়াতাড়ি নেয়া যাবেনা। তারচেয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে আমাদের উচিত নিজেদের সচেতন হওয়া, বিনা প্রোজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া। আমরা সকলে সচেতন হলে রাস্তায় বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতার প্রয়োজন হবেনা। আমাদের প্রয়োজন সচেতন হওয়া বাঁশের বেড়া নয়।

You might like