পবিত্র আশুরার ফযিলত ও করণীয়

মোঃ রফিকুল ইসলাম :

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার। আর এজন্যই আমরা তার প্রশংসা করি। তার নিকট সহায্য, ক্ষমা, প্রার্থনা এবং সর্বদা তারই উপর ভরসা রাখি।

আমরা মহান প্রভুর নিকট আশ্রয় কামনা করছি। আমাদের নফসের অন্যায় আচরণ এবং খারাপ আমলের অনিষ্ট হতে। বস্তুতঃ মহান আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না।

আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন পৃথবীতে এমন কেউ নেই যে তাকে হেদায়েত করবে।সুতরাং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোনও উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তার কোনও শরিক নেই। আমরা আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-আল্লাহর বান্দা এবং প্রিয় রাসূল। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে সু-সংবাদদাতা, ভীতি প্রদর্শক, আল্লাহ তায়ালার প্রতি আহবানকারী ও আলোদানকারী প্রদীপরূপে সত্য ইসলামসহ প্রেরণ করেছেন।

হে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলিম ভাইয়েরা, আপনারা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করুন এবং জীবনে কোনও কাজে শয়তানের অনুকরণ করবেন না। নিশ্চয় শয়তান আমাদের প্রকাশ্যে শত্রু। এটা আল্লাহ পাকের সম্মানিত মুহাররাম মাস। এ মাসের “১০”-তারিখ হলো মহান আশুরা।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ)-মক্বা হতে মদীনায় হিযরত সূত্রে আগমন করলেন তখন তিনি সেখানকার ইহুদীদেরকে আশুরার দিন রোযা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা আশুরার দিনে রোযা রাখছো কেন?

তারা প্রশ্নোত্তর করলো : আশুরা হলো বিরাট সম্মানিত দিন। এ দিনে আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা (আঃ) এবং তার উম্মতদের নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন তার সৈন্যদেরকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করে দেন। তাই হযরত মূসা (আঃ) ঐ দিনে রোযা পালন করেন বিধায় আমারাও রোযা রাখি।

এ কথা শুনে রাসূল (সাঃ)-বলেন, পয়গম্বর মূসা (আঃ)-এর নাজাতে কৃতজ্ঞতা আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি উপযুক্ত ও অধিক দাবিদার।

এরপর থেকে রাসূল (সাঃ)-ওই  দিনে রোযা রাখেন এবং তার উম্মতদের কে রোযা রাখার আদেশ করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-হতে বর্ণীত : তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ)-ইরশাদ করেন : তোমরা ৯ এবং ১০-ই মুহাররাম রোযা রেখে ইইহুদীদের বিরোধিতা করো। (তিরমীযী শরীফ)

হে মুসলিমগণ! আপনারা এ বরকতময় আশুরার দিনে সাধ্যানুযায়ী সমর্থিত নেক কাজ সম্পন্ন করবেন। তবে সাবধান! এদিন উপলক্ষে এমন সব কাজ হতে অবশ্যই দূরত্ব বজায় রাখবেন যা শরীয়ত সমর্থন করে না।

যেমনঃ প্রচলিত অশুভ তাজীয়া-মর্ছিয়া তথা নবীর পরিবার-পরিজনদের কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা। বিপদসমূহের কথা স্মরণ করে উচ্চস্বরে কান্না-বিলাপ এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সভা-মজলিশ প্রতিষ্ঠা করে গান-বাদ্য, নর্তন-কূর্দন এবং অন্যান্য ফাসেকী কার্যকলাপ যা খারেজী ও শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা করে থাকে।

আর আপনারা নবীর পরিবার-পরিজনদের ভর্ৎসনা ও অশ্রাব্য এবং অপমানমূলক কথাবার্তা বলা থেকে দূরে থাকুন। যা রাফেজী সম্প্রদয়ের কাজ। কেননা, এসব কিছু হাদীস দ্বারা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিশেষে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে কুরআনের বরকত দান করুন। বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট হতে আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করছি।

লেখক পরিচিতি : মো. রফিকুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীঃ-ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো পড়ুন : শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

আরো পড়ুন : পাইলস রোগে করণীয়

আরো পড়ুন : জেনে নিন দীর্ঘক্ষণ মিলনের ঔষধ

আরো পড়ুন : একজিমা হলে কী করবেন?

You might like