

জন্মের আগেই আঁধার নেমেছে, ছায়াটুকু গেছে সরে,
পিতৃস্নেহের অভাব বুকেতে ২৭ বছর ধরে।
মায়ের পেটেতে ছিলাম যখন, বাবা দিলে তুমি পাড়ি,
কোন অপরাধে আমার সাথে যে বাঁধলে অচেনা আড়ি?
আজও তো মেলেনি হিসাবের খাতা, কেন এই নির্বাসন?
একটি বারের জন্যও তুমি খোঁজ নিলে না তো কেন?
নামের পাশেতে তোমার নামটি বহন করেছি শুধু,
ভেতরের মরু সাহারাটা আজও হাহাকার করে ধূ ধূ।

বাবা বলে ডাকার আকুলতা মনে থেকে গেল চাপা কত,
বুকে জমে থাকা না-বলা কথাগুলো যে অবিকল ক্ষত।
মায়ের লড়াই দেখেছি চোখেতে, সহ্য করেছে ঝড়,
যে পুরুষ ছেড়ে চলে গেল ছায়া, সে তো তবে ভারী পর।
২৭টি বছর পেরিয়ে গেছে তো সময়ের স্রোতে ভেসে,
হয়তোবা তুমি সুখেই আছ গো অন্য অচেনা দেশে।
আজও ভেবে মরি-একটি বারও কি মনেতে পড়েনি আমার?
রক্তের টান এতই কি সস্তা, এতই কি মিছে তার?
তোমার শহর আলোয় ভাসুক, আমার কাটুক রাত,
আমার কপালে পড়েনি কখনো বাবার স্নেহের হাত।
বন্ধুরা সব বাবার গল্পে যখন মাতায় দিন,
আমি শুধু চুপে দীর্ঘশ্বাস ফেলি, একাকী ও উদাসীন।
বাবা থেকেও তো বাবা নেই মোর, এ এক অদ্ভুত ধাঁধা,
অভিযোগ আর অভিমানের পাহাড়ে মনটা রয়েছে বাঁধা।
মা-ই তো আমার বাবা ও মা দুটোই, তিনিই আমার আকাশ,
তোমার অভাবটা পুষিয়ে দিয়েছেন তিনি, ভুলিয়ে সকল ত্রাস।
তবুও মাঝ রাতে মন কেঁদে ওঠে অজান্তে অনাহাতে,
কেন যে বঞ্চিত হলাম গো আমি এমন একটি রাতে?
২৭ বছর ধরে রেখেছি মনের গহীনে একরাশ ক্ষোভ,
তোমার জন্য জাগেনি কখনো আমার কোনো তো ক্ষোভ।
ছেড়ে চলে যাওয়া সহজের খেলা, রয়ে যাওয়া বড় কঠিন,
মা একা হাতে লড়েছেন ভাই, মুছে দিয়েছেন ঋণ।
বাবা তুমি আজ অচেনা পথিক, ছায়ার মতো এক ছদ্ম,
২৭ বছর পর তাই লিখে গেলাম বিষাদের এই পদ্য।
প্রকাশিত : শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

















