
যুবক অনার্য :
‘ধানশালিকের রূপ দেখাবো তোমায়,
নিয়ে যাবো দূরে’ – বোলে
সেই যে গিয়েছিলে চলে
নদী, বিষাদমাখা মেঘ
তোমার কথা ভেবে
আজও কান্না হ’য়ে ঝরে
ভূবন মাঝি আমাদের
গঞ্জের দিনে দেখা হলে
তোমার কথা ভেবে –
‘কি গো ছোট সাহেব,
মনডা বুঝি ভালা না’
আজও বড় অসময়ে
জিজ্ঞেস করে বসে।
আমি জানি, জানি শুধু আমি –
মন – সে তো ভূত হয়ে গেছে
ম’রে সেই কবে।
এদেশে ছিলো নাকি
গোলা ভরা ধান
পুকুর ভরা মাছ
জোছনায় ভরে যেতো চাঁদ
বধুরা পোয়াতি হতো বারোমাস
রূপালি ইলিশ
আর সোনালি আঁশ
তারপর দিন চলে গেছে
বদলে গেছে মাস
ছিলো মুকিম গাজি
জ্বালিয়ে লন্ঠন ‘বস্তিওয়ালা জাগো’
বোলে যেতো সারারাত।

ছিলো- “এ পবিত্র মাটি ছেড়ে
কখনো কোথাও
পরাজিত সৈনিকের মতো
সুধাংশু যাবে না।”
আছে- ” ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না
বলা যাবে না কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার
আজব স্বাধীনতা । “
আছে- আমি তো সেই নাগরিক
হারিয়ে গেছে যার
ব্যালটের গন্ধ শুঁকবারও অধিকার!
তারপর
তবু ধানশালিকের রূপ
আমি দেখি নাই,
দেখি নাই জলঝিরি নদীটিরে আর।
তারপর
তবু
একদিন
এসে বোলে যেয়ো-
“অবিনাশ
আমি সেই জলঝিরি
শুকানো জোয়ার
অজৈব জংশন
তোমারই
আর কেবলি তোমার!”










