নন্দিনী ধর, আপনাকে আপনার মতো ক’রে

যুবক অনার্য :

নন্দিনী,
আমি সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়াই নি কোনোদিন
যে-জ্ঞান সমুদ্রের কিনারে, মধ্যবর্তী পাড়ায়
আপনি আছেন দাঁড়িয়ে সেখানে পৌঁছে যাবার যোগ্যতা এ অধমের ছিলো না কোনোকালে –
এমন এই সাদামাটা স্বীকারোক্তি- দয়া করে
সুনীল গাঙ্গুলীর আত্মস্বীকারোক্তিমুলক
কবিতা পদবাচ্য ধরে নেবেন না – রইলো অনুরোধ।

হাংরি লেখা নিয়ে আপনার
বিবিক্তাবাদী প্রবন্ধ পাঠ ক’রে
বহুদিন পর আজ লিখতে চাইলাম,
যে-লেখা এপার পার হয়ে পৌঁছে যাবে না ওপারে আপনার দরোজায়,
যেরকম আমি পারি নি আপনার ছায়ার কাছেও
কিছুটা হেঁটে যেতে!

এসবই তো স্বাভাবিক কিংবা স্বাভাবিক বোলেই
মেনে নিতে হয়।
সমুদ্র থেকে দূর বহুদূরে যে-আমাকে দেখছেন
এই যে-আমি ক্ষীণকায় খুব, কী করে বলি
ইচ্ছে হয় বলতে যা কিছু
মৌনতায় বলা যায় আর কতোদূর!

বলি তাই- যদিও নেই যোগ্যতা বোলবার
তবু ইচ্ছে হলে তেজস্ক্রিয়তার
ইচ্ছে হলে মিথস্ক্রিয়তার
না হয় কিছু বলি-
ভাববেন না আমি হাংরিদের পেশাদার দালাল
কিংবা ফড়ে।
কথা ফিরিয়ে নিলাম-

ভাববার স্বাধীনতা হরণ করবার – নিশচয়ই কারুরই নেই অধিকার
এবং বোলবার স্বাধীনতা রয়েছে আমার মতন
বকলম লোকটিরও।

বোলছি- আপনাকে হয়তো আপনার মতো ক’রে নয় কিংবা কারো মতো ক’রে
এই কথা যে-কথা আপনি যেভাবে বলেছেন- ” আমার।আমাদের আমাদের আমাদের।”
আমিও সেইভাবে – এ কথা আমার। আমাদের,
আমরা যারা শৈলেশ্বরের উদ্ধৃতি স্মরণ করে বলি- ‘বস্তুসমুহের ষড়যন্ত্রময় অবস্থানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহই হাংরি জেনারেশন আন্দোলন’।

যে-বিদ্রোহকে আপনি প্রমাণ করেতে চেয়েছেন পুরুষতন্ত্র বোলে, নারীর উপর পুরুষের
চিরন্তন কর্তৃত্ব বোলে।
জ্ঞানসমুদ্রের উপত্যকাবর্তী হে শ্রদ্ধেয়া,
“বস্তুসমুহের” মধ্যে নারীবাদ পুরুষবাদ ইত্যাদি বাদের কোনো গন্ধ ভেসে আসছে কি আপনার নাসারন্ধ্রে!
কিংবা আমাদের;
যে-নাসারন্দ্র আমার,
আমাদের আমাদের কেবলি আমাদের!

You might like