কুমিল্লার হোমনায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট, ছোট ভাই নিহত

কুমিল্লা (হোমনা) উপজেলা সংবাদদাতা:

কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ০৬নং নিলখী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের বাড়ীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের হাতে আপন ছোট ভাই নাবিল হাসান (২৫) নিহত হয়। এছাড়াও বাড়ীতে লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ চালিয়ে পালিয়ে যায় দুভিত্তের দল।

ঘটনাটি গত রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখে জানা যায় মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪৪), পিতা- মোঃ আসন আলী (৭৫), মাতা- হনুফা বেগম (৭০), তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ তার নিজ ইউনিয়ন ০৬নং নিলখী ইউনিয়ন যুবলীগের রাজনিতীর সাথে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি ০৬নং নিলখী ইউনিয়ন যুবলীগের “সভাপতির” দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাইফুল ইসলাম এর বাড়ীতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার বাড়ীর একজন লোক জানায় বিগত ২০ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখ সন্ধ্যা- ৬.০০ ঘটিকার সময় একদল সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম এর বাড়ীর দরজা ভেঙ্গে তার বাড়ীতে প্রবেশ করেন।

(উল্লেখ্য: উক্ত সন্ত্রাসীরা ২০১৩ সাল থেকে সাইফুল ইসলামকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে)। এ সময় তার বাড়ীতে তার বয়স্ক বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও তার ছোট ভাই ছিলো। সাইফুল ইসলাম এর বাড়ীর অন্য এক বড় ভাই হাসানাত পাটওয়ারীর ভাষ্যমতে সন্ত্রাসীরা সাইফুল ইসলাম এর বাড়ীতে প্রবেশ করে প্রথমে সাইফুল ইসলাম কোথায় আছে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে তার বাবা-মা যখন বলে আমাদের ছেলে বাড়ীতে নাই, আপনারা কেন আসছেন? তখন সন্ত্রাসীরা তার মায়ের এবং স্ত্রীর চুলের মুষ্টি ধরে টেনে-হিছড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। তাদেরকে রক্ষা করার জন্য সাইফুল ইসলাম এর বাবা এগিয়ে আসলে তাকেও এলোপাতাড়ী মারতে থাকে এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বাবা-মা এবং ভাইয়ের স্ত্রী’কে আত্মরক্ষার জন্য তার ছোট ভাই নাবিল হাসান (২৫) এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা দা-চুরি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতারী কুপাতে থাকে এবং তার মাথায় চুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত ও জখম করে এবং ঐ সময় নাবিল হাসান (২৫) এর শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং নাবিল হাসান (২৫) মাটিতে লুটে পড়ে। তখন সন্ত্রাসীরা বলে সাইফুল ইসলাম কোথায় আছে না বললে সবাইকে মেরে ফেলবে এবং মেরে লাশ ঘুম করে ফেলবে।

ততক্ষনে গ্রামবাসীর ডাক চিৎকার শুনে সন্ত্রাসীরা সাইফুল ইসলাম এর বাড়ী ত্যাগ করার পূর্বে তারা সাইফুল ইসলাম এর বাড়ীতে পেট্রোল ডেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে । পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম এর বাড়ীতে থাকা তার ব্যবসায়ের টাকা নগদ প্রায় ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা এবং সেই সাথে তার মা ও স্ত্রী’র নিকট থেকে জোর করে তাদের নাক-কান গলায় থাকা ০৯ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এলাকাবাসী আগুন জ্বলতে দেখে এবং সাইফুল ইসলাম এর পরিবারের সদস্যদের ডাক-চিৎকার শুনে আহতদের’কে উদ্ধার করে তাৎক্ষনিকভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।

পরবর্তীতে বিগত ২১/০৭/২০২৪ ইং তারিখে সাইফুল ইসলাম এর চোট ভাই নাবিল হাসান (২৫) ঢাকায় ধানমন্ডির একটি হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার পর সাইফুল ইসলাম নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিগত ২৩/০৭/২০২৪ ইং তারিখে হোমনা থানায় একাটি সাধারণ ডায়েরী করেন, যাহার জিডি/ডায়েরী নং- ৩৫৭ এবং জিডি ট্রাকিং নং-3FI3L9, এছাড়াও স্থানীয় জনগনের সহযোগীতায় ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম নিজে বাদী হয়ে কয়েকজনক আসামীর নাম চিহ্নিত করে বিগত ২৭/০৭/২০২৪ ইং তারিখে হোমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যাহার জি.আর মামলা নং- ৩২৫/২০২৪।

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম এর এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান সাইফুল ইসলাম রাজতৈনিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছেন এবং এই অবস্থায় তার দেশে থাকা কোন ভাবেই নিরাপদ নয়। প্রশাষনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানায় সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাষন এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি।তিনি আরো বলেন উক্ত ঘটনার পর আমরা গ্রামবাসী সহ সবাই নিরাপত্তাহনীতায় ভূগতেছি, এমন বর্বরোচিত ঘটনা সত্যিই ন্যাক্কারজন। এলাকাবাসী উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামীর বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪  খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy