

অলসতা মানে কর্মবিমূখতা; নিষ্ক্রিয় অথবা কর্মবিমূখ কিংবা উদ্যমহীন ব্যক্তিকে অলস বলা হয়। আলসেমী নিজের ও সমাজের অবক্ষয় ডেকে আনে। অলসতা একটি জাতির উন্নতির পথে হুমকিস্বরূপ। অলসতা মানুষের শিরাগুলো এমনভাবে খেয়ে নেয়, যেভাবে লোহাকে মরিচা খেয়ে নেয়। অলসতা এমন এক ধ্বংসাত্মক ব্যাধি, যা’ মানুষকে ধীরে ধীরে অশুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। মানুষের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনকে মূল্যহীন করে দেয়। প্রাণবন্ত জীবনের সজীবতা ও কর্মময় জীবনের গতিময়তাকে উদাসীনতায় পর্যবসিত করে দেয়।
হিতোপদেশ ১৩ অধ্যায় ৪ পদে রয়েছে, “ অলসের প্রাণ লালসা করে, কিছুই পায় না; কিন্তু পরিশ্রমীদের প্রাণ পুষ্ট হয়।” আবার স্থিরতা অর্থেও অলস শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়। “কাকফাটা গরমের এ অলস মধ্য দুপুরে একগøাস ঠাÐা বেলের শরবত যেন অমৃতের মতো লাগে”-এখানে সে অর্থ প্রকাশ করা হয়নি। অলসতার কারণে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে পড়ে। তবে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস চর্চার মাধ্যমে অলসতা কাটিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করা সম্ভব। এ অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চললে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

যে ব্যক্তি অলসতাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে এবং অত্যধিক আরাম-আয়েশের দিকে ঝুঁকে পড়ে, সে নিজের শান্তি হারিয়ে ফেলে। পরিশ্রম করে ক্লান্ত হওয়া আশীর্বাদের বিষয়। যাতে সামনে তোমাকে ক্লান্তি ছুঁতে না পারে। মোট কথা-মানুষ যখন অত্যধিক পরিমাণে আরাম-আয়েশে মত্ত হয়ে নিজের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যায়, তখন সে মানসিক অশান্তিতে ভোগে এবং অন্যদের চোখেও ছোট হয়ে যায়। অলসতার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যে ব্যক্তি অলসতার কোনো একটি পর্যায়ে পৌঁছে যাবে সেটি তাকে এর নিচের স্তরে পৌঁছে দেবে। এভাবে সে প্রাণশক্তি থাকা সত্তে¡ও মৃত বলে গণ্য হবে। অলসতা মানুষকে এমন অবস্থায় পৌঁছে দেয় যে সে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও জোগাড় করতে পারে না। ফলে মানুষের কাছে হাত পেতে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে।
খ্রীষ্টিয়ানদের সুসমাচার প্রচার এবং শিষ্য তৈরি করার জন্যে ঈশ্বরের শক্তিতে পরিশ্রম করা উচিত ও প্রেরিত পৌল হলেন আমাদের উদাহরণ: “আমরা তাকে [খ্রীষ্ট] ঘোষণা করি, প্রত্যেককে সমস্ত প্রজ্ঞাসহকারে উপদেশ ও শিক্ষা দিই, যাতে আমরা খ্রীষ্টের মধ্যে প্রত্যেককে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পারি ও এই লক্ষ্যে আমি তাঁর সমস্ত শক্তির সাথে লড়াই করে সংগ্রাম করছি, যা আমার মধ্যে এত শক্তিশালীভাবে কাজ করে” (কলসীয় ১:২৮-২৯)। এমনকি স্বর্গে খ্রীষ্টিয়ানদের ঈশ্বরের সেবা অব্যাহত থাকবে, যদিও অভিশাপ দ্বারা আর জড়িত নয় (প্রকাশিত বাক্য ২২:৩) ও অসুস্থতা, দুঃখ, পাপ – এমনকি অলসতা থেকে মুক্ত সাধুগণ চিরকাল প্রভুকে মহিমান্বিত করবেন ও “অতএব আমার প্রিয় ভাইয়েরা, অবিচল থাক ও তোমাদেরকে কোনো কিছুই বিচলিত না করুক ও প্রভুর কাজে সর্বদা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দাও, কারণ তোমরা জান যে প্রভুতে তোমাদের শ্রম বৃথা যায় না” (১ করিন্থীয় ১৫:৫৮) ও নিষ্কর্মা করে রাখা কখনো শাস্তি; অথবা আশীর্বাদ বা প্রাপ্ত হিসেবেও আমাদের জীবনে গণ্য হতে পারে। দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:৫ পদে রয়েছে, “কোন ব্যক্তি নূতন বিবাহ করিলে সৈন্যদলে গমন করিবে না, এবং তাহাকে কোন কর্মের ভার দেওয়া যাইবে না; সে এক বৎসর পর্যন্ত আপন গৃহে নিষ্কর্মা থাকিয়া, যে স্ত্রীকে সে গ্রহণ করিয়াছে, তাহার চিত্তরঞ্জন করিবে।” এখানে আমরা দেখি, কোনো কাজ না করিয়ে একজনকে পুরস্কারস্বরূপ নিষ্কর্মা করে রাখা হয়েছে।
খ্রীষ্টিয়ান হিসেবে আমরা জানি যে, আমাদের শ্রম আমাদের প্রভুর দ্বারা পুরস্কৃত হবে, যদি আমরা পরিশ্রমে অবিচল থাকি; “আসুন আমরা ভালো কাজ করতে করতে ক্লান্ত না হই, কারণ সঠিক সময়ে আমরা যদি হাল না ছেড়ে দিই, তবে ফসল কাটব। সুতরাং আমাদের যেমন সুযোগ রয়েছে, আসুন আমরা সমস্ত লোকের, বিশেষত যারা বিশ্বাসী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত তাদের মঙ্গল করি” (গালাতীয় ৬:৯-১০); “তোমরা যা কিছু কর, মনুষ্যের জন্য নয়, সদাপ্রভুর পক্ষে কাজ করে সমস্ত অন্ত:করণ দ্বারা এই কাজ কর, কারণ তোমরা জান যে তোমরা এক পুরস্কার হিসেবে প্রভুর কাছ থেকে এক উত্তরাধিকার পাবে ও ইনি হলেন প্রভুই যার তোমরা সেবা করছ” (কলসীয় ৩:২৩-২৪); “তিনি অন্যায় নন; যেমন তোমরা তাঁর লোকদের সাহায্য করেছ এবং তাদের সাহায্য অব্যাহত রেখেছ, ঠিক তেমনি তিনি তোমাদের কাজ এবং তোমরা তাঁর প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছ তা’ তিনি ভুলে যাবেন না” (ইব্রীয় ৬:১০)।
আলস্য মানে হলো শ্রমবিমুখতা বা কাজ করার অনীহা। আলস্য কাজ করার উদ্যমকে স্তিমিত করে মানুষকে অকর্মণ্য করে রাখে। এটি ভয়ানক ব্যাধির মতোই সংক্রামক ও ধ্বংসকারী। অলস ব্যক্তি জীবনে প্রতিষ্ঠা পায় না। বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-পরিজন কেউই তাকে ভালোবাসে না। সবাই তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। আসলে পৃথিবীতে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি পরিশ্রম করে এবং পয়সা উপার্জন করে, সবাই তাকে ভালোবাসে। যে পরিশ্রম করে তার স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। পক্ষান্তরে, যে কাজ করে না অর্থাৎ যে অলস তার স্বাস্থ্যও দিনদিন খারাপ হয়ে যায়। যে ব্যক্তি কাজ করে সে কাজ করার পর যে অবসরটুকু পায় তার মধ্যে যে আনন্দ সে অনুভব করে অলস ব্যক্তি কখনো সে আনন্দ অনুভব করতে পারে না। আসলে অলসতা মানুষের দেহ ও মনে জড়তা আনে। ব্যাধিগ্রস্ত মানুষ যেমন অপরের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না, তেমনই অলস ব্যক্তিকেও পরগাছার মতো অপরের দয়ার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়। দেশ ও জাতির কোনো মঙ্গলসাধন তো তারা করতেই পারে না; বরং দেশ ও জাতির বোঝা হয়ে অবহেলিত জীবনযাপন করে। কথায় আছে, “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আস্তানা”-অলস ও অকর্মণ্য ব্যক্তিরাই সমাজে সকল অনাচার ও কুকর্মের উদ্ভাবক। ব্যাধিগ্রস্ত মানুষ যেমন সমাজে রোগবিস্তারে সহায়তা করে, তেমনই অলস ও অকর্মণ্য ব্যক্তিমাত্রই নানা কুচিন্তা ও কুকর্ম দ্বারা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও অশান্তি ডেকে আনে। তবে কাজের ফাঁকে বিশ্রাম অবশ্যই জরুরী। বিশ্রাম আর আলস্য এক কথা নয়; বিশ্রাম কাজেরই একটা অংশ। কর্মোদ্যম ঠিক রাখার জন্যে বিশ্রাম অবশ্যই জরুরী। তবে বিশ্রামের যদি নির্দিষ্ট সময় না থাকে; তা’ যদি হয় কাজ চলাকালীন, তবে তা’ অবশ্যই আলস্যের নামান্তর। আর এ আলস্য অন্যসব কঠিন রোগের মতোই ভয়ানক ও মারাত্মক। হিতোপ ২১:২৫ পদে রয়েছে, “শ্রমবিমুখ অলস ব্যক্তি নিজের ধ্বংস ডেকে আনে।”
আমাদের নতুন প্রকৃতিতে, আমাদের মুক্তিদাতা উদ্ধারকর্তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থেকে আমরা পরিশ্রম ও উৎপাদনশীলতার দিকে পরিচালিত হই ও অলসতার প্রতি আমাদের পুরনো প্রবণতা এবং অন্যান্য সমস্ত পাপ – ঈশ্বরীয় জীবনযাপনের আকাঙ্খার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে: “যে চুরি করছে সে অবশ্যই আর চুরি করবে না, তবে অবশ্যই কাজ করতে হবে, নিজের হাতে উপকারী কিছু করতে হবে, যাতে অভাবগ্রস্তদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য তার কিছু থাকতে পারে” (ইফিষীয় ৪:২৮) ও আমরা আমাদের শ্রমের মাধ্যমে আমাদের পরিবারগুলির জন্য সরবরাহ করার প্রয়োজনীয়তার জন্য প্রতিশ্রæতিবদ্ধ: “যদি কেউ তার আত্মীয়স্বজন এবং বিশেষত তার নিকটবর্তী পরিবারের জন্য ব্যবস্থা না করে তবে সে বিশ্বাসকে অস্বীকার করেছে এবং অবিশ্বাসীর চেয়েও খারাপ” (১ তীমথিয় ৫:৮); এবং ঈশ্বরের পরিবারে অন্যদের জন্য: “তোমরা নিজেরাই জানো যে আমার এই হাতগুলি আমার নিজের চাহিদা এবং আমাদের সঙ্গীদের প্রয়োজনীয়তা সরবরাহ করেছে ও আমি যা কিছু করেছি তার মধ্যে আমি তোমাদের দেখিয়েছি যে এই ধরণের কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা দুর্বলদের অবশ্যই সাহায্য করতে হবে, প্রভু যীশু নিজে বলেছিলেন: ‘গ্রহণ করার চেয়ে দান করাই বেশি ধন্য’” (প্রেরিত ২০:৩৪-৩৫) ও ইব্রীয় ৬:৮ পদে রয়েছে, “কিন্তু যদি কাঁটাবন ও শ্যাকুল উৎপন্ন করে, তবে তাহা অকর্মণ্য, ও শাপের সমীপবর্তী; জ্বলনই তাহার পরিণাম।”
হিতোপদেশ ৬:৯ পদে রয়েছে, “হে অলস, তুমি কত কাল শুইয়া থাকিবে? কখন্ নিদ্রা হইতে উঠিবে?” অলস মুহুর্তগুলো চন্ঞল হয়ে উঠেছে আলস্যে দিন কাটাবে বলে। জীবনের যে প্রান্ত রঙীণ সেই প্রান্তে ঘন জমাট বেধে আছে আলস্য। রঙহীন কর্মব্যস্ত জীবন কতটুকু সুখ উপলব্ধি করতে পারে। সুখের কথা কেন বলছি …. আলস্য আর সুখ একই সুতায় গাথা। কর্মব্যাস্ত জীবনে সুখ কি … আর অসুখ ই বা কি ? শুধূ শরিরের ক্লান্তিই উপভোগ করা যায়, সেখানে আত্মিক পরম সুখ থাকলে ও তা উপভোগ করার যথেষ্ট সময় থাকে না। তাই জীবনের নিখাদ সুখ উপলব্ধি করতে হলে অবশ্যই আলস্যে সময় কাটাতে হবে। হ্যা, স্থান -কাল- পাত্র ভেদে এমতের ভীন্নতা থাকতেই পারে। এখন আমার কাছে এমনটাই মনে হচ্ছে ..” আলস্য সকল সুখের মূল ” । এগুলো লিখতে লিখতে হঠাৎ মনে হলো, মানুষের জীবনে অলস মুহুর্ত বলে কোন মুহুর্তই নেই।আসলে অলসতা কি বা আলস্যের সঙ্গা কি ? সহজ বাংলায … চোখের সামনে কাজের স্তুপ পরে আছে অথচ সেগুলো করছি না। সেই কাজগুলো ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে যে মুহুর্তগুলো অতিবাহীত করি সেসব মুহুর্তকে অলস মুহূর্ত বা আলস্য বলে। কিন্তু সেসব অলস মুহূর্তে আমাদের মস্তিষ্ক তো চুপচাপ বসে থাকে না। কোন না কোন কাজে সে ব্যাস্ত থাকে। এক মিলি সেকেন্ড এর জন্য ও মস্তিষ্ক কাজ ছাড়া থাকে না, এমন কি ঘুমের সময় ও আমাদের মস্তিষ্ক থাকে সচল। যেদিন থেকে মায়ের গর্ভে মস্তিষ্কের আকার ধারন করেছে সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত বিরাম হীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক। প্রথমে গর্ভাবস্থায় মায়ের সাথে সখ্যতা, এরপর পৃথিবীর আলো বাতাসে ধিরে ধিরে বাবা, ভাই-বোন, পরিবেশ, প্রতিবেশী, বন্ধু- বান্ধব যথাক্রমে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান সকল অস্তিত্ব সম্পন্ন্ন বস্তু এবং সকলের আচরেনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলে। এভাবে পথ চলতে চলতে কখনো সহনশীল কখনো প্রতিবাদি ও হয়ে ওঠে। যতদিন এ দেহে প্রান বায়ু থাকবে ততদিন মস্তিষ্কের ব্যস্ততা ও থাকবে। তারমানে দাড়াচ্ছে মানষ কখনো অলস সময় অতিবাহীত করতে পারে না। আলস্য সকল সুখের মুল হলে … সে সুখের দেখা মানুষ কখনো পায়নি আর কোনদিন পাবে ও না।
পিঁপড়া খুব পরিশ্রমী। রূপকথায় শুনে থাকবেন পিঁপড়ারা নিয়মানুবর্তী, পরিশ্রমী আর সামাজিক। চলচ্চিত্রে দেখে থাকবেন পিঁপড়ারা নেতাকে মেনে চলে, দশে মিলে করে কাজ, পরস্পরকে সহায়তা করে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত¡বিদ ডেবরাহ গর্ডন বোস্টন রিভিউতে পরামর্শ দিয়েছেন পিঁপড়া নিয়ে নতুন করে ভাবতে। আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও ২৫০টি পিঁপড়ার ওপর নজর রেখেছিলেন তিন দিন ধরে। তাঁরাও বলেছেন, কিছু পিঁপড়া কিন্তু সারা দিনে একটু নড়েও না। আর কিছু পিঁপড়া শুধু শুধু ঘোরাঘুরি করে। ডেবরাহ কিন্তু উপসংহারে পৌঁছে গিয়ে বলেছেন, একটি পিঁপড়া কলোনির ২৫ শতাংশ পিঁপড়া কোনো কাজ করে না। ৭২ শতাংশ হালকা-পাতলা কাজ করে। একটি কলোনির শুধু ৩ শতাংশ পিঁপড়া কখনো বিরতি নেয় না। ওই ৩ শতাংশ কাজ ছাড়া থাকতেই পারে না। অলসতা, কারোর জন্য জীবনশৈলী, সকলের জন্য একটি প্রলোভন ও কিন্তু বাইবেল স্পষ্ট যে যেহেতু প্রভু মানুষকে কর্মের জন্য নিযুক্ত করেছিলেন সেইহেতু অলসতা পাপ ও “হে অলস! তুমি পিপীলিকার কাছে যাও! তার ক্রিয়া সকল দেখে জ্ঞানবান হও” (হিতোপদেশ ৬:৬)। পিঁপড়া পৃথিবীর আদিতম প্রাণিগুলোর একটি। ক্ষুদ্রতর প্রাণির মধ্যেও পিঁপড়া অন্যতম। কিন্তু এ ক্ষুদ্র প্রাণির কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে অনেক কিছু। কর্ম বৈশিষ্টের জন্য ক্ষুদ্র প্রাণিটিকে অনেক সময় উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পিঁপড়া বহুবিধ গুণে গুণান্বিত। অলসতার বিষয়ে বাইবেলে অনেক কথা বলা আছে ও হিতোপদেশ বিশেষত অলসতা এবং অলস ব্যক্তির প্রতি সতর্কতা সম্পর্কিত জ্ঞান দ্বারা পরিপূর্ণ ও “আলস্যের অভিলাষ তার মৃত্যু হবে কারণ তার হাত কাজ করতে অস্বীকার করে” (২১:২৫); তিনি নিদ্রা পচ্ছন্দ করেন: “কব্জাতে যেমন এর কবাট ঘোরে, তেমনি অলস তার বিছানায় ঘোরে” (২৬:১৪); সে অজুহাত দেয়: “অলস বলে, “পথে সিংহ আছে, এক ভয়ংকর সিংহ রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে” (২৬:১৩); সে তার সময় ও শক্তি নষ্ট করে: “যে ব্যক্তি আপন কার্যে অলস, সে বিনাষকের সহোদর” (১৮:৯ বি. এস. আই); সে বিশ্বাস করে সে জ্ঞানী, কিন্তু নির্বোধ: “সুবিচারসিদ্ধ উত্তরকারী সাতজন অপেক্ষা অলস নিজের দৃষ্টিতে অধিক জ্ঞানবান” (২৬:১৬)। হিতোপদেশ আমাদের অলসতার অন্তিম পরিণাম সম্বন্ধেও বলে: অলস ব্যক্তি একজন দাস হয় (বা ঋণী): “পরিশ্রমীদের হস্ত শাসন করে, কিন্তু অলস পরাধীন দাস হয়” (১২:২৪); তার ভবিষ্যত অন্ধকারময়: “একজন অলস মৌসুমে লাঙ্গল দেয় না; সুতরাং ফসল কাটার সময় সে দেখে, কিন্তু কিছুই পায় না” (২০:৪) ও সে দারির্দ্যে আসতে পারে: “অলস মানুষের প্রাণ লালসা করে এবং কিছুই পায় না; কিন্তু পরিশ্রমীদের প্রাণ পুষ্ট হবে। একজন খ্রীষ্টিয়ানের জীবনে অলসতার কোনো স্থান নেই ও একজন নতুন বিশ্বাসীকে সত্যই শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে “… বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে, তোমরা রক্ষা পেয়েছ – আর এটি তোমাদের নিজেদের থেকে নয়, এটি ঈশ্বরের বরদান – কর্মের দ্বারা নয়, যাতে কেউ গর্ব করতে না পারে (ইফিষীয় ২:৮-৯) ও তবে একজন বিশ্বাসী অলস হতে পারে, সে যদি ভ্রান্তভাবে বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর কোনও রূপান্তরিত জীবন থেকে কোনও ফল প্রত্যাশা করে না ও “কারণ আমরা ঈশ্বরের কারিগর, যীশু খ্রীষ্টতে ভাল কাজ করার জন্য সৃষ্ট হয়েছি, যা ঈশ্বর আমাদের জন্য আগেই প্রস্তুত করেছেন” (ইফিষীয় ২:১০) ও খ্রীষ্টিয়ানরা কর্মের দ্বারা রক্ষা পায় না, তবে তারা তাদের কর্মের দ্বারা তাদের বিশ্বাস প্রদর্শন করে (যাকোব ২:১৮, ২৬) ও অলসতা ঈশ্বরের উদ্দেশ্য লঙ্ঘন করে – উত্তম কার্য ও প্রভু খ্রীষ্টিয়ানদের আলস্যতার প্রতি মাংসের প্রবণতাকে কাটিয়ে উঠতে নতুন প্রকৃতি দিয়ে নতুন শক্তি দিয়েছেন (২ করিন্থীয় ৫:১৭)।
আর অলস ব্যক্তি কখন যে কীভাবে কী করবে সেটা সে নিজেও বুঝতে পারে না। কেননা অলসের কোনো গন্তব্য নেই; তার জীবনে কোনো লক্ষ্য নেই। হিতোপদেশ ১০:২৬ পদে রয়েছে, “যেমন দন্তের পক্ষে অ¤øরস ও চক্ষুর পক্ষে ধূম, তেমনি আপন প্রেরণকর্তাদের পক্ষে অলস।” যাত্রাপুস্তক ৫:১৭ পদে রয়েছে, “ফরৌণ কহিলেন, তোমরা অলস, তাই বলিতেছ, আমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞ করিতে যাই।” মানবজীবনে কিছু নিকৃষ্ট ও গর্হিত কাজকর্ম রয়েছে, যেগুলো ঈশ্বরের কাছে অপছন্দনীয় এবং মানবতার জন্যে ক্ষতিকারক। এর মধ্যে অলসতা বা আলস্য একটি। এ মন্দ গুণটি মানুষকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এটির কুফল ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। পবিত্রশাস্ত্র বাইবেল বিভিন্নভাবে আলস্যের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উপযুক্ত সময়ে কাজ করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। যদি কেউ কাজ রেখে তা’ সম্পন্ন না করে, তাকে পবিত্র বাইবেল মতে অলস বলে অভিহিত করা যায়। আর আমরা জানি, সময় এমন একটি অদৃশ্য বিষয়, যা’ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। সময়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে ঈশ্বর আলস্য ত্যাগ করে পরিশ্রম করার কথা বলেছেন। “আর আত্মা ইচ্ছুক বটে; কিন্তু মাংস দুর্বল”-পবিত্র বাইবেল থেকে আমরা বার বার বিষয়টি পড়েছি। অতএব, অনেক সময় আমরা উপাসনায় আসি বটে; আলস্যভাবে। আর তারা ঈশ্বরকে অল্পই স্মরণ করে। যারা অলসতা করে তাদের কর্মসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে গৃহীত হয় না। অলস ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক তাচ্ছিল্যের শিকার হয় এবং তাকে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে সে কর্মস্থলে হেয় ও অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত হয়। গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে ব্যক্তি আর্থসামাজিকভাবে লাভবান হয়। কখনো কোনো কাজকে অবহেলা না করে সময়মতো সম্পন্ন করতেন। উপার্জন করা ও পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করার নিমিত্তে পরিশ্রম করা ঈশ্বরের আশীর্বাদ অর্জন করা। এমনকি একজন পরিশ্রমী কর্মী যখন সন্ধ্যায় বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে, তখন তাঁর প্রতি স্বয়ং ঈশ্বর এমন সন্তুষ্ট হন। সুতরাং অলসতা একটি ঘৃণিত ও নিন্দনীয় স্বভাব, যার কুফল নিন্দনীয়। তাই অলসতার ন্যায় নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে নিজে বাঁচি এবং অপরকে বাঁচার পরামর্শ প্রদান করি। তবেই ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের উন্নতি আরো এগিয়ে যাবে; দেশ ও জাতি হবে অভাবমুক্ত। সখরিয় ১১:১৭ পদে রয়েছে, “ধিক্ সেই অকর্মণ্য পালককে, যে পাল ত্যাগ করে! তাহার বাহুতে ও দক্ষিণ চক্ষুতে খড়্গ পড়িবে; তাহার বাহু নিতান্তই শুষ্ক হইয়া যাইবে, ও তাহার দক্ষিণ চক্ষু নিতান্তই অন্ধীভ‚ত হইবে।”
পরাধীন মানে যাকে অপরের ইচ্ছামত চলতে হয় এমন। আর অলস ব্যক্তি চিরজীবনই পরাধীন থাকে। অন্যদের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল লোকেরাই অলস এবং/অথবা নির্ভরশীল। এখন তুমি সবসময় নির্ভরশীল বলে মনে হবে কারণ তুমিই সেই *আছো* এবং পৃথিবীর সমস্ত জ্বালানি বাজে কথা আসলে নিজেকে ছাড়া কাউকে বোকা বানাতে পারবে না। তোমার তাদের অর্থের প্রয়োজন কারণ তুমি নিজের তৈরি করতে পারো না। একে নির্ভরশীল বলা হয়। কিন্তু তুমি তাদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাদের সেবা করে অলস না হওয়া বেছে নিতে পারো। তাদের জন্য কাজ করো, তাদের ঘর পরিষ্কার করো, তাদের গাড়ি মেরামত করো, তাদের রাতের খাবার রান্না করো – তুমি জানো, নিজেকে দরকারী করে তোলো কারণ কেউ তোমার কোম্পানির আশীর্বাদের জন্য তোমাকে আশেপাশে চায় না, বুঝতে পারছো? তাই অলস না হয়ে অন্তত তুমি সেই ধরণের অহংকারী ব্যক্তির মতো দেখাবে না (অথবা আসলে) যারা মনে করে যে কেবল বিদ্যমান থাকা আপনাকে অন্যের প্রভাবের ক্ষেত্র আক্রমণ করার অধিকার দেয়। হিতোপদেশ ১২:২৪ পদে রয়েছে, “পরিশ্রমীদের হস্ত কর্তৃত্ব পায়; কিন্তু অলস পরাধীন দাস হয়।”
আর অলস ব্যক্তিরা বেশি কাজের দায়িত্বগ্রহণ করতে চায় না; ফাঁকি দেয়। যেমন মÐলীতে কাজের জন্যে লোক পাওয়া যায় না। মÐলীর কোনো কাজ করতে চায় না; অথচ তারা ঝামেলা করেই চলে। যাত্রাপুস্তক ৫:৮ পদে রয়েছে, “কিন্তু পূর্বে তাহাদের যত ইষ্টক নির্মাণের ভার ছিল, এখনও সেই ভার দেও; তাহার কিছুই কম করিও না; কেননা তাহারা অলস, এই জন্য ক্রন্দন করিয়া বলিতেছে, আমরা আপনাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে যজ্ঞ করিতে যাই।”
পৃথিবীতে কেউ সাফল্যের চামচ নিয়ে জন্মলাভ করে না। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করতে হয়। প্রবাদ আছে, ‘পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি’। পরিশ্রমের দ্বারা ভাগ্যের চাবিকাঠি এমনভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব, যা অলস মানুষের কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়। যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতার প্রথম শর্ত হল প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম। পেশাজীবনে সাফল্য পেতে হলে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। হিতোপদেশ ১২:২৭ পদে রয়েছে, “অলস মৃগয়াতে ধৃত পশু পাক করে না; কিন্তু মনুষ্যের বহুমূল্য রতœ পরিশ্রমীর পক্ষে।” আর যারা বিপথে যায়, তারা কখনো পরিশ্রমী হয় না; তারা হয় অকর্মণ্য। রোমীয় ৩:১২ পদে রয়েছে, “সকলেই বিপথে গিয়াছে, তাহারা এক সঙ্গে অকর্মণ্য হইয়াছে; সৎকর্ম করে এমন কেহই নাই, একজনও নাই।” অলস মস্তিষ্ক শয়তানের ভাই। মস্তিষ্কের যত বাজে চিন্তার উদ্ভব হয় অলস ভাবে বসে থাকলে। কিন্ত যখন কাজের ভিতর থাকি, তখন ওরকম কোন উল্টা-পাল্টা চিন্তা আসেনা। বয়স ভেদে এই উল্টা-পাল্টা চিন্তার বিভিন্ন ধরণ আছে। যেমনঃ কলেজের ছেলে বা মেয়ে যখন অলস ভাবে বসে থাকে তখন তাদের চিন্তা গুলো প্রেম-প্রীত বা এর আশ-পাশের টপিক নিয়ে ঘুরতে থাকে। কিন্ত যে সংসারে একটা শ্বশুর অলস ভাবে বসে থাকে, সে সংসারে শ্বশুরের সাথে বৌমার ঝগড়া হতে দেখা যায়। কিন্ত শ্বশুর ব্যস্ত থাকলে এটা দেখা যায় না। মস্তিষ্ক সজাগ ও তীক্ষè করার যে উপায় গুলো আমার জানা আছে তা হলঃ গণিত প্রাক্টিস করা। কোন বন্ধুর সাথে ভালো কোন টপিকের উপর যুক্তি ভিত্তিক আলোচনা বা তর্ক করা। একটা ঘন্টাও যেন অলস না কাটে সেদিকে খেয়াল রাখা। আমি যখন আতœীয়ের বাসায় যাই তখন বই নিয়ে যাই, যাতে করে অলস ভাবে বসে থাকতে না হয়। মানে অলটাইম প্রডাকশানে থাকা আর কি 😉 যাতে করে নিজের অবস্থার আরো একটু ডেভেলপ করা যায় এবং নষ্ট না হয়। হিতোপদেশ ১৮:৯ পদে রয়েছে, “যে ব্যক্তি আপন কার্যে অলস, সে বিনাশকের সহোদর।” ইয়োব ১৩:৪ পদে রয়েছে, “কিন্তু তোমরা ত নিতান্ত মিথ্যাবাক্যরচক, তোমরা সকলে অকর্মণ্য চিকিৎসক।”
যারা অলস, তারা ঘুমায় বেশি; আর তারা জীবনে উন্নতি করতে পারে না-তারা কষ্ট পায়। তারা জীবনে অনেক কিছুই মনে মনে আশা করতে পারে; কিন্তু তারা কিছুই অর্জন করতে পারে না। তারা ক্ষুধায় কষ্ট পেয়ে থাকে। হিতোপদেশ ১৯:১৫ পদে রয়েছে, “আলস্য অগাধ নিদ্রায় মগ্ন করে, এবং অলস প্রাণ ক্ষুধায় কষ্ট পায়।” আমরা যদি ঈশ্বরে নির্ভরশীল হয়ে পরিশ্রম করি, তাহলে অবশ্যই আমাদের জীবনে ফল লাভ হবে। ২ পিতর ১:৮ পদে রয়েছে, “কেননা এই সমস্ত যদি তোমাদের মধ্যে থাকে ও উপচিয়া পড়ে, তবে আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের তত্ত¡জ্ঞান সম্বন্ধে তোমাদিগকে অলস কি ফলহীন থাকিতে দিবে না।” হিতোপ ১৯:২৪ পদে রয়েছে, “অলস থালে হস্ত ডুবায়, পুনর্বার মুখে দিতেও চাহে না।” তীত ১:১২ পদে রয়েছে, “তাহাদের একজন, তাহাদের এক স্বদেশীয় ভাববাদী বলিয়াছেন, ‘ক্রীতীয়েরা নিয়ত মিথ্যাবাদী, হিংস্র জন্তু, অলস পেটুক’।”
অলসের স্বপ্ন-কবিতায় আমি জানাতে চাই যে,
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি,
হব কোটিপতি,
দু পাশে থাকবে দেহরক্ষী
নামে শিল্পপতি ৷
দিনে ঘুমায় ছয় ঘন্টা,
রাতে ঘুমায় নয়,
বাকি সময় আড্ডা দিলেও,
ছিনিয়ে আনবো বিজয় ৷
দাদার দাদা জমিদার ছিল,
আমার দাদা ফকির,
কোটিপতি হবই হব,
এটাই আমার ফিকির ৷
শশুর দিবে বিশ লক্ষ,
বাপ দিবে জমি,
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে,
বাহ! কোটিপতি আমি ৷
সুতরাং, একটা মাত্র পথ খোলা আছে,স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ শুরু করুন। অলসতা কাটিয়ে ওঠাই এখন আপনার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। একজন সফল ব্যক্তি আর অসফল ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য হচ্ছে এখানেই। সফল ব্যক্তিরা তাদের স্বপ্নপূরণের জন্য কাজ করে,আর অসফল ব্যক্তিরা আলসেমি করে কাজ করে না। প্রত্যেক ব্যক্তিরি বড় বড় স্বপ্ন থাকে,আসল পার্থক্যটা এখানেই। আর অলসের অবস্থা খুবই দুর্বিষহ হয়ে থাকে। হিতোপদেশ ২০:৪ পদে রয়েছে, “শীত প্রযুক্ত অলস হাল বহে না, শস্যের সময়ে সে চাহিবে, কিন্তু কিছুই মিলিবে না।” অলসদের চরিত্র বিচিত্র রকমের। তারা ঘুরে বেড়ায় দুষ্টতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে। ১ তীমথিয় ৫:১৩ পদে রয়েছে, “ইহা ছাড়া তাহারা বাড়ী বাড়ী ঘুরিয়া বেড়াইয়া অলস হইতে শিখে; কেবল অলসও নয়, বরং বাচাল ও অনধিকার-চর্চাকারিণী হইতে ও অনুচিত কথা কহিতে শিখে।”
আর অলসরা কাজের ভয় পায় বেশি। এজন্যে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে থাকে। হিতোপ ২২:১৩ পদে রয়েছে, “অলস বলে, বাহিরে সিংহ আছে, চৌরাস্তায় গেলে আমি মারা পড়িব।” পবিত্র শাস্ত্রের মাধ্যমে আমরা দুষ্ট অলস দাস সম্পর্কে জানতে পারি। পরিশেষে তার কী পরিণতি হয়েছিলো। মনিব সেই দুষ্ট অলস দাসকে কীভাবে তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন-তা’ আমরা জানি। মথি ২৫:২৬ পদে রয়েছে, “কিন্তু তাহার প্রভু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, দুষ্ট অলস দাস, তুমি নাকি জানিতে, আমি যেখানে বুনি নাই, সেখানে কাটি, এবং যেখানে ছড়াই নাই, সেখানে কুড়াই?” আর সেই দুষ্ট দাসেরও অজুহাতের শেষ ছিলো না। হিতোপদেশ ২৬:১৩ পদে রয়েছে, “অলস বলে, পথে সিংহ আছে, চৌরাস্তায় কেশরী থাকে।” ১৪ পদে রয়েছে, “কব্জাতে যেমন কবাট ঘুরে, তেমনি অলস আপন খাটিয়াতে ঘুরে।” ১৫ পদে রয়েছে, “অলস থালে হস্ত ডুবায়, পুনর্বার মুখে তুলিতে তাহার ক্লেশ বোধ হয়।” আর অলসরা নিজেদের খুবই জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান বলে মনে করে; অথচ তারাই কতোটা মূর্খ তা’ ভাবা যায় না। হিতোপদেশ ১৬ পদে রয়েছে, “সুবিচারসিদ্ধ উত্তরদাতা সাত জন অপেক্ষা অলস নিজের দৃষ্টিতে অধিক জ্ঞানবান।”
অলসতা মানে নিস্ক্রিয় থাকা, কাজ থেকে দূরে পালিয়ে বেড়ানো। এভাবে কাজ ফেলে রেখে দিলে পরবর্তীতে অল্প সময়ে অনেক কাজ একসাথে করতে হয়। এতে কোনো কাজেরই গুণগতমান ভালো হয় না। আবার অনেক কাজই শেষ পর্যন্ত করা হয়ে উঠে না। এ অলসতা থেকে মুক্তির জন্যে অনেকেই অনেক চেস্টা করে থাকেন, কিন্তু প্রায় সময়ই সে চেষ্টা পুরোপুরি সফল হয় না। এজন্যে আমাদের জীবনের সুনির্দিষ্ট একটি (১) লক্ষ্য নির্ধারণ করা দরকার। আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীর সবকিছুরই একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। কোনো কিছুই লক্ষ্যহীনভাবে চলতে পারে না। আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হয়ে যদি আমাদের লক্ষ্য ঠিক করা না থাকি; তবে কীভাবে এগিয়ে যাবো। মানুষ যদি লক্ষ্যহীনভাবে চলে, তবে একদিন বা দু’দিন বা বড়জোর কিছুদিন পরেই তার কাজের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকবে না।
সে হয়ে যাবে সমাজ-সংসারের চোখে অলস একজন মানুষ। সেটা যে কি পরিমাণ অপমানের, তা’ শুধু সেই অলসতায় আচ্ছন্ন মানুষই অনুভব করতে পারবে। এ অলসতা থেকে বাঁচতে অলসতা দূর করার প্রথম উপায় হলো, নিজের জীবনের সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য ঠিক করে নেয়া। আমাদের মনে রাখা উচিত যে, ‘শেখার কোন শেষ নেই, বয়স নেই’! আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ (২) কাজগুলোকে ভাগ করে নেয়া উচিত। একসাথে অনেক কাজ করতে হবে ভেবে আমাদের কোনো কাজেই মন বসে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, যে ব্যক্তি অলসতায় আচ্ছন্ন; সে কিন্তু প্রথমেই বেশি কাজের প্রতি মনোনিবেশ করতে পারবে না। তাই জীবনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিজের কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। বড় কোনো কিছু অর্জন করতে গেলে ছোট পদক্ষেপ বা ছোট লক্ষ্য অর্জন করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
এ সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেকে ভালোবাসা, নিজের কাজকে ভালোবাসা, নিজের অলসতা দূর করার জন্যে নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করা। তাছাড়া সমস্ত কাজে (৩) অনুপ্রেরণা গ্রহণ করা উচিত। অলসতা কাটানোর এটি একটি শক্তিশালী উপায় হলো। সফল ব্যক্তিদের জীবন থেকে আমরা অনুপ্রেরণা নিতে পারি। মানুষ জীবনে অলসতা করে কি কখনো সফলতার মুখ দেখেছে? পৃথিবীর সকল মানুষ তার জীবনে কঠোর পরিশ্রম করেই এরপর সফল ব্যক্তিদের কাতারে নাম লিখিয়েছেন। তাই অলসতা দূর করার জন্য সফল ব্যক্তিদের জীবন কাহিনী পড়তে হবে, জানতে হবে। তাদের অনুসরণ করতে হবে। শুধু সফল ব্যক্তিই নয় বরং এ অনুপ্রেরণা আপনার আশেপাশের মানুষ বা আপনারই প্রিয়জনের কাছ থেকেও আসতে পারে। অলসতা করে শুধু কাজের ব্যাঘাত ঘটে তা না, শরীর ও মনেও অনেক বিরূপ প্রভাব পড়ে। যার ফলে, মানুষ বিষণœবোধ করে। তাছাড়া অলস মানুষ সমাজ-সংসারের কাছে অনেক বিদ্রæপের শিকার হয়। এসব থেকে বাঁচতে হলে নিজের ভেতরকার অলসতা কাটিয়ে উঠুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আলসেমি করে সময় কাটনোর পরে আফসোস করার চেয়ে সময় থাকতে এ ভুল থেকে শিক্ষা নিন। হয়ে উঠুন পরিশ্রমী এক সফল ব্যক্তি-এ প্রত্যাশায়।
বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫
২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন









