আমাদের পরিশ্রম

ক্ষুদীরাম দাস :

যারা পরিশ্রম করে, তারা প্রত্যাশা করতে পারে। কেননা ঈশ্বর তাদের প্রত্যাশা পূরণ করে থাকেন। ১ তীমথিয় ৪:১০ পদে রয়েছে, “কারণ ইহারই নিমিত্ত আমরা পরিশ্রম ও প্রাণপণ করিতেছি; কেননা যিনি সমস্ত মনুষ্যের, বিশেষতঃ বিশ্বাসীবর্গের ত্রাণকর্তা, আমরা সেই জীবন্ত ঈশ্বরের প্রত্যশা করিয়া আসিতেছি।” পৃথিবীতে কোনো মানুষ সৌভাগ্য নিয়ে জন্ম নেয় না; বরং মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে সৌভাগ্য গড়ে তোলে। পরিশ্রমই হলো সৌভাগ্যের মূল চাবিকাঠি।

উদ্যম, চেষ্টা, এবং শ্রমের সমষ্টি হলো প্রকৃত সৌভাগ্য। যেমন মা সন্তানকে জন্ম দেন, তেমনি কঠোর পরিশ্রম হলো সৌভাগ্যের উৎস। মানুষ তার কাজের ফল ভোগ করে; ভালো কাজের ফল ভালো এবং মন্দ কাজের ফল মন্দ। কোনো কাজই সহজ নয়, তবে পরিশ্রমের মাধ্যমে কঠিন কাজকেও সহজ করা যায়। জীবনে উন্নতি করতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। কোনো কোনো লোকের প্রত্যাশঅ এতোই তীব্র হয়ে থাকে যে, চিরজীবন পরিশ্রম করেও তারা তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না; কেননা তাদের প্রত্যাশা সীমাহীন। উপদেশক ৮:১৭ পদে রয়েছে, “দিবারাত্র ত মনুষ্যের চক্ষু নিদ্রা দেখে না- তখন ঈশ্বরের সমস্ত কার্যের বিষয়ে ইহা দেখিলাম, সূর্যের নিচে যে কার্য সাধন করা যায়, মনুষ্য তাহার তত্ত¡ পাইতে পারে না; কারণ যদিও মনুষ্য তাহার অনুসন্ধানের জন্য পরিশ্রম করে, তথাপি তাহার তত্ত¡ পাইতে পারে না; এমন কি, জ্ঞানবান লোকেও যদি বলে, জানিতে পাইব, তবু তাহার তত্ত¡ খুঁজিয়া পায় না।”

সাফল্যের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য বা অপেক্ষা। এ অপেক্ষা হাত-পা গুটিয়ে অসহায়ের মতো বসে থাকা নয়, এ অপেক্ষা ক্রমাগত প্রচেষ্টার। নীরবে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণের। অবিচল বিশ্বাসে নিরলস পরিশ্রম করার নামই ধৈর্য। ধৈর্য প্রতিটি ব্যর্থতাকে সাফল্যের বীজে পরিণত করে। প্রতিক‚লতাকে অনুক‚লে, সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করে। ধৈর্য হচ্ছে যে কোনো পরিস্থিতিকে হজম করার ক্ষমতা। ধৈর্য এমন এক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকৗশল যা সব প্রতিক‚লতাকে ক্রমান্বয়ে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। প্রতিটি ভালো বা মন্দ, অনুক‚ল বা প্রতিক‚ল পরিস্থিতি সহজ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করাই ইতিবাচকতা বা প্রো-একটিভিটি। ব্যর্থতা আছে বলেই সাফল্যের স্বাদ এত মিষ্টি। দুঃখের ভার আছে বলেই আনন্দ এতো হালকা লাগে। তাই সব সময় লক্ষ্যে অবিচল থাকুন। আপাত ব্যর্থতা যে কোনো মূহূর্তে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। জীবন বারবার শুরু করার আরেক নাম। কখনও, কোনো অবস্থাতেই হালছাড়া যাবে না, থামা যাবে না, তাহলে অন্যরা এগিয়ে যাবে। বিজয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। একটি শিশু জন্মের পর প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে শুধু হাত পা নাড়ে। এক সময় সে কাত হয়, পরে উপুড় হয়। তারপর শুরু হয় হামাগুড়ি দিয়ে হাতে-পায়ে হাঁটা। এরপর সে উঠে দাঁড়ায়, হাঁটি হাঁটি পা পা করে। হাঁটতে গিয়ে সে বারবার পড়ে। আবার উঠে দাঁড়ায়, আবার হাঁটতে শুরু করে। এক সময় কারো সাহায্য ছাড়াই সে হাঁটে দৌড়ায়। ঠিক একইভাবে ক্রমাগত লেগে থাকতে হবে। স্রষ্টা মানুষকে কষ্ট ও পরিশ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছেন। পরিবর্তনের জন্য আপনার যা আছে তা থেকেই শুরু করতে হবে। তাহলেই পারিপর্শ্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্রষ্টার রহমত পরিশ্রমকারীর ওপর বর্ষিত হবে। স্বপ্নের জন্য রক্ত যখন ঘাম হয়ে ঝরে, সেই নোনা পানিতে সাফল্যের বীজ অঙ্কুরিত হয়। নিশ্চয়ই কষ্টের পর আনন্দ রয়েছে। কান্নার পর হাসি, অভাবের পর সচ্ছলতা আর ব্যর্থতার মাঝে লুকিয়ে থাকে সাফল্যের সম্ভাবনা। এ বাস্তব অনুভ‚তিগুলো আগে থেকে আঁচ করতে পারলেই মানুষের কখনও ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে না। সাফল্য আপনার পদচুম্বন করবে। প্রকাশিত বাক্য ২:২ পদে রয়েছে, “আমি জানি তোমার কার্য সকল এবং তোমার পরিশ্রম ও ধৈর্য; আর আমি জানি যে, তুমি দুষ্টদিগকে সহ্য করিতে পার না, এবং আপনাদিগকে প্রেরিত বলিলেও যাহারা প্রেরিত নয়, তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছ ও মিথ্যাবাদী নিশ্চয় করিয়াছ;”
এক জীবনে মানুষের সব আশা পূরণ হয় না। কিছু অপূর্ণ আশা মানুষের জীবনে সর্বদাই থেকে যায়। তবুও সময় বয়ে যায়,জীবন চলে যায় সময়ের অন্তিম সীমানায়। মানুষের জীবনের কিছু না পাওয়া, অনেক বেশি কষ্টের কারণ হয়,সে কষ্ট গুলো মনের ভিতরে কাটার মত যন্ত্রণাদায়ক এবং ভীষণ ব্যাথার হয়। চাইলেই ভুলা যায় না,ভুলে থাকতে ভীষণ কষ্ট হয়। তবুও মনের ঘরে কষ্টকে লালন করে,চলে যেতে হয় জীবনের শেষ সময়ের তরে। না পাওয়াটা আজ জীবনের অনেক বড় অধ্যায়,তাই চাইলেও আর পাওয়ার নেই উপায়। কষ্টের বোঝা আজ বড় ভারী,তবুও জীবন থেকে তাকে অপসারণ নাহি করতে পারি। জীবনের এই চরম সময়,কষ্টকে বড় বেশি ভারী মনে হয়,তবুও চলি তাকে সঙ্গে করে,দুঃখ কষ্ট আর না পাওয়ার তরে। আজ বড় শান্ত মন,সমস্ত চাওয়া গুলো ভুলে গেছি শুরু সময়ের কারণ,জীবনে না পাওয়ার কষ্টগুলোকে করে আপন। তাই কষ্টকে সঙ্গী করি।আমি বাইছি আজ জীবনের চরম তরী। ছোট্ট জীবনে আর চাই নে কিছু,নেই কোন স্বপ্নের পিছু,শুধু চলা তার পথ ধরে সামনে। আমি অতীতকে ভুলে,বর্তমানের সঙ্গে চলি স্বপ্ন দেখিনা আর ভবিষ্যতের কোন অন্তহীন চলার। শুধু এই করি পন,থেমে যাক জীবন। ভুলে যাই সমস্ত আশা,যা ছিল জীবনের অনন্ত ভালোবাসা।নিবে যাক প্রাণ প্রদীপ,মুছে যাক জীবনের কষ্টে ভরা না বলা নীরব অতীত!! উপদেশক ৬:৭ পদে রয়েছে, “মানুষের সমস্ত পরিশ্রম তাহার মুখের জন্য, তথাপি আকাক্সক্ষা পূর্ণ হয় না।”
ইফিষীয় ৪:২৮ পদে রয়েছে, “চোর আর চুরি না করুক, বরং স্বহস্তে সদ্ব্যাপারে পরিশ্রম করুক, যেন দীনহীনকে দিবার জন্য তাহার হাতে কিছু থাকে।” এখানে সকল ধরনের চোরকে বলা হয়েছে। কেউ রাতে চুরি করে, কেউ দিনেও চুরি করে। কেউ প্রকাশ্যে করে, কেউ গোপনে করে। কেউ কেউ সাধু সাজার লেবাশেও চুরি করতে দ্বিধা করে না। অর্থাৎ অফিসে বসে ১৩ টাকার জিনিস ১৫ টাকা লিখেও চুির করে। তাদের জন্যেও পবিত্রশাস্ত্রের এ কথা প্রযোজ্য। আর যারা অধিক পরিশ্রম করে, তারা অধিক ফল লাভ করতে পারে। ১ করিন্থীয় ১৫:১০ পদে রয়েছে, “কিন্তু আমি যাহা আছি, ঈশ্বরের অনুগ্রহেই আছি; এবং আমার প্রতি প্রদত্ত তাঁহার অনুগ্রহ নিরর্থক হয় নাই, বরং তাঁহাদের সকলের অপেক্ষা আমি অধিক পরিশ্রম করিয়াছি; আমি করিয়াছি, তাহা নয়, কিন্তু আমার সহবর্তী ঈশ্বরের অনুগ্রহই করিয়াছে;”

আমরা যে পরিশ্রম করি, তা’ পবিত্র এবং তা’ ঈশ্বর দেখেন। ১ থিষলনীকীয় ১:৩ পদে রয়েছে, “আমরা তোমাদের বিশ্বাসের কার্য, প্রেমের পরিশ্রম ও আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট বিষয়ক প্রত্যাশার ধৈর্য আমাদের ঈশ্বর ও পিতার সাক্ষাতে অবিরত স্মরণ করিয়া থাকি;” বিশ্বাসের কার্যক্রম ও প্রেমের পরিশ্রম ঈশ্বর দেখেন ও প্রতিদান দিয়ে থাকেন। আর পরিশ্রমী ব্যক্তির হৃদয় সবসময় আনন্দে অবস্থান করে। উপদেশক ২:১০ পদে রয়েছে, “আর আমার চক্ষু দুটি যাহা ইচ্ছা করিত, তাহা আমি তাহাদের অগোচর রাখিতাম না; আমার হৃদয়কে কোন আনন্দভোগ করিতে বারণ করিতাম না; বাস্তবিক আমার সমস্ত পরিশ্রমে আমার হৃদয় আনন্দ করিত; সমস্ত পরিশ্রমে ইহাই আমার অংশ হইল।” পরিশ্রমীরা চিরজীবন সর্বস্থানেই সমাদরের যোগ্যতা অর্জন করেন। ১ তীমথিয় ৫:১৭ পদে রয়েছে, “যে প্রাচীনেরা উত্তমরূপে শাসন করেন, বিশেষতঃ যাঁহারা বাক্যে ও শিক্ষাদানে পরিশ্রম করেন, তাঁহারা দ্বিগুণ সমাদরের যোগ্য গণিত হউন।” সম্মান অর্জন করতে হয় সততা, নিষ্ঠা পরিশ্রম, একাগ্রতা, শ্রম আর ঘামের মাধ্যমে। পাশাপাশি নিজেকে চেনা জানা এবং সম্মান দেয়ার মাধ্যমে নিজের কাজ ভালোবাসা আর একাগ্রতার মধ্যদিয়ে করতে থাকুন।

কখনো কখনো আমরা আমাদের সময়গুলো অযথাই ব্যয় করি। আমাদের পরিশ্রম সততায় হয় না। অন্যায় কাজ সম্মানের নয়। সুতরাং সে কাজকে ঈশ্বর সমর্থন করেন না। উপদেশক ৫:১৬ পদে রয়েছে, “ইহাও বিষম অনিষ্ট; সে যেমন আইসে, সর্বতোভাবে তেমনি যায়; অতএব বায়ুর নিমিত্ত পরিশ্রম করিলে পর তাহার কি ফল দেখিবে?”

আমরা আমাদের জীবনে কঠোর পরিশ্রমের ফলে প্রচুর ধনসম্পত্তি অর্জন করতে পারি; কিন্তু তার কতোটুকুই বা আমরা ভোগ করি। অথচ, আমরা জাগতিক ধনে এতোই মত্ত হয়ে যাই যে, আমরা ঈশ্বরকে ভুলে যাই। কেননা জগতে আমরা যে পরিশ্রম করি, তা‘ আমরা সঙ্গে নিতে পারি না; ফলে একদিন তা’ আমাদের জীবনের জন্যে অসার হয়ে যায়। উপদেশক ২:১৯ পদে রয়েছে, “আর সে জ্ঞানবান হইবে, কি হীনবুদ্ধি হইবে, তাহা কে জানে? কিন্তু আমি সূর্যের নিচে যে শ্রমে পরিশ্রম করিয়া প্রজ্ঞা দেখাইতাম, সেই সকল পরিশ্রমের ফলাধিকারী সে হইবে; ইহাও অসার।” আর আমরা আমাদের পরিশ্রমের জন্যে ক্লান্ত হই, তবুও আমরা আমাদের আশা ত্যাগ করতে পারি না। যিহিষ্কেল ২৪:১২ পদে রয়েছে, “সে পরিশ্রমে ক্লান্ত হইয়াছে, তথাপি তাহার বিষম কলঙ্ক তাহার মধ্য হইতে নির্গত হয় না, তাহার কলঙ্ক অগ্নিসাৎ হউক।” অবশ্য একসঙ্গে কাজ করলে সফলতা আসে; তাতে বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। উপদেশক ৪:৯ পদে রয়েছে, “একজন অপেক্ষা দুই জন ভাল, কেননা তাহাদের পরিশ্রমে সুফল হয়।” অবশ্যই আমরা যদি বিশ্বস্তভাবে পরিশ্রম করি, তাহলে আমরা তা’ প্রকাশ করতে দ্বিধা করতে পারি না। আদিপুস্তক ৩০:২৬ পদে রয়েছে, “আমি যাহাদের জন্য আপনার দাস্যকর্ম করিয়াছি, আমার সেই স্ত্রীদিগকে ও সন্তানগণকে আমার হস্তে সমর্পণ করিয়া আমাকে যাইতে দিউন; কেননা আমি যেরূপ পরিশ্রমে আপনার দাস্যকর্ম করিয়াছি, তাহা আপনি জ্ঞাত আছেন।” ২ করিন্থীয় ১১:২৩ পদে রয়েছে, “উহারা কি খ্রীষ্টের পরিচারক?- হতবুদ্ধির ন্যায় বলিতেছি- আমি অধিকতররূপে; আমি পরিশ্রমে অতিমাত্ররূপে, কারাবন্ধনে অতিমাত্ররূপে, প্রহারে অতিরিক্তরূপে, প্রাণসংশয়ে অনেক বার।” আমাদের জীবনের সুখভোগের জন্যে যতোই পরিশ্রম করি, তার সবই আমাদের নিজেদের মঙ্গলেরই করে থাকি। অবশ্য এটা স্বীকার করতে হবে যে, তা’ কেবল ঈশ্বরের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। উপ ২:২৪ পদে রয়েছে, “ভোজন পান করা এবং নিজ পরিশ্রমের মধ্যে প্রাণকে সুখভোগ করানো ব্যতীত আর মঙ্গল মানুষের হয় না; ইহাও আমি দেখিলাম যে, তাহা ঈশ্বরের হস্ত হইতে হয়।” আমরা যতই পরিশ্রম করি; পরিশ্রমের বিনিময়ে সুখভোগ করি, তার সবই ঈশ্বরেরই দান। উপ ৩:১৩ পদে রয়েছে, “আর প্রত্যেক মনুষ্য যে ভোজন পান ও সমস্ত পরিশ্রমের মধ্যে সুখভোগ করে, ইহাও ঈশ্বরের দান।”

সফলতা অর্জন করতে হলে জীবনের সব বাধাই অতিক্রম করার দৃঢ় মনোবল থাকতে হবে। জীবনে বড় হবার মূল মন্ত্র হল কঠোর পরিশ্রম। সততার সঙ্গে একাগ্রচিত্তে পরিশ্রম করলে আল্লাহর কুদরত থেকেই সফলতা আসবে। কঠোর পরিশ্রম ছাড়া জীবনে সফলতার অন্য কোনো জাদু নেই। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, জ্ঞান অর্জন থেকে শুরু করে চাকরি বা ব্যবসা সবক্ষেত্রেই পরিশ্রমী হতে হবে। পৃথিবীতে যারা নানা কারণে প্রখ্যাত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই দরিদ্র ঘরের সন্তান ছিলেন। কিন্তু জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাদের। দারির্দ্যোর কষাঘাত থেকে মুক্তি পেয়ে সততার সঙ্গে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আর তাদের প্রত্যেকের এই পরিশ্রমের পেছনে ছিল বড় স্বপ্ন। স্বপ্ন না থাকলে জীবনে কখনো সফলতা আসবে না। যাদের অভাব রয়েছে ও বড় কিছু হবার স্বপ্ন রয়েছে তাদের মনের ভেতর জ্বালা থাকতে হবে, দুঃখ-কষ্ট ও তাড়া থাকতে হবে। বড় হওয়ার জেদ পুষে রাখতে হবে। তাহলে জীবনে যত বাধা আসুক তা বাধা আর থাকবে না। কিন্তু আমাদের সমাজে বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করেন না। অফিস টাইমের বেশি ডিউটি করেন না। কারণ তারা কাজটা শুধু বেতন পাওয়ার জন্য করেন। কিন্তু কাজকে ‘ওন’করতে হবে। অতিরিক্ত সময় পরিশ্রম করতে হবে। পরিশ্রম ছাড়া সফলতার কোনো জাদু নেই। সময়কে ফাঁকি দিয়ে কিছু অর্জন করা যাবে না। সময়ের কাজ সময়ের মধ্যেই করতে হবে। কাজ আর কাজ। কাজ ফাঁকি দিয়ে বড় হওয়া যাবে না। কাজেই জীবন গঠনের শ্রেষ্ঠ কাজ হলো সময়ের মূল্য দেওয়া। সময়কে কখনো অবহেলা করা যাবে না। তোমাদের একেকজনের মধ্যে বিস্ময়কর প্রতিভা লুকিয়ে আছে। প্রয়োজন শুধু জ্বলে ওঠা। এজন্য সততা, নিষ্ঠা আর কঠোর পরিশ্রম। হিতোপ ১০:৪ পদে রয়েছে, “যে শিথিল হস্তে কর্ম করে, সে দরিদ্র হয়; কিন্তু পরিশ্রমীদের হস্ত ধনবান করে।” আর এতো কিছুর পরেও মানুষের চিন্তার শেষ নেই। এতে কোনো ভালো ফলাফল জীবনে আসে না। উপ ২:২২ পদে রয়েছে, “ইহাও অসার ও বড় মন্দ। তবে সূর্যের নিচে মনুষ্য যে সকল পরিশ্রমে ও হৃদয়ের উদ্বেগে পরিশ্রান্ত হয়, তাহাতে তাহার কি ফল দর্শে?” কিন্তু ঈশ্বরের জন্যে পরিশ্রম করা হয়; তাতে আমাদের জীবনে ঈশ্বরের পরাক্রম সাধিত হয়। কলসীয় ১:২৯ পদে রয়েছে, “আর তাঁহার যে কার্যসাধক শক্তি আমাতে পরাক্রমে নিজ কার্য সাধন করিতেছে, তদনুসারে প্রাণপণ করিয়া আমি সেই অভিপ্রায়ে পরিশ্রমও করিতেছি।” কিন্তু আমাদের এটা বিশ্বাস করতে হবে যে, আমাদের জীবনে যতোই আমরা পরিশ্রম করি, ঈশ্বর যদি আমাদের ফল না দেন, আমাদের আশা পূরণ না করেন, তাহলে কোনো লাভই হবে না। গীত ১২৭:১ পদে রয়েছে, “যদি সদাপ্রভু গৃহ নির্মাণ না করেন, তবে নির্মাতারা বৃথাই পরিশ্রম করে; যদি সদাপ্রভু নগর রক্ষা না করেন, রক্ষক বৃথাই জাগরণ করে।” আর এতেই আমরা আনন্দ করতে পারি। কেননা আনন্দ করার ক্ষমতা ঈশ্বরই আমাদের দিয়ে থাকেন; যা’ পবিত্র। উপ ৫:১৯ পদে রয়েছে, “আবার ঈশ্বর যে কোন ব্যক্তিকে ধন-সম্পত্তি দান করেন, তাহাকে তাহা ভোগ করিতে, আপন অংশ লইতে ও আপন পরিশ্রমে আনন্দ করিতে ক্ষমতা দেন, ইহাই ঈশ্বরের দান।”

পৃথিবীতে কেউ সাফল্যের চামচ নিয়ে জন্মলাভ করে না। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করতে হয়। প্রবাদ আছে, ‘পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি’। পরিশ্রমের দ্বারা ভাগ্যের চাবিকাঠি এমনভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব, যা অলস মানুষের কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়। যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতার প্রথম শর্ত হল প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম। হিতোপ ১২:২৪ পদে রয়েছে, “পরিশ্রমীদের হস্ত কর্তৃত্ব পায়; কিন্তু অলস পরাধীন দাস হয়।” পরিশ্রমী লোকেরা কাজ করতে লজ্জা পায় না। এর পরিবর্তে, তারা ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও অন্যদের সাহায্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে পছন্দ করে, এমনকী সেই কাজ যদি তেমন আকর্ষণীয় না-ও হয়।

পরিশ্রম দ্বারা ভাগ্যের চাবিকাঠি এমনভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব যা পরিশ্রমবিমুখ মানুষের কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়। যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতার প্রথম শর্ত হলো প্রখর ইচ্ছেশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম। মানুষ যদি তার লক্ষ্যে অটুট থাকে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে তবে একদিন সাফল্যের সুউচ্চ চ‚ড়ায় পৌঁছাতে পারে। পরিশ্রম হলো উন্নতির একমাত্র সিঁড়ি। পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। উপ ৫:১৮ পদে রয়েছে, “দেখ, আমি দেখিয়াছি, ইহাই উত্তম ও মনোরঞ্জক, ঈশ্বর মনুষ্যকে যে কয় দিন পরমায়ু দেন, সেই সমস্ত দিন সে যেন সূর্যের নিচে আপনার কর্তব্য সমস্ত পরিশ্রমের মধ্যে ভোজন পান ও সুখভোগ করে, কারণ ইহাই তাহার অংশ।” ২ করিন্থীয় ১১:২৭ পদে রয়েছে, “ভাক্ত ভ্রাতৃগণের মধ্যে ঘটিত সঙ্কটে, পরিশ্রমে ও আয়াসে, অনেক বার নিদ্রার অভাবে, ক্ষুধায় ও তৃষ্ণায়, অনেক বার অনাহারে, শীতে ও উলঙ্গতায়।” আর পরিশ্রম ত্যাগ করবার অধিকার প্রত্যেকের থাকলেও যারা সফলতা প্রত্যাশা করে, তারা ত্যাগ করে না। ১ করিন্থীয় ৯:৬ পদে রয়েছে, “কিম্বা পরিশ্রম ত্যাগ করিবার অধিকার কি কেবল আমার ও বার্ণবার নাই?” আর যারা অলস তারা স্বহস্তে পরিশ্রম করতে চায় না; তারা আরামে থাকতে চায়। কিন্তু যারা পরিশ্রমী ও প্রভুতে নির্ভরশীল তাদের পরিশ্রম বিফলে যায় না। ১ থিষলনীকীয় ৪:১১ পদে রয়েছে, “কিন্তু তোমাদিগকে বিনয় করিয়া বলিতেছি, ভ্রাতৃগণ, আরও অধিক উপচিয়া পড়, আর শান্ত ভাবে থাকিতে ও আপন আপন কার্য করিতে এবং স্বহস্তে পরিশ্রম করিতে সযতœ হও-” ১ করিন্থীয় ১৫:৫৮ পদে রয়েছে, “অতএব, হে আমার প্রিয় ভ্রাতৃগণ, সুস্থির হও, নিশ্চল হও, প্রভুর কার্যে সর্বদা উপচিয়া পড়, কেননা তোমরা জান যে, প্রভুতে তোমাদের পরিশ্রম নিষ্ফল নয়।” ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পরিশ্রমের জন্যেই সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। তিনিই আমাদের হৃদয়ে চেতনা দিয়ে থাকেন; কেননা তিনি আমাদের চিনেন। ১ থিষলনীকীয় ৫:১২ পদে রয়েছে, “কিন্তু, হে ভ্রাতৃগণ, আমরা তোমাদিগকে নিবেদন করিতেছি; যাঁহারা তোমাদের মধ্যে পরিশ্রম করেন ও প্রভুতে তোমাদের উপরে নিযুক্ত আছেন, এবং তোমাদিগকে চেতনা দেন, তাঁহাদিগকে চিনিয়া লও,” আর যারা পরিশ্রান্ত হয়, তারা হৃদয়ে নিরাশ হয়ে যায়। কখনো সেই পরিশ্রমের জন্যে আমরা বিরক্ত হয়ে পড়ি। উপ ২:২০ পদে রয়েছে, “অতএব সূর্যের নিচে আমি যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হইতাম, ফিরিয়া আমার সেই সমস্ত পরিশ্রমের বিষয়ে আপন হৃদয়কে নিরাশ হইতে দিলাম।” উপ ২:১৮ পদে রয়েছে, “সূর্যের নিচে আমি যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হইতাম, আমার সেই সমস্ত পরিশ্রমে বিরক্ত হইলাম; কেননা আমার পরবর্তী ব্যক্তির জন্য তাহা রাখিয়া যাইতে হইবে।” উপ ২:১১ পদে রয়েছে, “পরে আমার হস্ত যে সকল কার্য করিত, যে পরিশ্রমে আমি পরিশ্রান্ত হইতাম, সেই সমস্তের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলাম, আর দেখ, সে সকলই অসার ও বায়ুভক্ষণ মাত্র; সূর্যের নিচে কিছুই লাভ নাই।” আমরা জানি, একজন কর্মকার কীভাবে তার নির্মাণ শৈলী প্রদর্শন করে তার কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা। যিশাইয় ৪৪:১২ পদে রয়েছে, “কর্মকার অস্ত্র [নির্মাণ করে], তপ্ত অঙ্গারে পরিশ্রম করে, হাতুড়ি দ্বারা তাহা গড়ে, নিজ বলবান বাহু দ্বারা তাহা প্রস্তুত করে; আবার সে ক্ষুধিত হইয়া দুর্বল হয়, জল পান না করিয়া ক্লান্ত হয়।”

জীবনের যেকোনো কাজে সফলতা অর্জন করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার প্রয়োজন। কঠোর পরিশ্রম করে দিনের পর দিন কাজ করে গেলে একটা সময় গিয়ে আমরা তার ফল ভোগ করতে পারবো। যেমন ধরুন আমরা একটা গাছ লাগিয়েছি কিন্তু সেই গাছের কোন যতœই করছি না। একটা সময় গিয়ে আমরা সেই গাছ থেকে ফলই পাইনি । আর সে গাছের ফল না পাওয়ার কারণে হতাশ হয়ে আমরা মন খারাপ করি কিন্তু আমরা যে গাছটা লাগিয়েছি। গাছের লাগানোর পর থেকে বড় হওয়া এবং মাঝখানে ফল দেওয়ার আগ পর্যন্ত যে সময়টা সে সময়টা যদি আমরা গাছের যতœ নিতাম তাহলে তো কাজটা ঠিকভাবে বেড়ে উঠত। গাছের পিছনে পরিশ্রম করতাম তখন একটা সময় গিয়ে কাজ ফল দিত। এখন গাছ লাগিয়ে গাছের কোন খেয়ালই রাখিনি। কারন গাছ ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারেনি এবং ফলও দেয়নি। ২ তীমথিয় ২:৬ পদে রয়েছে, “যে কৃষক পরিশ্রম করে, সেই প্রথমে ফলের ভাগী হয়, ইহা উপযুক্ত।” অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে সফলতার জন্যে আমরা যে পরিশ্রমের ফল আশা করি, তার জন্যে ঈশ্বরের সমর্থন প্রয়োজন হয়। লূক ৫:৫ পদের য়েছে, “শিমোন উত্তর করিলেন, হে নাথ, আমরা সমস্ত রাত্রি পরিশ্রম করিয়া কিছুমাত্র পাই নাই, কিন্তু আপনার কথায় আমি জাল ফেলিব।” আর যারা ঈশ্বরের সমর্থনে পরিশ্রম করে তারা ঈশ্বরের কাছে থাকতে পারে ও ঈশ্বরের আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়। ১ থিষলনীকীয় ২:৯ পদে রয়েছে, “বস্তুতঃ, হে ভ্রাতৃগণ, আমাদের পরিশ্রম ও আয়াস তোমাদের স্মরণে আছে; তোমাদের কাহারও ভারস্বরূপ যেন না হই, তজ্জন্য আমরা দিবারাত্র কার্য করিতে করিতে তোমাদের কাছে ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করিয়াছিলাম।” অবশ্য যে কারণে পরিশ্রম করি, তাতে আমাদের বশবর্তী হওয়া দরকার। তাহলে আমরা কাজে সফলতা অর্জন করতে পারবো। ১ করিন্থীয় ১৬:১৬ পদে রয়েছে, “তোমরাও এই প্রকার লোকদের, এবং যত জন কার্যে সাহায্য করেন, ও পরিশ্রম করেন, সেই সকলের বশবর্তী হও।” অতএব, আমাদের প্রশ্ন করা উচিত যে, আমরা কীসের প্রত্যাশা করছি আমাদের পরিশ্রমের জন্যে। ১ তীমথিয় ৪:১০ পদে রয়েছে, “কারণ ইহারই নিমিত্ত আমরা পরিশ্রম ও প্রাণপণ করিতেছি; কেননা যিনি সমস্ত মনুষ্যের, বিশেষতঃ বিশ্বাসীবর্গের ত্রাণকর্তা, আমরা সেই জীবন্ত ঈশ্বরের প্রত্যশা করিয়া আসিতেছি।”

কিন্তু আমাদের জীবনের কোনো পরিশ্রম যেন খারাপ উদ্দেশ্যে না হয়; যেন ভালো উদ্দেশ্যে হতে পারে; সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। এজন্যে আমাদের সকলকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত ও নির্ভরশীল জীবনযাপন করতে হবে। যিরমিয় ৫১:৫৮ পদে রয়েছে, “বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা কহেন, বাবিলের প্রশস্ত প্রাচীর সকল একেবারে ভগ্ন হইবে, এবং তাহার উচ্চ দ্বার সকল আগুনে পোড়াইয়া দেওয়া যাইবে; আর লোকবৃন্দ কেবল অসারতার জন্য, ও জাতিগণ কেবল অগ্নির জন্য পরিশ্রম করিবে; এবং তাহারা ক্লান্ত হইবে।”

সবাই জীবনে সফল হতে চাই। অনেকে সমান পরিশ্রম করেও একজন শুধু অনেক দূর এগিয়ে যান অন্যদের পেছনে ফেলে। মনে করা হয় তার প্রতিভার কারণেই সবার আগে জায়গা করে নিয়েছে। আবার উল্টোটাও দেখা যায়, মাঝারি মানের প্রতিভা কিন্তু অনেক বেশি পরিশ্রমী, তার সফলতা দেখে অনেকেই ঈর্ষা করেন। আসলে পরিশ্রম ছাড়া শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়। কঠোর পরিশ্রমই আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রতিভা ছাড়াও শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রমে এগিয়ে যাওয়া যায়। শুধুমাত্র প্রতিভার জোরে এগিয়ে যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। যেমন একজনের গানের গলা খুব ভালো হতে পারে, কিন্তু চর্চা না থাকলে ভালো গায়ক হওয়া সম্ভব নয়। আর তাই প্রতিভা থাকলে এটা বাড়তি পাওয়া, না থাকলেও খুব ক্ষতি নেই। নিজের ওপর আস্থা রেখে সঠিক পরিকল্পনামতো পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে। হিতোপ ১২:২৭ পদে রয়েছে, “অলস মৃগয়াতে ধৃত পশু পাক করে না; কিন্তু মনুষ্যের বহুমূল্য রতœ পরিশ্রমীর পক্ষে।” আর যারা স্বহস্তে পরিশ্রম করে তারা জীবনে সফল হতে পারে ও ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। ১ করিন্থীয় ৪:১২ পদে রয়েছে, “…এবং স্বহস্তে কার্য করিয়া পরিশ্রম করিতেছি; নিন্দিত হইতে হইতে আশীর্বাদ করিতেছি, তাড়িত হইতে হইতে সহ্য করিতেছি,”

যারা নিজেদের পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে ধনী মানুষ হয় তাদের কেউ কেউ মনে করেন, তাদের সব সম্পদ শুধু নিজেদেরই। গরীবরা নিজেদের দোষের কারণেই গরীব থাকে। তাই কেন তারা তাদের পরিশ্রমে গড়া অর্থ, সম্পদ গরীবদেরকে দান করবে? এজন্য কিছু ধনী মানুষ এমন মনোভাবের কারণে গরীবদেরকে সাহায্য করতে চায় না। হিতোপ ২১:৫ পদে রয়েছে, “পরিশ্রমীর চিন্তা হইতে কেবল ধনলাভ হয়, কিন্তু যে কেহ হঠকারী, তাহার কেবল অভাব ঘটে।” জগতে কে-না একটু ভাল থাকতে চায়। কে-না চায় একটু সুখ,স্বস্তি।জীবন চলুক সচ্ছলতায়,স্বাচ্ছন্দ্যে,সন্তানের মাথার উপর থাকুক আর্থিক নিরাপত্তার ছায়া-এমন চাওয়া প্রতিটি মানুষের।সব মানুষের মনেই গোপনে উঁকি দেয় একটু ধনী হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু প্রতিযোগিতার এই বাজারে অর্থ-বিত্ত অর্জন সহজ কাজ নয়। চাকরি বা ছোটখাটো ব্যবসা করে বেশি আয় সম্ভব হয় না।অন্যদিকে প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকায় ব্যয় চলে যায় লাগামের বাইরে। তাই বলে হাল ছেড়ে দিলে তো চলবে না। সীমিত আয়ের মাধ্যমেই কীভাবে কিছুটা ধনী হওয়া যায় তার চেষ্টা করতেই হবে। বুঝেশুনে চেষ্টা করলে ফলও আসবে বৈকি।তবে তার জন্য প্রয়োজন হবে সঠিক পরিকল্পনা,পরিশ্রম ও ধৈর্য। ২ করিন্থীয় ১০:১৫ পদে রয়েছে, “আমরা পরিমাণ না মানিয়া যে পরের পরিশ্রমের শ্লাঘা করি, তাহা নয়; কিন্তু প্রত্যাশা করি যে, তোমাদের বিশ্বাস বৃদ্ধি পাইলে আমাদের সীমা অনুসারে তোমাদের মধ্যে আরও অপর্যাপ্তরূপে বিস্তারিত হইব;” আর আমাদের মনে রাখতে হবে একটি চিরসত্য কথা; আর তাহলো উপ ৫:১৫ পদে রয়েছে, “সে মাতৃগর্ভ হইতে উলঙ্গ আইসে; যেমন আইসে তেমনি উলঙ্গই পুনরায় চলিয়া যায়; পরিশ্রম করিলেও সে যাহা সঙ্গে করিয়া লইয়া যাইতে পারে, এমন কিছুই নাই।”

আর আমরা আমাদের জীবনে কখনো কখনো পরিশ্রমের জন্যে অনুশোচনাও করি; যা’ কতোটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে? ইয়োব ৯:২৯ পদে রয়েছে, “আমাকেই দোষী হইতে হইবে, তবে কেন বৃথা পরিশ্রম করিব?” ১ থিষলনীকীয় ৩:৫ পদে রয়েছে, “এই জন্য আমিও আর ধৈর্য ধরিতে না পারাতে তোমাদের বিশ্বাসের তত্ত¡ জানিবার নিমিত্ত উঁহাকে পাঠাইয়াছিলাম, ভাবিয়াছিলাম, পাছে পরীক্ষক কোন প্রকারে তোমাদের পরীক্ষা করিয়াছে বলিয়া আমাদের পরিশ্রম বৃথা হইয়া পড়ে।”

সফলতা অর্জনের জন্য যেই অক্লান্ত পরিশ্রম,আফসোসের কষ্টের তুলনায় কিছুই না। অর্থবিত্ত ও সহায়-সম্পদ নিয়ে আফসোস না করা। বরং যা আছে তা নিয়ে সব সময় সন্তুষ্ট থাকা। ভবিষ্যতের জন্য বৈধপন্থায় কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে আফসোস রাখবেন না। যা আছে, যেভাবে আছেন, যেমন আছেন সেভাবেই মেনে নিন, নিজের ওপর আফসোস আপনাকে মানসিক কষ্ট দেবে। গালাতীয় ৪:১১ পদে রয়েছে, “তোমাদের বিষয়ে আমার ভয় হয়; কি জানি, তোমাদের মধ্যে বৃথা পরিশ্রম করিয়াছি।”

কঠোর পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। সৌভাগ্য নিয়েই পৃথিবীতে কোনো মানুষের জন্ম হয় না। কর্মের মাধ্যমে তার ভাগ্য গড়ে নিতে হয়। পরিশ্রম মেধাকে শানিত করে, অধরা সফলতাকে হাতের মুঠোয় এনে দেয়। পরিশ্রম ছাড়া শুধু মেধা দিয়ে কেউ কখনো তার ভাগ্যকে গড়ে তুলতে পারেনি। তাত্তি¡ক জ্ঞান শুধু সফলতার পথ নির্মাণ করে। নিজেকে অন্যের চেয়ে দক্ষ করে তুলতে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। টমাস আলভা এডিসন যখন বৈদুতিক বাল্ব তৈরির চেষ্টা করছিলেন তখন ১০০০ বার পরিশ্রম করে সফল হয়েছিলেন। তাই তিনি বলেছেন প্রতিভা বলে কিছু নেই পরিশ্রমই প্রতিভা। প্রত্যেকেই একটি পুরস্কার পছন্দ করে তা অর্জিত হোক বা অর্জিত হোক। ঈশ্বর আপনার প্রতি তার অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ ঢেলে দিতে আকাক্সিক্ষত পুরস্কার দিতে পছন্দ করেন। তিনি আপনাকে তার কল্যাণ ও রিযিক দিতে চান। তিনি তাঁর অংশ করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন, কিন্তু আপনাকে আপনার অংশটি করতে হবে এবং পরিশ্রমী হতে হবে। সর্বপ্রথম, তাঁর পথ অন্বেষণে এবং তাঁর আদেশ পালনে অধ্যবসায়ী হোন। তারপর, তিনি ইতিমধ্যে আপনাকে যা দিয়েছেন, আপনার সময় এবং সম্পদের সাথে পরিশ্রমী হন। কর্মক্ষম প্রতিটি মানুষের মাঝেই রয়েছে অপার সম্ভাবনা। পরিশ্রমে যে ঘাম ঝড়ে, সে ঘামের লোনা পানিতে জন্মায় সফলতার বীজ। শ্রমিকদের ঘামেই গড়ে উঠে নগর, বন্দর আর সভ্যতা। তারাই উন্নয়নের আসল কারিগর। আসুন, শ্রমজীবিদের সম্মান দিয়ে কথা বলি। তাদের নায্য অধিকার আদায়ে আন্তরিক হই। তারা ভালো থাকলে, ভালো থাকবো আমরা সবাই। হিতোপ ১৬:২৬ পদে রয়েছে, “পশ্রমীর ক্ষুধাই তাহাকে পরিশ্রম করায়; বস্তুতঃ তাহার মুখ তাহাকে পীড়াপীড়ি করে।”

কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা দিনমজুরদের ধৈর্য আমরা দেখি! আমরা যদি পরিশ্রম না করি, তাহলে আমরা আমাদের মুখে খাবার নিতে পারি না; কেননা খাবার পরিশ্রমের বিনিময়েই আসে। আমরা যে আহার গ্রহণ করি, তার বিনিময়ে অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে পরিশ্রম জড়িত রয়েছে। ২ থিষলনীকীয় ৩:৮ পদে রয়েছে, “আর বিনামূল্যে কাহারও কাছে অন্ন ভোজন করিতাম না, বরং তোমাদের কাহারও ভারস্বরূপ যেন না হই, তজ্জন্য পরিশ্রম ও আয়াস সহকারে রাত দিন কার্য করিতাম।”

 

You might like