

আমরা সকলেই জানি যে, বিচার হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন সালিস বা বিচারক বিরোধী পক্ষ বা মামলাকারীদের দ্বারা নির্ধারিত আইনি যুক্তিসহ প্রমাণ এবং যুক্তি পর্যালোচনা করে এমন একটি সিদ্ধান্তে আসার জন্যে যা’ জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে অধিকার এবং বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে। আর আমাদের জীবনে কোনো না কোনোভাবে বিচারের সম্মুখীন হইনি-এমন মানুষ পাওয়া ভার। কখনো বিচার করেছি, কখনে বিচার দেখেছি; অথবা কখনো বিচার দিয়েছি নিজের সমাধানের জন্যে-অথবা কেউ বিচার দিয়েছে ইত্যাদি।
পবিত্রশাস্ত্রের আলোকে বিচার সম্পর্কে যীশু কী শিক্ষা দিয়েছিলেন-তা’ আমরা পড়েছি। “বিচার করো না, তাহলে তোমাদেরও বিচার করা হবে না।” (মথি ৭:১ এবং লূক ৬:৩৭) কেউ কেউ বলেছেন যে বাইবেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ হল বিচার না করার যীশুর আদেশ। যীশু বিচার না করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন। কারণ, এটি আমাদের নিজস্ব বিচার এবং নিন্দার দিকে পরিচালিত করবে (মথি ৭:১; লূক ৬:৩৭)। রোমীয় ১৪:২২ পদে রয়েছে, “তোমার যে বিশ্বাস আছে, তাহা আপনার কাছেই ঈশ্বরের সম্মুখে রাখ। ধন্য সেই ব্যক্তি, যে, যাহা গ্রাহ্য করে, তাহাতে আপনার বিচার না করে।” এখন, এর অর্থ এইভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয় যে অন্যদের জীবনের সমস্ত মূল্যায়ন নিষিদ্ধ। এমনকি মথির সুসমাচারে বিচার না করার যীশুর আদেশের প্রেক্ষাপটে, তাঁর অনুসারীদের বিচক্ষণ হতে বলা হয়েছে; যাতে তারা পবিত্র জিনিস কুকুরের কাছে না ফেলে (মথি ৭:৬)।

আবার কলসীয় ২:১৬ পদে বলা হয়েছে, “অতএব ভোজন কি পান, কি উৎসব, কি অমাবস্যা, কি বিশ্রামবার, এই সকলের সম্বন্ধে কেহ তোমাদের বিচার না করুক;” কেননা এসব বিচারের উর্দ্ধে।
অন্যত্র, বিশ্বাসীদের একে অপরের বিচার করতে এবং যারা স্পষ্টতই অবাধ্য এবং অনুতপ্ত তাদের গির্জা থেকে অপসারণ করতে বলা হয়েছে (১ করিন্থীয় ৫:১২-১৩)। এই ধরণের ক্ষেত্রে নম্রতা এবং এই স্বীকৃতির প্রয়োজন যে আমরা একই পাপে পতিত হতে পারি (গালাতীয় ৬:১) যাতে অহংকারী এবং শ্রেষ্ঠ হওয়ার কোনও জায়গা না থাকে। এই সমস্ত কথা বলার পরেও, ঈশ্বরের বিচার করার অধিকার রয়েছে – যা আমরা মানুষ হিসেবে ধারণ করি না। সৃষ্টিকর্তা হিসেবে, সার্বভৌম প্রভু এবং রাজা হিসেবে, তিনি আমাদের জীবন মূল্যায়ন করেন (যাকোব ৪:১১-১২)। কিন্তু আমরা আমাদের বিচারের কথার মাধ্যমে নিজেদেরকে দোষী সাব্যস্ত করি। অন্যদের সম্পর্কে আমাদের সমালোচনামূলক মূল্যায়নের পরিবর্তে, আমাদের ঈশ্বরের করুণার উপর নির্ভর করা উচিত এবং অন্যদের সাথে আমাদের করুণাময় হতে পরিচালিত করা উচিত। কারণ সেই দিনটি আসছে যখন মহাবিশ্বের স্রষ্টা আমাদের বিচার করবেন। প্রকাশিত বাক্য ২০:৪ পদে বলা হয়েছে, “পরে আমি কয়েকটি সিংহাসন দেখিলাম; সেইগুলির উপরে কেহ কেহ বসিলেন, তাঁহাদিগকে বিচার করিবার ভার দত্ত হইল। আর যীশুর সাক্ষ্য ও ঈশ্বরের বাক্যের নিমিত্ত যাহারা কুঠার দ্বারা হত হইয়াছিল, এবং যাহারা সেই পশুকে ও তাহার প্রতিমাকে ভজনা করে নাই, আর আপন আপন ললাটে ও হস্তে তাহার ছাপ ধারণ করে নাই, তাহাদের প্রাণও দেখিলাম; তাহারা জীবিত হইয়া সহস্র বৎসর খ্রীষ্টের সহিত রাজত্ব করিল।” আর বিচার করার বিষয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রোমীয় ১৪:৩ পদে বলা হয়েছে, “যে যাহা ভোজন করে, সে এমন ব্যক্তিকে তুচ্ছ না করুক, যে তাহা ভোজন করে না; এবং যে যাহা ভোজন না করে, সে এমন ব্যক্তির বিচার না করুক, যে তাহা ভোজন করে; কারণ ঈশ্বর তাহাকে গ্রহণ করিয়াছেন।”
যীশু বলেছেন, “কিন্তু আমি তোমাদের বলছি যে, যে কেউ তার ভাইয়ের উপর রাগ করে সে বিচারের জন্য দায়ী হবে” (মথি ৫:২২)। পবিত্র শাস্ত্র আরো বলে যে, যে খুন করে সে মানুষের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হবে (মথি ৫:২১), কিন্তু যীশু আরও বলেন, যারা রাগান্বিত এবং অন্যদের অপমান করে তাদের ঐশ্বরিক ন্যায়বিচারের কক্ষে আরও কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ঈশ্বরের আদালতে বিচার অপরিবর্তনীয় এবং ভয়াবহ, কারণ দুষ্টদের পরিণতি নরক (মথি ৫:২২)। যীশু বিচারকের হাতে তুলে দেওয়া এবং কারাগারে নিক্ষেপের দৃষ্টান্ত ব্যবহার করেছেন, ঘোষণা করেছেন যে শেষ পয়সা পরিশোধ না করা পর্যন্ত একজনকে মুক্তি দেয়া হবে না (মথি ৫:২৫-২৬)। কিন্তু আমাদের জীবনযাপন আরো সতর্কতার সাথে হওয়া উচিত, যেন আমাদের কারাগারে নিক্ষেপ করার মতো পর্যায়ে যেতে না হয় বা কঠিন পরিস্থিতির পর্যায়ে যেতে না হয়। লূক ১২:৫৮ পদে বলা হয়েছে, “ফলতঃ যখন বিপক্ষের সঙ্গে শাসনকর্তার নিকটে যাইবে, পথের মধ্যে তাহা হইতে মুক্তি পাইতে যতœ করিও; পাছে সে তোমাকে বিচার কর্তার সম্মুখে টানিয়া লইয়া যায়, আর বিচারকর্তা তোমাকে পদাতিকের হস্তে সমর্পণ করে, এবং পদাতিক তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করে।” জীবনের কোনো কঠিন পরিস্থিতি সম্মুখে আসলেও আমরা যেন মুক্তি পেতে পারি; তেমনি নিশ্চয়তায় আমাদের খ্রীষ্টে বিশ্বাসী জীবনযাপন করতে হবে। যেন মানুষ আমাদের দোষারোপ করে বিচারের পর্যায়ে নিয়ে না আসতে পারে। প্রেরিত্ ২৮:১৮ পদে বলা হয়েছে, “আর তাহারা, আমার বিচার করিয়া প্রাণদÐের যোগ্য কোন দোষ না পাওয়াতে, আমাকে মুক্তি দিতে চাহিয়াছিল;” দ্বিতীয় আগমনে সকলেই ঈশ্বরের দ্বারা বিচারিত হবেন। যীশুকে একজন কঠোর বিচারক হিসেবে দেখা যাবে। আমাদের কোনো কিছুই গুপ্ত থাকবে না; সবই প্রকাশিত হবে। আর তিনি সেসবের বিচার করিবেন। রোমীয় ২:১৬ পদে বলা হয়েছে, “যে দিন ঈশ্বর আমার সুসমাচার অনুসারে যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা মনুষ্যদের গুপ্ত বিষয় সকলের বিচার করিবেন।” ১ করিন্থীয় ৪:৫ বলা হয়েছে, “অতএব তোমরা সময়ের পূর্বে, যে পর্যন্ত প্রভু না আইসেন, সেই পর্যন্ত কোন বিচার করিও না; তিনিই অন্ধকারের গুপ্ত বিষয় সকল দীপ্তিতে আনিবেন, এবং হৃদয়সমূহের মন্ত্রণা সকল প্রকাশ করিবেন; আর তৎকালে প্রত্যেক জন ঈশ্বর হইতে আপন আপন প্রশংসা পাইবে।”
তৎকালে বিচারকার্য সম্পন্ন হতো মোশীর ব্যবস্থানুসারে। কিন্তু কখনো কখনো স্বার্থ হাসিলের জন্যে ব্যবস্থার বিপরীতেও মানুষকে আঘাত করতো ও কষ্ট দিতো। আমরা জানি, বিচারকাজের সময় ন্যায়পরায়ণতা বজায় না রাখা নিন্দনীয়। অন্যায় বিচার করা পাপ। একজন বিচারকাজে সত্যকে উদ্ঘাটন করার পর জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে বিচার করা সমাজে কলুষতা বিরাজ করে। প্রেরিত ২৩:৩ পদে রয়েছে, “তখন পৌল তাঁহাকে কহিলেন, হে শুক্লীকৃত ভিত্তি, ঈশ্বর তোমাকে আঘাত করিবেন; তুমি ব্যবস্থা অনুসারে আমার বিচার করিতে বসিয়াছ, আর ব্যবস্থার বিপরীতে আমাকে আঘাত করিতে আজ্ঞা দিতেছ?” এখানে আমরা দুঃখজনক ঘটনা দেখতে পাই। কিন্তু ঈশ্বরই ন্যায়বিচার সম্পন্ন করেন; যেন মানুষ সঠিক পথে ফিরে আসে ও পবিত্র জীবনযাপন করে। যাত্রাপুস্তক ১২:১২ পদে রয়েছে, “কেননা সেই রাত্রিতে আমি মিসর দেশের মধ্য দিয়া যাইব, এবং মিসর দেশস্থ মনুষ্যের ও পশুর যাবতীয় প্রথমজাতকে আঘাত করিব, আর আমি মিসরের যাবতীয় দেবের বিচার করিয়া দÐ দিব; আমিই সদাপ্রভু।” আর ঈশ্বর দীনহীনদের ধর্মশীলতায় বিচার করেন এবং সরলতায় পৃথিবীস্থ ন¤্রদের জন্যে বিচারসম্পন্ন করে থাকেন। তার মুখের কথাতেই দুষ্ট ধ্বংস হয়ে যায়। যিশাইয় ১১:৪ পদে রয়েছে, “কিন্তু ধর্মশীলতায় দীনহীনদের বিচার করিবেন, সরলতায় পৃথিবীস্থ নম্রদের জন্য নিষপত্তি করিবেন; তিনি আপন মুখস্থিত দÐ দ্বারা পৃথিবীকে আঘাত করিবেন, আপন ওষ্ঠাধরের নিশ্বাস দ্বারা দুষ্টকে বধ করিবেন।” আর দুষ্টরা উপদ্রব ভোগ করবে ও তারা বিচারেই বিনাশ হবে। যিশাইয় ৫৩:৮ পদে রয়েছে, “তিনি উপদ্রব ও বিচার দ্বারা অপনীত হইলেন; তৎকালীয়দের মধ্যে কে ইহা আলোচনা করিল যে, তিনি জীবিতদের দেশ হইতে উচ্ছিন্ন হইলেন? আমার জাতির অধর্ম প্রযুক্তই তাঁহার উপরে আঘাত পড়িল।”
একমাত্র ঈশ্বরই ন্যায়বিচার করে থাকেন। যার মাধ্যমে তিনি পাপীদের শাস্তি দেন এবং ধার্মিকদের পুরস্কৃত করেন। গীত ৯৬:১০ পদে রয়েছে, “জাতিগণের মধ্যে বল, সদাপ্রভু রাজত্ব করেন; জগৎও অটল, তাহা বিচলিত হইবে না; তিনি ন্যায়ে জাতিগণের বিচার করিবেন।” আর ঈশ্বরের বিচারে ধর্মশীলতা থাকবে ও বিশ্বস্ততা থাকবে। গীত ৯৬:১৩ পদে রয়েছে, “সদাপ্রভুর সাক্ষাতেই করিবে, কেননা তিনি আসিতেছেন, তিনি পৃথিবীর বিচার করিতে আসিতেছেন; তিনি ধর্মশীলতায় জগতের বিচার করিবেন, আপন বিশ্বস্ততায় জাতিগণের বিচার করিবেন।” গীত ৯৭:২ পদে রয়েছে, “মেঘ ও অন্ধকার তাঁহার চারিদিকে বিদ্যমান, ধর্মশীলতা ও বিচার তাঁহার সিংহাসনের ভিত্তিমূল।” মীখা ভাববাদী ঈশ্বরকে পবিত্র হিসেবে সমর্থন ও সম্মান জানিয়েছেন। মীখা ৭:৯ পদে রয়েছে, “আমি সদাপ্রভুর ক্রোধ বহন করিব, কারণ আমি তাঁহার বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছি; শেষে তিনি আমার বিবাদে পক্ষবাদী হইয়া আমার বিচার নিষপত্তি করিবেন; তিনি আমাকে বাহির করিয়া আলোকে আনিবেন, আমি তাঁহার ধর্মশীলতা দর্শন করিব।” প্রকাশিত বাক্য ১৯:১১ পদে রয়েছে, “পরে আমি দেখিলাম, স্বর্গ খুলিয়া গেল, আর দেখ, শ্বেতবর্ণ একটি অশ্ব; যিনি তাহার উপরে বসিয়া আছেন, তিনি বিশ্বাস্য ও সত্যময় নামে আখ্যাত, এবং তিনি ধর্মশীলতায় বিচার ও যুদ্ধ করেন।” গীত ৯:৮ পদে রয়েছে, “আর তিনিই ধর্মশীলতায় জগতের বিচার করিবেন, ন্যায়ে জাতিগণের শাসন করিবেন।” দায়ুদ ভক্তিসহকারে ঈশ্বরের কাছে নিজের পবিত্র জীবনযাপনের জন্যে ধর্মশীলতা অনুসারে বিচার করতে আহŸান করেন; যেন ন্যায়সঙ্গত হয় তার জন্যে। গীত ৩৫:২৪ পদে রয়েছে, “সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, তোমার ধর্মশীলতা অনুসারে আমার বিচার কর, উহারা আমার উপরে আনন্দ না করুক।” গীত ৯৮:৯ পদে রয়েছে, “সদাপ্রভুর সাক্ষাতেই করুক, কেননা তিনি পৃথিবীর বিচার করিতে আসিতেছেন; তিনি ধর্মশীলতায় জগতের বিচার করিবেন, ও ন্যায়ে জাতিগণের বিচার করিবেন।” কখনো কখনো ঈশ্বর পাপীদের বিচারের জন্যে কঠোর হয়ে থাকেন। যিশাইয় ৩:১৩ পদে রয়েছে, “সদাপ্রভু বিবাদ করিতে উঠিয়াছেন, তিনি জাতিগণের বিচার করিতে দাঁড়াইয়াছেন।” আর এজন্যে ঈশ্বরভক্তদের আনন্দ করা উচিত। কেননা তিনি ন্যায়ের ঈশ্বর, ন্যায়ে জাতিগণের বিচার করে থাকেন। গীত ৬৭:৪ পদে রয়েছে, “লোকবৃন্দ আহ্লাদিত হইয়া আনন্দগান করুক; যেহেতু তুমি ন্যায়ে জাতিগণের বিচার করিবে, পৃথিবীতে লোকবৃন্দের শাসন করিবে।” যিশাইয় ৫১:৫ পদে রয়েছে, “আমার ধর্মশীলতা নিকটবর্তী, আমার পরিত্রাণ নির্গত হইল, এবং আমার বাহু জাতিগণের বিচার নিষপন্ন করিবে; উপক‚ল সকল আমারই অপেক্ষায় থাকিবে, ও আমার বাহুতে প্রত্যাশা রাখিবে।” গীত ৭:৮ পদে রয়েছে, “সদাপ্রভু জাতিগণের বিচার করেন; হে সদাপ্রভু, আমার ধার্মিকতা ও আমার আন্তরিক সিদ্ধতানুসারে আমার বিচার কর।” আর আমরা জানি যে, পৌলের বিচার কীভাবে হয়েছিলো। প্রেরিত ২৩:৬ পদে রয়েছে, “কিন্তু পৌল যখন বুঝিতে পারিলেন যে, তাহাদের একাংশ সদ্দূকী ও একাংশ ফরীশী, তখন মহাসভার মধ্যে উচ্চৈঃস্বরে কহিলেন, হে ভ্রাতৃগণ, আমি ফরীশী এবং ফরীশীদের সন্তান; মৃতদের প্রত্যাশা ও পুনরুত্থান সম্বন্ধে আমার বিচার হইতেছে।”
কিছু মানুষ গোপনে অনেক পাপকাজে লিপ্ত হয়। তারা মনে করে, তাদের পাপকাজ কেউ দেখে না; কিন্তু ঈশ্বর সবই দেখেন। আর তাদের বিচার অবশ্যই ঈশ্বর করে থাকেন। ইব্রীয় ১৩:৪ পদে রয়েছে, “সকলের মধ্যে বিবাহ আদরণীয় ও সেই শয্যা বিমল [হউক]; কেননা ব্যভিচারীদের ও বেশ্যাগামীদের বিচার ঈশ্বর করিবেন।” আর সেই বেশ্যারা পৃথিবীকে নষ্ট করেছে; অবশ্যই ঈশ্বর তার বিচার করবেন ও তার হাত থেকে নিজের দাসদের রক্ষা করবেন। প্রকাশিত বাক্য ১৯:২ পদে রয়েছে, “কেননা তাঁহার বিচারাজ্ঞা সকল সত্য ও ন্যায্য; কারণ যে মহাবেশ্যা আপন বেশ্যাক্রিয়া দ্বারা পৃথিবীকে ভ্রষ্ট করিত, তিনি তাহার বিচার করিয়াছেন, তাহার হস্ত হইতে আপন দাসগণের রক্তপাতের পরিশোধ লইয়াছেন।” কিন্তু আমরা যখন কারো বিচার করি, তখন যেন অবশ্যই ঈশ্বরের মনোনীত স্থানে সেই বিচার কার্যসম্পন্ন হয়; সে বিষয়ে যতœশীল হতে হবে। দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:৮ পদে রয়েছে, “রক্তপাতের কিম্বা বিরোধের কিম্বা আঘাতের বিষয়ে দুই জনের বিবাদ তোমার কোন নগর-দ্বারে উপস্থিত হইলে যদি তাহার বিচার তোমার পক্ষে অতি কঠিন হয়, তবে তুমি উঠিয়া আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর মনোনীত স্থানে যাইবে;” আর যদি আমরা সঠিক বিচার না করি, তাহলে আমাদের পাপ হবে ও আমরা ঈশ্বরের ক্রোধের মধ্যে পড়বো। ২ বংশাবলি ১৯:১০ পদে রয়েছে, “রক্তপাতের বিষয়ে, ব্যবস্থা ও আজ্ঞার এবং বিধি ও শাসনের বিষয়ে যে কোন বিচার আপন আপন নগরে বাসকারী তোমাদের ভ্রাতাদের দ্বারা তোমাদের নিকটে উপস্থিত হয়, তদ্বিষয়ে তাহাদিগকে উপদেশ দিবে, পাছে তাহারা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে দোষী হয়, আর তোমাদের উপরে ও তোমাদের ভ্রাতাদের উপরে ক্রোধ বর্তে; ইহা করিও, তাহা হইলে তোমরা দোষী হইবে না।” প্রকাশিত বাক্য ৬:১০ পদে রয়েছে, “তাঁহারা উচ্চ রবে ডাকিয়া কহিলেন, হে পবিত্র সত্যময় অধিপতি, বিচার করিতে এবং পৃথিবী-নিবাসীদিগকে আমাদের রক্তপাতের প্রতিফল দিতে কত কাল বিলম্ব করিবে?”
মোশী যখন কোনো বিচার করতেন, তখন সদাপ্রভুর সম্মুখেই বিচার করতেন। গণনা পুস্তক ২৭:৫ পদে রয়েছে, “তখন মোশি সদাপ্রভুর সম্মুখে তাহাদের বিচার উপস্থিত করিলেন।” গণনা পুস্তক ২৭:২১ পদে রয়েছে, “আর সে ইলিয়াসর যাজকের সম্মুখে দাঁড়াইবে, এবং ইলিয়াসর তাহার জন্য সদাপ্রভুর সম্মুখে ঊরীমের বিচার দ্বারা জিজ্ঞাসা করিবে; সে ও তাহার সহিত সমস্ত ইস্রায়েল-সন্তান, অর্থাৎ সমস্ত মÐলী তাহার আজ্ঞায় বাহিরে যাইবে, ও তাহার আজ্ঞায় ভিতরে আসিবে।”
১ শমূয়েল ৭:৬ পদে রয়েছে, “তাহাতে তাহারা মিস্পাতে একত্র হইয়া জল তুলিয়া সদাপ্রভুর সম্মুখে ঢালিল, এবং সেই দিবস উপবাস করিয়া সেই স্থানে কহিল, আমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছি। আর শমূয়েল মিস্পাতে ইস্রায়েল-সন্তানগণের বিচার করিতে লাগিলেন।” ১ রাজাবলি ৮:৫৯ পদে রয়েছে, “আর এই যে সকল কথার দ্বারা আমি সদাপ্রভুর কাছে অনুরোধ করিলাম; আমার এই সকল কথা দিবারাত্র আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সম্মুখে থাকুক; এবং দিন দিন যেমন প্রয়োজন, তেমনি তিনি আপন দাসের ও আপন প্রজা ইস্রায়েলের বিচার সিদ্ধ করুন;” যাত্রাপুস্তক ২৮:৩০ পদে রয়েছে, “আর সেই বিচারার্থক বুকপাটায় তুমি ঊরীম ও তুম্মীম [দীপ্তি ও সিদ্ধতা] দিবে; তাহাতে হারোণ যে সময়ে সদাপ্রভুর সম্মুখে প্রবেশ করিবে, তৎকালে হারোণের হৃদয়ের উপরে তাহা থাকিবে, এবং হারোণ সদাপ্রভুর সম্মুখে ইস্রায়েল-সন্তানদের বিচার নিয়ত আপন হৃদয়ের উপরে বহিবে।” ইয়োব ঈশ্বরের সম্মুখে নিজের বিচার শৃঙ্খলভাবে সাজাবেন বলেছেন। ইয়োব ২৩:৪ পদে রয়েছে, “তবে আমি তাঁহার সম্মুখে আপন বিচার বিন্যাস করিব, আমি নানা হেতুবাদে আপন মুখ পূর্ণ করিব।” আর ঈশ্বরকে আমরা দেখতে পাই না; কিন্তু তিনিই আমাদের সমস্ত বিষয়ের বিচার করে থাকেন। এজন্যে ঈশ্বরের পবিত্রতার জন্যে আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। ইয়োব ৩৫:১৪ পদে রয়েছে, “আর আপনি বলিতেছেন, আমি তাঁহাকে দেখিতে পাই না; বিচার তাঁহার সম্মুখে, তাঁহার অপেক্ষা করুন।” আর ঈশ্বরের বিচার সম্পর্কে বাইবেল বলে দানিয়েল ৭:১০ পদে, “তাঁহার সম্মুখ হইতে অগ্নির স্রোত নির্গত হইয়া বহিতেছিল; সহস্রের সহস্র তাঁহার পরিচর্যা করিতেছিল, এবং অযুতের অযুত তাঁহার সম্মুখে দÐায়মান ছিল; বিচার বসিল এবং পুস্তক সকল খোলা হইল।” আমাদের জীবনে অনেক সময় অন্যায়ভাবে দুষ্টদের দ্বারা বিচারিত হই; তখন যেন আমরা সাবধান থাকতে পারি। মার্ক ১৩:৯ পদে রয়েছে, “তোমরা আপনাদের বিষয়ে সাবধান। লোকে তোমাদিগকে বিচার-সভায় সমর্পণ করিবে, এবং তোমরা সমাজ-গৃহে প্রহারিত হইবে; আর আমার জন্য তোমরা দেশাধ্যক্ষ ও রাজাদের কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত তাহাদের সম্মুখে দাঁড়াইবে।” আমরা পৌলের বিষয়ে জানি। তিনি কীভাবে বিচারিত হয়েছিলেন। প্রেরিত ২৪:২১ পদে রয়েছে, “না, কেবল এই এক কথা, যাহা তাহাদের মধ্যে দাঁড়াইয়া উচ্চৈঃস্বরে বলিয়াছিলাম ‘মৃতদের পুনরুত্থান বিষয়ে অদ্য আপনাদের সম্মুখে আমার বিচার হইতেছে’।” আর পৌলের জীবনে থেকে আমরা শিক্ষালাভ করতে পারি যে, তিনি সততার সাথে নিজের বিচারের জন্যে আহŸান করেছিলেন। কেননা তার মধ্যে কোনো অসততার কিছুই ছিলো না। প্রেরিত ২৫:১০ পদে রয়েছে, “পৌল বলিলেন, আমি কৈসরের বিচারাসনের সম্মুখে দাঁড়াইয়া আছি, এখানে আমার বিচার হওয়া উচিত। আমি যিহূদীদের প্রতি কোন অন্যায় করি নাই, ইহা আপনিও বিলক্ষণ জানেন।” অনেক সময় আমরা অন্যের বিচার করতে উদগ্রীব হই; এমনকি ভাইয়েরও বিচার করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি, আনন্দ পাই; এমনকি তুচ্ছ করতে দ্বিধা করি না। আর এটা সত্য যে আমরা সকলেই ঈশ্বরের বিচারাসনে দাঁড়াবো। রোমীয় ১৪:১০ পদে রয়েছে, “কিন্তু তুমি কেন তোমার ভ্রাতার বিচার কর? কেনই বা তুমি তোমার ভ্রাতাকে তুচ্ছ কর? আমরা সকলেই ত ঈশ্বরের বিচারাসনের সম্মুখে দাঁড়াইব।” অতএব, আমরা যেহেতু খ্রীষ্টের সন্তান; সুতরাং আমরা যেন নিজের বিচার নিজে করতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের অবস্থান বুঝতে পারবো। ২ করিন্থীয় ১০:৭ পদে রয়েছে, “যাহা সম্মুখে আছে, তোমরা তাহাই নিরীক্ষণ করিতেছ। কেহ যদি নিজের উপরে বিশ্বাস রাখিয়া বলে, আমি খ্রীষ্টের লোক, তবে সে পুনর্বার আপনা আপনি বিচার করিয়া বুঝুক, সে যেমন, আমরাও তেমনি খ্রীষ্টের লোক।” আর আমরা আমাদের সমস্ত বিচার যেন ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে পারি। যাত্রাপুস্তক ১৮:১৯ পদে রয়েছে, “এখন আমার কথায় মনোযোগ কর; আমি তোমাকে পরামর্শ দিই, আর ঈশ্বর তোমার সহবর্তী হউন। তুমি ঈশ্বরের সম্মুখে লোকদের পক্ষে হও, এবং তাহাদের বিচার ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত কর,”
আমরা যখন বিচার করি, তখন যেন আমরা ঈশ্বরকে স্মরণ করি; যেন ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা ও বিনতি শুনেন-এতে পবিত্রতার সাথে সঠিক বিচার নিষ্পত্তি হবে। ১ রাজাবলি ৮:৪৯ পদে রয়েছে, “তবে তুমি তোমার নিবাসস্থান স্বর্গে তাহাদের প্রার্থনা ও বিনতি শুনিও, এবং তাহাদের বিচার নিষপত্তি করিও;” ২ বংশাবলি ৬:৩৫ পদে রয়েছে, “তবে তুমি স্বর্গ হইতে তাহাদের প্রার্থনা ও বিনতি শুনিও, এবং তাহাদের বিচার নিষপত্তি করিও।” তাছাড়া বিচার করার পাশাপাশি আমরা যেন ক্ষমাও করতে পারি; কেননা ঈশ্বর আমাদের তা’ শিখিয়েছেন। ২ বংশাবলি ৬:৩৯ পদে রয়েছে, “তবে তুমি স্বর্গ হইতে, তোমার বাসস্থান হইতে তাহাদের প্রার্থনা ও বিনতি শুনিও, এবং তাহাদের বিচার নিষপত্তি করিও; আর তোমার যে প্রজারা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছে, তাহাদিগকে ক্ষমা করিও।” আর যারা ঈশ্বরের অবাধ্য হয়, তারা দোষী হয় এবং তাদের প্রার্থনা পাপরূপে গণিত হয়। গীত ১০৯:৭ পদে রয়েছে, “বিচার সময়ে সে দোষীকৃত হউক, তাহার প্রার্থনা পাপরূপে গণিত হউক।” ১ করিন্থীয় ১১:১৩ পদে রয়েছে, “তোমরা আপনাদের মধ্যে বিচার কর, অনাবৃত মস্তকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা কি স্ত্রীর উপযুক্ত?”১ শমূয়েল ৮:৬ পদে রয়েছে, “কিন্তু, ‘আমাদের বিচার করিতে আমাদিগকে একজন রাজা দিউন;’ তাঁহাদের এই কথা শমূয়েলের মন্দ বোধ হইল; তাহাতে শমূয়েল সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করিলেন।” ১ রাজাবলি ৮:৪৫ পদে রয়েছে, “তবে তুমি স্বর্গে তাহাদের প্রার্থনা ও বিনতি শুনিও, এবং তাহাদের বিচার নিষ্পত্তি করিও।”
ঈশ্বরই দাসদের বিচার করবেন এবং তারা ঈশ্বর ন্যায়বিচার প্রাপ্য হবে। আদিপুস্তক ১৫:১৪ পদে রয়েছে, “আবার তাহারা যে জাতির দাস হইবে, আমিই তাহার বিচার করিব; তৎপরে তাহারা যথেষ্ট সম্পদ লইয়া বাহির হইবে।” যীশু অবাধ্য ও ফাঁকিবাজ দাসের বিচার করেছিলেন। সেই দুষ্ট দাসের কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেই দাসের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। লূক ১৯:২২ পদে রয়েছে, “তিনি তাহাকে কহিলেন, দুষ্ট দাস, আমি তোমার নিজ মুখের প্রমাণে তোমার বিচার করিব। তুমি না জানিতে, আমি কঠিন লোক, যাহা রাখি নাই তাহাই তুলিয়া লই, এবং যাহা বুনি নাই, তাহাই কাটি?” আবার ঈশ্বরই আপন দাসদের উপরে সদয় হয়ে থাকেন। গীত ১৩৫:১৪ পদে রয়েছে, “কারণ সদাপ্রভু আপন প্রজাদের বিচার করিবেন, আপন দাসগণের উপরে সদয় হইবেন।” কেননা ঈশ্বরের দাসেরা মনোনীত ও তাদেরকে ধারণ করে থাকেন। যিশাইয় ৪২:১ পদে রয়েছে, “ঐ দেখ, আমার দাস, আমি তাঁহাকে ধারণ করি; তিনি আমার মনোনীত, আমার প্রাণ তাঁহাতে প্রীত; আমি তাঁহার উপরে আপন আত্মাকে স্থাপন করিলাম; তিনি জাতিগণের কাছে ন্যায় বিচার উপস্থিত করিবেন।” আর ঈশ্বর আপন দাসদের বিচার করেন ও সে অনুযায়ী প্রতিফল দিয়ে থাকেন। ১ রাজাবলি ৮:৩২ পদে রয়েছে, “তবে তুমি স্বর্গে তাহা শুনিও, এবং নিষ্পত্তি করিয়া আপন দাসদের বিচার করিও; দোষীকে দোষী করিয়া তাহার কর্মের ফল তাহার মস্তকে বর্তাইও, এবং ধার্মিককে ধার্মিক করিয়া তাহার ধার্মিকতানুযায়ী ফল দিও।” আর ঈশ্বরই নিজ দাসদের বুঝবার মতো চিত্ত প্রদান করে থাকেন। ১ রাজাবলি ৩:৯ পদে রয়েছে, “অতএব তোমার প্রজাদের বিচার করিতে ও ভাল মন্দের বিশেষ জানিতে তোমার এই দাসকে বুঝিবার চিত্ত প্রদান কর; কারণ তোমার এমন বৃহৎ প্রজাবৃন্দের বিচার করা কাহার সাধ্য?” কেননা তাঁর দাসেরাই তাঁর আরাধনা করে থাকে। প্রেরিত ৭:৭ পদে রয়েছে, “আর তাহারা যে জাতির দাস হইবে, আমিই তাহার বিচার করিব,” ঈশ্বর আরও কহিলেন, “তৎপরে তাহারা বাহির হইয়া আসিবে, এবং এই স্থানে আমার আরাধনা করিবে।” আদিপুস্তক ১৬:৫ পদে রয়েছে, “তাহাতে সারী অব্রামকে কহিলেন, আমার প্রতি কৃত এই অন্যায় তোমাতেই ফলুক; আমি আপনার দাসীকে তোমার ক্রোড়ে দিয়াছিলাম, সে আপনাকে গর্ভবতী দেখিয়া আমাকে তুচ্ছ জ্ঞান করিতেছে; সদাপ্রভুই তোমার ও আমার বিচার করুন!” ঈশ্বর ভাববাদিগণকেও পবিত্র দাস হিসেবে গণ্য করেন। প্রকাশিত বাক্য ১১:১৮ পদে রয়েছে, “আর জাতিগণ ক্রুদ্ধ হইয়াছিল, কিন্তু তোমার ক্রোধ উপস্থিত হইল, আর মৃত লোকদের বিচার করিবার সময় এবং তোমার দাস ভাববাদিগণকে ও পবিত্রগণকে ও যাহারা তোমার নাম ভয় করে, তাহাদের ক্ষুদ্র ও মহান সকলকে পুরস্কার দিবার, এবং পৃথিবী-নাশকদিগকে নাশ করিবার সময় উপস্থিত হইল।” আর অবশ্য একজন প্রভুর দাস তার কৃতকর্মের জন্যেই নিজেই বিচারে আনীত হবে। ১ রাজাবলি ২০:৪০ পদে রয়েছে, “কিন্তু আপনার দাস আমি এদিকে ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম, ইতিমধ্যে সে কোথায় চলিয়া গেল। তখন ইস্রায়েলের রাজা তাহাকে কহিলেন, ঐরূপই তোমার বিচার হইবে; তুমি নিজেই তাহা স্থির করিলে।” যাত্রাপুস্তক ৫:২১ পদে রয়েছে, “তাহারা তাঁহাদিগকে কহিল, সদাপ্রভু তোমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া বিচার করুন, কেননা তোমরা ফরৌণের দৃষ্টিতে ও তাঁহার দাসগণের দৃষ্টিতে আমাদিগকে দুর্গন্ধস্বরূপ করিয়া আমাদের প্রাণনাশার্থে তাহাদের হস্তে খড়্গ দিয়াছ।” দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৩৬ পদে রয়েছে, “কারণ সদাপ্রভু আপন প্রজাদের বিচার করিবেন, আপন দাসদের উপরে সদয় হইবেন; যেহেতু তিনি দেখিবেন, তাহাদের শক্তি গিয়াছে, বদ্ধ কি মুক্ত কেহই নাই।” ২ বংশাবলি ৬:২৩ পদে রয়েছে, “তবে তুমি স্বর্গ হইতে তাহা শুনিও, এবং নিষপত্তি করিয়া আপন দাসদের বিচার করিও; দোষীকে দোষী করিয়া তাহার কর্মের ফল তাহার মস্তকে বর্তাইও, এবং ধার্মিককে ধার্মিক করিয়া তাহার ধার্মিকতানুযায়ী ফল দিও।”
আর আমাদের পাপের জন্যে বিচার জীবনে বিচার উপস্থিত হবে; কেননা তখন যন্ত্রণায় কষ্ট উপস্থিত হবে। প্রকাশিত বাক্য ১৮:১০ পদে রয়েছে, “তাহার যন্ত্রণার ভয়ে দূরে দাঁড়াইয়া তাহারা বলিবে, হায়! হায়! সেই মহানগরীর, বাবিলের সেই পরাক্রান্ত নগরীর সন্তাপ, কারণ এক ঘণ্টার মধ্যেই তোমার বিচার উপস্থিত!” আর এভাবেই মানুষের জীবনে বিচার উপস্থিত হয়ে থাকে। আর জগতেরও বিচার উপস্থিত, যারা অন্যায়ে লিপ্ত তাদেরকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে। যোহন ১২:৩১ পদে রয়েছে, “এখন এই জগতের বিচার উপস্থিত, এখন এই জগতের অধিপতি বাহিরে নিক্ষিপ্ত হইবে।” ২ পিতর ২:১১ পদে রয়েছে, “স্বর্গদূতগণ যদিও বলে ও পরাক্রমে মহত্তর, তথাপি প্রভুর কাছে তাঁহারাও উঁহাদের বিরুদ্ধে নিন্দাপূর্ণ বিচার উপস্থিত করেন না।”
সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ২৬ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন









