শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতির কালো ছায়া : বেগম আয়েশা স্কুলের ছাত্রীদের বিক্ষোভ

সম্পাদকীয়

প্রিয় সময়ে ‘দোহারে বেগম আয়েশা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রীদের বিক্ষোভ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের সমাজকে হতাশ করেছে। আমরা জানতে পেরেছি, ১৪ সেপ্টেম্বর, দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে শত শত ছাত্রীর স্বতঃস্ফ‚র্ত বিক্ষোভ এক গভীর সঙ্কটের ইঙ্গিত দেয়। প্রধানশিক্ষিকা কুলছুম বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি কেবল একটি স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়ের এক প্রতিফলন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের মন্দির, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। কিন্তু যখন সেই মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের বিরুদ্ধেই অর্থ আত্মসাৎ, বেঞ্চ চুরি, এবং অন্যান্য দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন তা’ শিক্ষার্থীদের মনে শুধু হতাশা নয়, ক্ষোভেরও জন্ম দেয়। এ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি ছাত্রীদের বিক্ষোভে, যারা ন্যায়বিচার ও সুশাসনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষিকার পলাতক থাকা এবং তার বিরুদ্ধে ৭৫টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্তে¡ও কেনো দ্রæত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা’ একটি বড় প্রশ্ন। ছাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গরীব ছাত্রীদের প্রতি তার দুর্ব্যবহারও ছিলো অসহনীয়। একজন শিক্ষকের কাছে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রধানশিক্ষিকা অনুপস্থিত থাকলেও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা আমাদের হতাশ করে। শিক্ষার্থীরা যখন নিজ অধিকার আদায়ে পথে নামে, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতোটা গুরুতর। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত ছিলো দ্রæত এ অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, যা’ তারা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এখন সময় এসেছে প্রশাসনের জন্যে দ্রæত পদক্ষেপ নেয়ার। ছাত্রীদের বিক্ষোভ কেবল সাময়িকভাবে থামিয়ে ক্লাসে ফেরত পাঠানোই যথেষ্ট নয়। তাদের অভিযোগের সুষ্ঠু ও দ্রæত তদন্ত হয়া এবং দোষী প্রমাণিত হলে প্রধানশিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। এটি শুধু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে না; বরং শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

তা’ না হলে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি আরো দুর্বল হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের প্রতি আস্থা হারাবে। বেগম আয়েশা স্কুলের ঘটনাটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবরো সামনে নিয়ে এসেছে। এখন শুধু পরবতী পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় রইলাম আমরা।

শেয়ার করুন
সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

You might like