

বিশেষ প্রতিবেদন :
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর আগে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে আরেকটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগদান করেছেন। অপর প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ-সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশে দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় ২৪তম মন্ত্রিসভা। মোট ৫০ সদস্যের এই বিশাল মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।
মন্ত্রিসভার গঠন ও বৈশিষ্ট্য
– প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের হাতে রেখেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
– অর্থ, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি—সব গুরুত্বপূর্ণ খাতে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের সমন্বয় করা হয়েছে।
– তরুণ প্রতিমন্ত্রীদের মাধ্যমে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রশাসনিক সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
– অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন।
– তরুণ নেতৃত্ব: নতুন প্রজন্মের প্রতিমন্ত্রীরা প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবেন।
– প্রশাসনিক দক্ষতা: অনেক মন্ত্রী অতীতে সংসদ সদস্য বা বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাদেরকে নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সম্ভাব্য সাফল্যের ক্ষেত্র
– অর্থনীতি পুনর্গঠন: অভিজ্ঞ অর্থমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নেতৃত্বে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মুদ্রানীতি সংস্কারে জোর দেওয়া হবে।
– শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: তরুণ প্রতিমন্ত্রীদের মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
– কৃষি ও শিল্প: অভিজ্ঞ কৃষি মন্ত্রী গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারবেন, শিল্পমন্ত্রী রপ্তানি ও শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত খুলতে পারেন।
– পররাষ্ট্রনীতি: অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
চ্যালেঞ্জ
– দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
– রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।
– দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
– জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ফল দেখাতে হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা অভিজ্ঞতা ও তরুণ উদ্যমের এক অনন্য সমন্বয়। তারা যদি দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তবে অতীতের তুলনায় ভালোভাবে দেশ পুনর্গঠন সম্ভব। তবে সাফল্য নির্ভর করবে তাদের বাস্তবায়ন ক্ষমতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের উপর।
প্রকাশিত : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ















