

সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি:
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর থেকে মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে বাদীর বসত বাড়িতে তার মায়ের শয়ন কক্ষে অজ্ঞাতনামা আসামীগণ প্রবেশ করে বাদীর মা শাহানাজ বেগম (৭১) কে, হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে বগুড়ার জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (শিবগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ শাহীনুজ্জামান, অফিসার ইনচার্জ, শিবগঞ্জ থানা, এর তত্ত্বাবধায়নে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এরশাদ আলীসহ এসআই উৎপল কুমার বোস, এসআই মঞ্জয় কুমার কুন্ডুসঙ্গীয় ফোর্সসহ একটি চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবাব গত ১ নং ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের কুপা গ্রামের স্বামী মৃত জিললুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ সুলতানা বেগম (৪৭), কে তার নিজ বসত বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে, গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখিত আসামীকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় যে, তার বিদেশ ফেরত ছেলে রোহান রহমান সিয়াম (৩০) বর্তমানে বেকার হওয়ায় চরমভাবে আর্থিক সংকটাপন্ন হয়ে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এতে সে দিন দিন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য ধৃত আসামী ও তার ছেলে আসামী রোহান রহমান, সিয়াম (৩০) প্রতারণার পথ বেছে নেয়। আসামীরা মিলে যে সব বাড়িতে সাধারণত পুরুষ মানুষ থাকে না সে সব বাড়ি মা ও ছেলে মিলে চিহ্নিত করে বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে আত্বীয়তা সম্পর্ক গড়ে তোলে সুযোগ বুঝে টাকা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সুযোগ না পাওয়ায় তাদের এই পরিকল্পনা সফল হয় না বলে স্থানীয় ভাবে জানা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় অত্র মামলার ঘটনার তারিখ ও সময়ে ধৃত আসামী মোছাঃ সুলতানা বেগম (৪৭) ও তার ছেলে আসামী রোহান রহমান সিয়াম (৩০) ডিসিস্ট শাহানাজ বেগম (৭১), অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে, খোশ গল্প করিতে থাকে এবং ডিসিস্ট এর বাসায় নাস্তা করে। নাস্তা করার পরে ডিসিস্টের ছেলের বৌ সৈয়দা জিন্নাত আক্তার রিয়া তার ছোট সন্তান কে নিয়ে নিজ ঘরে যায় এবং আসামী মোছাঃ সুলতানা বেগম (৪৭) ও তার ছেলে রোহান রহমান সিয়াম (৩০) কে নিয়ে নিজ ঘরে গিয়ে গল্প করতে থাকে।
গল্পের এক পর্যায়ে আসামী মোছাঃ সুলতানা বেগম (৪৭) ও তার ছেলে রোহান রহমান সিয়াম (৩০) মোছাঃ শাহানাজ বেগম এর নিকট টাকা ধার চাইলে ডিসিস্ট শাহানাজ বেগম টাকা ধার দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আসামীদ্বয় ক্ষিপ্ত হয়ে পরস্পররের সহযোগিতায় শাহানাজ বেগমকে জিম্মি করে, জোরপূর্বক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার চেষ্টা করে।
বাধা প্রদান করায় আসামীদ্ব মুখ বেধে চাকু দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আসামী সুলতানার সহযোগীতায় আসামী রোহান রহমান সিয়াম (৩০) এর গলার গভীর রক্তাক্ত ক্ষত জখম করে। পাশের ঘরে থাকা ছেলের বৌ সৈয়দা জিন্নাত আক্তার রিয়া তার শাশুড়ির ঘর থেকে তার শাশুড়ি এর গলার অস্বাভাবিক কণ্ঠস্বর শুনে ছেলের বৌ সৈয়দা জিন্নাত আক্তার রিয়া তার শাশুড়ির ঘরে যেতে চাইলে দেখেন যে, তার নিজ ঘরের দরজা বাহির থেকে আটকানো। তখন ছেলের বৌ সৈয়দা জিন্নাত আক্তার রিয়া জানালা দিয়ে পাশের বাড়ির ভাবিসহ অন্যান্য লোকজনদের ডাকাডাকি করলে আসামীদের দ্রুত পালিয়ে যায়। পাশের বাড়ির লোকজন এসে ছেলে বৌ সৈয়দা জিন্নাত আক্তার রিয়ার ঘরের দরজা খুলে দিলে সৈয়দা জিন্নাত আকার রিয়া ঘর থেকে বাহির হয়ে তার শাশুড়ির ঘরে যেয়ে দেখে তার শাশুড়ি শাহানাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছে। পরে পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামী সুলতানা বেগম (৪৭) ঘটনার দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধী প্রদান করেন।
সূত্রঃ- বগুড়া এর শিবগঞ্জ থানার এফআইআর নং-১৩, তারিখ-৬ এপ্রিল ২০২৬; জি আর নং-১১৪।
প্রকাশিত : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.
















