
কথিকা
ক্ষুদীরাম দাস :
মায়ের রুমটা আমি পরিস্কার করছিলাম। তখনই আমার চোখ পড়লো টেবিলে রাখা ডায়রীটার উপর। মা ডায়রী দিয়ে কী করছে। আমার কৌত‚হল বেড়ে গেলো দেখার জন্যে। প্রথম পাতায় লেখা আছে আমার ডায়রী।

লেখাটা পড়ে আমার খুবই আশ্চর্যবোধ হলো। পরের পাতা খুলতেই দেখি আমার ছবি। আমার ছোটকালের পুরনো ছবি। ঠিক তার নিচে লেখা আমার কলিজা। মা আমাকে খুবই ভালোবাসেন। বাবা যখন মারা যায় তখন আমি এসএসসি পরীক্ষার্থী। মা সে সময় খুবই ভেঙ্গে পড়েছিলেন। যাহোক আমি ডায়রীর পরের পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে দেখলাম আমাকে নিয়ে মায়ের অনেক কবিতা লেখা আছে। আমি মুচকি হাসলাম। তারপরের পাতায় দেখলাম অদ্ভুত কথা।
লেখা আছে-আমার ছোট ছেলেটার বিয়ে হচ্ছে। আরে না সে এখন আর ছোট নয়। অনেক বড় হয়েছে। এখন চাকুরি করে। দায়িত্ব নিতে শিখে গেছে।
তারপরের পাতায় দেখলাম-মেয়েটা তার পছন্দের। সংসার করবে সে, সুতরাং পছন্দ তার হলেই ভালো। তার পছন্দ আমার ভালো লাগলো। আমি আমার ছেলের কোনো চাহিদা অপূর্ণ রাখিনি। তাই তো তাদের পছন্দেই আমি সবকিছু করেছি। আমি আশির্বাদ করি, তারা যেনো সুখী হয়।
এতোটুকু পড়েই আমার ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো। মা তো আমার কতো আশা নিয়ে এসব লিখেছে। কিন্তু বাস্তবে আমার মা কী পাচ্ছে-তার ছেলের বউয়ের কাছে? আমার বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে। কান্না আসছে হুঁ হুঁ করে। আমার মায়ের আশা কি পূর্ণ হয়েছে?











