মুজিববর্ষে ফরিদগঞ্জে প্রধানন্ত্রী’র উপহার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :

১১ জুলাই শনিবার ফরিদগঞ্জের বাঘড়াবাজারের আশ্রয়ন প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। তিনি উপস্থিত এলাকাবাসী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সুবিধাভোগী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মহান সৃষ্টিকর্তার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, আমি গর্ববোধ করছি, বাংলাদেশের মতো একটি দেশে জন্মাতে পেরে। যে দেশের সরকার প্রধান দেশের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে যথানিয়মে কাজ করে যাচ্ছে। আমরাও সরকারের নির্দেশ মোতাবেক ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছি।

 

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে ভূমিহীনদের ঘর প্রদানের যে কর্মসূচি নিয়েছে, সেই প্রকল্পের ঘর চাঁদপুরের প্রতিটি উপজেলায় বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনো চলমান রয়েছে। আমি নিজে চাঁদপুরের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে নির্মাণ করা ঘরগুলো সর্ম্পকে জানি। সেগুলো অনেক ভালো হয়েছে। নিশ্চিত থাকার পরও স্থানীয় একটি পত্রিকায় রির্পোটের কারনে তারপরও আমি নিজে আজ (গতকাল ১১ জুলাই) রোববার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাগড়া বাজারের ঘরগুলো দেখতে এসেছি। বাস্তব পরিস্থিতি দেখে আমি অভিভূত। আমি নিজে প্রতিটি স্থান ঘুরে দেখেছি, বরাদ্দপ্রাপ্ত লোকজনের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এসব ভূমিহীন লোকজনের জন্য ঘর প্রতি বরাদ্দ হওয়া ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকারও বেশি কাজ করেছেন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় পত্রিকায় যে তথ্যগুলো সর্ম্পকে বলা হয়েছে, যেমন সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ সংযোগসহ তার সবকিছুই এখানে রয়েছে। তাই এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

 

তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক অঙ্গীকারের মধ্যে একটি আশ্রয়হীনদের আশ্রয় প্রদান। এ প্রকল্পে যারা ভূমিহীন তাদের জন্য সরকার খাস জমিতে ঘর বানিয়ে আশ্রয় প্রদান করছেন। চলতি বছরের ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালিভাবে একযোগে বাংলাদেশের সকল উপজেলায় ঘর প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা ইউনিয়নের বাঘড়াবাজারে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে অত্যন্ত নান্দনিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন ১৩টি ঘর ও ১৬নং রূপসা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ৭টি ঘরসহ জমির কাগজপত্র ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ২০টি পরিবারের বেশির ভাগই ইতোমধ্যে সেসব ঘরে বসবাস শুরু করেছেন। বাকি সুবিধাভোগীদের মধ্যে যারা এখনো ঘরে উঠেনি, তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে বলে সুবিধাভোগী ও স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান।

 

তিনি আরো বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি সরকারের একজন বিচক্ষণ কর্মকর্তা। প্রতিটি ঘরের জন্য যে পরিমান অর্থবরাদ্দ, তাতে আমি নিজেই বিশ্মিত যে, কীভাবে প্রকল্পটি সে সম্পাদন করেছে। নদীর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে ঘর ছাড়াও পুরো প্রকল্পটিকে ইটের সলিং দিয়ে চমৎকার পরিবেশে তৈরি, বিদ্যুৎ সংযোগ, নিরাপদ সুপেয় পানির জন্য যথেষ্ট পরিমান ডিপ টিউবয়েল স্থাপন। নির্বাহী কর্মকর্তাসহ যারা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ সুবিধাভোগীদের কাছে গৃহায়নের সুবিধা, অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে সকলেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, ভাবিনি কখনো সকল ব্যবস্থাসহ এমন একটি চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন ঘর আমরা পাবো। সকলের সাথে আলাপ ও মতামত নিয়ে এবং কাজের গুনগত মান দেখে চাঁদপুরের জেলা প্রসাশক অঞ্জনা খান মজলিশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম থাকার তো প্রশ্নই উঠে না।

এছাড়া একইদিনে বিকেল ৫টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি তার কার্যালয়ে গৃহায়ন প্রকল্প সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আবেদন যাচাই বাছাই করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর নির্মাণ ব্যায় এবং কাজের ধরনসহ সকল কিছুরই সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘর হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিতা শেষ হলেও কিছু কিছু কাজ বাকি থাকার কারনে কিছু পরিবার বরাদ্দ পাওয়ার পরও এখনো ঘরে উঠছে না। তবে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি এবং অতিব জরুরি কাজগুলো শেষ হয়েছে। এখন চলছে সুসজ্জিত করার কাজ। এর অনেক কিছুই বরাদ্দে নেই, কিন্তু আমরা তা করেছি। খুটিনাটি সকল বিষয় সম্পাদন করে দিয়েছি। কেউ না জেনে, না বুঝে বা কথা না বলে তথ্যহীন একটি অবান্তর সংবাদ পত্রিকায় ছাপিয়ে দিলেই তা সত্যি বলে ধরা যায় না। আমি সকল সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করবো, কোথাও কোনো ভুল চোখে পড়লে, তা আমাকে জানাবেন এবং তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিশেন করে জাতির বিবেক হিসেবে আপনাদের পরিচয় তুলে ধরবেন।

 

এএমএসএইচ

You might like