
যুবক অনার্য
প্রত্যাশিত নই,অপ্রত্যাশিত হইয়া তবু
মনুষ্য শরীরে বিচরণ করি,
সদা সত্য বলিতে যাইয়া
কদাচ মিছা বলি, বলি যে – আমি কস্মিনকালেও বলিনি মিছেরূপ কিছু!
জগৎ উদ্ভাসিত নয় সকলের চোখে।

কতিপয় আরাধ্য আছে অন্ধতার মতো কূপের মধ্যে ডুবাইয়া দেয় ;
কতিপয় ক্রোধ যাহা কাপুরুষোচিত
যেমন বধুকে বেত্রাঘাত করা।
বলি- চিত্রকল্পে উপমা বসাইয়া
যে সকল হলো কাব্যকথামালা
এখানে ভেবে দেখো
লিখিয়াছো কথা কিম্ভূতস্বরে-
লিখিয়াছো কিছু নস্টালজিয়াপ্রসূত ভাবাবেগ – এই করিয়া সক্ষম নয় কলাকৈবল্যবাদী পরিবহন
অতিক্রম করিতে বহুদুর পথ
তবে লিখিয়া যদিচ লও – আমি
ধর্ম মানি না ঈশ্বর সমাজ সংস্কার
মানি না কিছুই;লইলেও
কবিতা হইবে না যেমন এক আধা কবি যৌনতা প্রোথিত করিয়া উহাকে
পরিবৃত করিল যে পোশাক
যেনো বা চটিজাত বায়ানাক্যার
সুডৌল কারুকাজ যেমন সুবিমলমিশ্রের বইসংগ্রহের কিয়দংশ এমতো খিস্তি খেউড় তবে ভুলিলে চলিবে না
মিশ্রবাবু প্রতিভা বটে, খাঁটিভাগ
প্রতিষ্ঠানবিরোধী লেখক
এবং যাপিত জীবন জুড়িয়া
তদ্রুপ হইয়াছেন ব্রতচারী।
আহা মিশ্রদা’র সঙ্গে দেখা হইলে
লাগিত কতোইনা ভালো
কিন্তু সেই কপাল আমার না জন্মিয়াই মরিয়া মরনোত্তর হইয়াছে
শ্মশানের মতো।
বলিতেছিলাম- কবিতার কথা-
‘কবিতার কথা’ র ভাষা অইরূপ
সমাদৃত নহে যদ্রুপ কবিতা
জীবন বাবুর,
এবং উহার দু’ চার চিন্তন
পাশ্চাত্য হইতে ধার করিয়া
লইবার গন্ধখানিও বিরল নহে –
যদি বলি খুব কি হইবে অমুলক
সাহিত্যাচার নিদেনপক্ষে নিবন্ধাচার!
থাক কবিতা ও ‘কবিতার কথা’ থাক।
সম্প্রতি নতুন এক চিন্তা লইয়া
চলিছে নাড়াচাড়া অথচ বিষয়
নতুন তো নহেই বরং মীমাংসিত
বহুযুগ সেঁচে; হইলো তাহা –
নীল এ গ্রহখানি কমলালেবু সদৃশ
নাকি লম্বাটে চ্যাপ্টা সদৃশ।
নাড়াচাড়া তো হইবেই, উহাইতো পুংদন্ডখানি নাড়াইবার মতো বিজ্ঞানের সমুহ নীতিচার। মুশকিল হইলো
এহেন চাড়ানাড়া মানে লম্বা না গোল
ইত্যাদি হইতে নাকি
প্রমাণ হওয়া সম্ভব –
ঈশ্বর ধর্ম সত্য নাকি কেবলি বুজরুকি! বলি, যদিও তিক্ততাসমেত বচন
অধিকন্তু চর্বিতচর্বন, সর্বাগ্রে
নিজের ভিতর এক সত্য সবুজ
বৃক্ষ- বীজ বপন করিয়া লওয়াই
অধিকতর সৃষ্টিসূচক, যে, কেননা,
ধর্ম সৃষ্টির পূর্বেই মানুষ
সৃজিত হইয়া এ ভবে
গমনাচার সম্পাদন করিয়াছিলো । বিচরণশীল সেই কালে
ধর্মবিদ্ধবন্টননামা প্রত্যাখ্যান করিয়া রিপুতাড়িত উপাখ্যানচরিত
প্রথম রক্তাক্ত করিয়াছিলো
রক্তসম্পর্কিত সহোদর –
ইহা আমার কথা নহে,জগতের তাবৎ গ্রন্থজন এ কথায় সহমত হইয়া
পুনয়ায় ধর্মের ধ্বজা লইয়া ময়দানে আবর্তিত হইলেন- সেই থেকে
ধর্ম রহিয়া গেলো, রহিয়া গেলো
ধর্মের দোহাই পাড়িয়া দ্বিতীয় তৃতীয়
এইভাবে অগণিত খুন আর
সুসজ্জিত হইয়া
মনুষ্য রক্তপানের শহিদী উৎসব!









