কুমেক কর্মচারী খায়েরের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ, দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৩ অক্টোবর ২০২৩

অবশেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটরের (সাবেক টেলিফোন অপারেটর) মো. আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুমিল্লার উপ-সহকারী পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান রুবেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুমিল্লার উপ-পরিচালক বরাবর বাদী সিদ্দিকুর রহমান রুবেলের লিখিত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামী আবুল খায়ের ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা তার সম্পদ বিবরণীতে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৩৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামী আবুল খায়েরের সম্পদ বিবরণী তলব করা হলে তিনি ২০২১ সালের ১ নভেম্বর তা দুদকে দাখিল করেন। এতে তিনি ১ কোটি ৬৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৪ টাকার সম্পদের ঘোষণা করলেও, দুদকের তদন্তে আসামির বৈধ সম্পদ পাওয়া যায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ১ হাজার ৮১৮ টাকার। আর বাকি ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬৬ টাকার সম্পদ আসামি অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন।

বিষয়টি প্রিয় সময় ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুমিল্লার উপ-পরিচালক ফজলুল হক। তিনি জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি দাখিল করা তার সম্পদ বিবরণীতে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৩৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে প্রমাণ পায় দুদক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামি মো. আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত আবুল খায়েরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দুদকের মামলার বিষয়ে আমার কাছে কোনো চিঠি বা কপি পাইনি। তাই, এবিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে, দুদক থেকে আমার সম্পদের হিসেব চেয়ে চিঠি দিয়েছিলো, আমি আমার সম্পদের হিসেব দিয়েছি। আর আমি বাড়ী করার ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজন এবং ব্যাংকের কাছথেকে লোন করতে হয়েছে আমার।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোটিপতি কর্মচারী আবুল খায়েরের দুর্নীতির যতো কথা:
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টেলিফোন অপারেটর আবুল খায়ের। কর্মচারী হলেও রয়েছে বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পদ। হাসপাতাল অভ্যন্তরে স্ত্রীর নামে রোগীদের খাবার সরবরাহের ঠিকাদারী, তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের নামে হাসপাতালের অভ্যন্তরে কাপড় ধোলাই ও পথ্য সরবরাহের ঠিকাদারী কাজ করেছেন। তদন্তে এসবের প্রমান পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক টিম ও গোয়েন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে হাসপাতালের ঠিকাদারী কার্যাদেশ ও তার স্ত্রীর নামে জমা দেয়া ট্রেড লাইসেন্স জব্দ করেছে।

একটি সূত্র জানায়, ২০১২-১৩ সালে এই হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক ডাঃ জিয়াউর রহমানের প্রধান সহযোগি হিসেবে ভূয়া জখমী সনদ বাণিজ্য করে বিপুল টাকা কামায়। সে সময় একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডাঃ জিয়ার বিরুদ্দে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও, চোখের অন্তরালে থেকে যান আসল নায়ক খায়ের।

শুরুতে হাসপাতালে মোট ৭০টি টেলিফোনে সেট ছিল। প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হয়েছিলো। অভিযোগ রয়েছে পরবর্তীতে ৫/৬টি সেট নষ্ট দেখিয়ে সে বিক্রি করে দিয়ে নিরা টেলিকম নামে হাসপাতালের সামনে লাল মিয়া ম্যানশনে একটি টেলিফোন দোকান পরিচালণা করে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা ব্যবসা করেন খায়ের।

তার নামে বেনামে রয়েছে গাড়ি ও এ্যাম্বুলেন্স। কুচাইতলী এলাকায় তৈরী করেছেন ২টি বাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ।

হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকারী এসব বিষয়ে আবুল খায়েরকে দু’দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে টেলিফোন একচেঞ্জ, পিএ সেট ও টেলিফোনসেট কোথায় আছে এবং তা হাসপাতালে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোন উত্তর দেননি। পরে বিষয়টি গড়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পর্যন্ত।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আবুল খায়েরকে বদলীসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আউনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের হাজিরা খাতায় খায়ের স্বাক্ষর করলেও অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে।

এব্যাপারে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রিয় সময় প্রতিনিধিকে জানান, দুদকের মামলা হয়ছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদে দেখেছি। দুদক থেকে যেহেতু কোনো পত্র পাইনি, সেহেতু এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে, তার হাসপাতালে অনুপস্থিতির ব্যপারে তাকো কারন দর্শানোর নোটিশ করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

You might like