

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা: ১৭ মার্চ ২০২৪
কুমিল্লা শাসনগাছা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের হত্যার ঘটনায় ৩৬ ঘন্টার মধ্যেই ০৭জন আসামী গ্রেফতার এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০৭ রাউন্ড গুলি, ০৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার।
এব্যাপারে কুমিল্লা পুলিশ সুপার সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মংনেথোয়াই মারমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (ক্রাইম এন্ড অপস্) খন্দকার আশফাকুজ্জামান- বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কামরান হোসেন, কোতোয়ালী থানার ওসি ফিরোজ হোসেন, কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীনেশ দাশ গুপ্ত প্রমুখ।
পুলিশ সুপার জানান, কুমিল্লা শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক মহিলা যাত্রীর সাথে মাইক্রোবাস ড্রাইভার ও লাইনম্যান এর তর্ক-বিতর্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসনগাছা মধ্যপাড়া এবং মোল্লা পাড়ার লোকজনের মাঝে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
উক্ত ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং জামিল হাসান অর্ণব নামে একজন নিহত হন। ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের ‘মা ঝর্ণা আক্তার বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় এজাহার নামীয় ২৫জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ এবং জেলা ডিবি কাজ শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এজাহার নামীয় আসামী খলিলুর রহমানকে শাসনগাছা মোল্লা বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে তার বক্তব্য থেকে এজাহারনামীয় আসামী রিয়াজসহ বাকী ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, শাসনগাছা লেগুনা ও সিএনজি অটোরিকশাস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে শাসনগাছা মধ্যমপাড়া দফাদার বাড়ি ও মোল্লা বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৫ মার্চ শুক্রবারে মধ্যমপাড়ার আবুল কাশেমের দলের সঙ্গে মোল্লা বাড়ির ফজলে রাব্বি ও আলাউদ্দিনের দলের সংঘর্ষ এবং গোলাগুলি হয়। ঘটনাস্থলে ০১ নং আসামী ফজলে রাব্বি ও ২ নং আসামী খলিলুর রহমানের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র পিস্তল দ্বারা গুলিবর্ষণ করে এবং অন্যান্য সহযোগীরা ইট-পাটকেল দিয়ে আক্রমণ করে, কোন রাজনৈতিক আধিপত্য নয়। পুলিশ তদন্ত চলমান অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে ফলোআপ দেওয়া হবে বলে জানান।
০২টি বিদেশী পিস্তল, ০৭ রাউন্ড গুলি, ০৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা আলাদা ০২টি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুমিল্লা শাসন গাছা ( মোল্লা বাড়ী) এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে ফজলে রাব্বি (৩০), কোতোয়ালি থানার, গর্জন খোলা ( বর্তমানে শাসন গাছা লিপি মেম্বার বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত রফিক মিয়ার ছেলে মো সুমন (২৮), শাসন গাছা (দক্ষিণ বাড়ি) এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে রাশেদ (৩৮), শাসন গাছা (মোল্লা বাড়ির) আনোয়ার মিয়ার ছেলে কাউছার(২০), শাসন গাছা ( মোল্লা বাড়ীর) মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে খলিলুর রহমান (৬০), শাসন গাছা ( মোল্লা বাড়ীর) মৃত হাবিবুর রহমান প্রকাশ হাবু মিয়ার ছেলে রিয়াজ (২৬), শাসন গাছ ( দক্ষিণ বাড়ি) এলাকার মৃত আবদুর রশিদের ছেলে সোলেমান (৩৮), শাসন গাছা (মোল্লা বাড়ির) মৃত মনু মিয়ার ছেলে মো হালিম (৫৫), শাসন গাছা ( দক্ষিণ বাড়ি) এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ সজল (৩০), একই এলাকার কালু মিয়ার ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (২৪), রাজ্জাক মিস্তিরির ছেলে মো বাচ্চু মিয়া (৩৫), চান্দিনা থানায় বেলাশ্বর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ ইব্রাহীম (২৫)।
গ্রেফতারকৃত আসামি সুমন, রাশেদ, কাউছারের নামে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরপর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, এসময় একপক্ষ গুলিবিনিময় ও অন্যপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।










