

ক্ষুদীরাম দাস
চাঁদপুরে মাদক নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমানের নেওয়া পদক্ষেপ এবং তাঁর কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
চাঁদপুরে মাদক নির্মূলে সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমানের কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, তিনি কেবল একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবেই সীমাবদ্ধ নন, বরং একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবেও কাজ করছেন। তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো দুটি মূল ধারায় বিভক্ত, যা মাদক নির্ম‚লের মতো একটি জটিল সমস্যার সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর।

প্রথমত, আইন প্রয়োগ ও কঠোর অভিযান। প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরিসংখ্যান (৫২১টি অভিযান, ৫৮ জন মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী আটক, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার) তাঁর দৃঢ়তা ও সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এটি স্পষ্ট করে যে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধীরা ছাড় পাচ্ছে না। এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ সমাজে একটি বার্তা দেয় যে, মাদক ব্যবসা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
দ্বিতীয়ত, ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম। এটিই তাঁর কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি কেবল মাদক ধরতেই ব্যস্ত নন, বরং মাদকের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় সমাজের তৃণমূল স্তরে কাজ করছেন। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কারাবন্দী, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারের সাধারণ মানুষের মধ্যে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণার যে আহŸান জানিয়েছেন, তা যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। জ্যামিতি বক্স, কলম ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তাঁর সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রসারতা বোঝা যায়।
স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী বার্তা দেওয়া, কারাবন্দী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, এমনকি কলম বা জ্যামিতি বক্স বিতরণের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগÑসবই মাদক প্রতিরোধে সচেতনতার বীজ বপন করছে। এ ধরনের উদ্যোগ প্রশাসনের প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়।
মাদক কেবল একজনকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করেÑএ উপলব্ধি মিজানুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো গভীর করেছে। তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে একধরনের মানবিক দায়বদ্ধতা, যা’ প্রশাসনিক ভ‚মিকার বাইরেও সমাজ সংস্কারের মনোভাবকে প্রকাশ করে।
তাঁর আহŸান অনুযায়ী, প্রশাসনের একক প্রচেষ্টায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একসাথে কাজ করতে হবে। যদি এই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকে, তবে চাঁদপুরসহ সারাদেশে মাদকবিরোধী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। তার এ সমন্বিত প্রচেষ্টা Ñ একদিকে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অন্যদিকে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি-একটি আদর্শ মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। তাঁর কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং দূরদর্শিতা থাকলে একটি কঠিন সামাজিক সমস্যাকেও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। এ প্রতিবেদনটি স্থানীয় প্রশাসনের ইতিবাচক ভ‚মিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
শেয়ার করুন












