

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সীচা ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের কাজের কারণে গত প্রায় সাত মাস ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সকালের অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও জাতীয় পতাকা চত্বরে স্বাভাবিক যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকালের অ্যাসেম্বলি শিক্ষা কার্যক্রমের বাধ্যতামূলক অংশ। তবে নির্মাণকাজের জন্য বিদ্যালয় মাঠের একটি অংশ ঘিরে রাখায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পর্যাপ্ত খালি জায়গা থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেখানে শ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার ঘর নির্মাণ না করে বিদ্যালয়ের সামনের অ্যাসেম্বলি স্ট্যান্ড ঘিরে রেখেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ মিনারের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
এদিকে গত ১৯ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর তালাবদ্ধ অবস্থায় বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে বৈদ্যুতিক লাইট জ্বলতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, এতে সরকারি বিদ্যুতের অপচয়ের পাশাপাশি তদারকির ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবীরাণী বলেন, “নির্মাণকাজের কারণে গত প্রায় সাত মাস ধরে নিয়মিত সকালের অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজ চলমান থাকায় আমি বারান্দায় শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি করার নির্দেশনা দিয়েছি।”
অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই নির্মাণশ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত, নিয়মিত সকালের অ্যাসেম্বলি চালুর উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত এবং সরকারি সম্পদের অপচয় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

















