

মেহেরপুর প্রতিনিধি:
মেহেরপুরের গাংনীতে একটি এতিমখানায় হুসাইন আহমেদ [৯] নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার [১৯ জুলাই] সকাল ৯টার দিকে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত হুসাইন গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আযান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় ওই এতিমখানায় আবাসিক থেকে পড়াশোনা করত।
এতিমখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল।
ঘটনার বিষয়ে এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে এতিমখানার শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমির আগাছা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। এ সময় হুসাইন এতিমখানার ভবনের সিঁড়ির ওপর বসে খেলা করছিল। কিছুক্ষণ পর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার [১৩] রুমে ফিরে গিয়ে হুসাইনকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার শরীরের পাশে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে সে দ্রুত শিক্ষক বাবুল হুজুর ও সুপারিনটেনডেন্টকে খবর দেয়।
পরে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, “শিশুটিকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া বলা সম্ভব নয়।”
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা [ওসি] মুহাদ্দিক মোর্শেদ চৌধুরী জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে সকল শিক্ষার্থী বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকার সময় শিশুটির সিঁড়িতে একা থাকা এবং কক্ষের ভেতরে রক্তের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

















