নতুন প্রজন্মের আত্মা ও ভালোবাসায় এগিয়ে চলা প্রত্যয়ী মুখ নাসিম সুলতান সোহেল

মেহেরপুর প্রতিনিধি :

একটি জনপদের গল্প বদলে যায় যখন তার নেতৃত্বে আসে নতুন প্রজন্মের স্পন্দন। যখন পুরনো রাজনীতির ক্লান্ত স্লোগানের ভিড়ে কেউ একজন এসে বলে – আমি ক্ষমতা চাই না, আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। তেমনি এক নাম আজ মুজিনগরের চায়ের দোকান থেকে মাঠের আইল, স্কুলের বারান্দা থেকে মসজিদের আঙিনা পর্যন্ত আলোচিত হচ্ছে — নাসিম সুলতান সোহেল।

তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে পরিচয় দেন না। তিনি নিজেকে বলেন, আপনাদেরই একজন, এই মাটির সন্তান। আর সেই পরিচয়েই তিনি মজিনগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা চেয়েছেন।

কে এই নাসিম সুলতান সোহেল?
নাসিম সুলতান সোহেল কোনো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা নাম নন। তিনি এই মুজিনগরের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা, এই জনপদের ধুলোমাটি গায়ে মাখা এক তরুণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন তার এলাকার মানুষের সংগ্রাম, কৃষকের ঘাম, ছাত্রের স্বপ্ন, মায়েদের প্রত্যাশা। সেই দেখা থেকেই তার ভেতরে জন্ম নিয়েছে এক অদম্য দায়বদ্ধতা।

তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানে প্রটোকল নয়, রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। করোনাকালে যখন অনেকেই ঘরে দরজা বন্ধ করে ছিলেন, তখন এই সোহেলকে দেখা গেছে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে। ঈদে সেমাই-চিনি নিয়ে হাজির হতে, শীতের রাতে কম্বল জড়িয়ে দিতে। তিনি প্রচারের জন্য করেননি, করেছেন আত্মার টানে। আর তাই তো আজ যখন তিনি নির্বাচনের মাঠে, মানুষ তাকে পর ভাবছে না, ভাবছে নিজের ঘরের ছেলে হিসেবে।

কেন নতুন প্রজন্ম তার দিকে তাকিয়ে?
আজকের তরুণরা গতানুগতিক প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে বিরক্ত। তারা চায় স্মার্ট, স্বচ্ছ এবং কর্মঠ নেতৃত্ব। নাসিম সুলতান সোহেল ঠিক সেই জায়গাটাই ধরতে পেরেছেন।

তার কথায় আছে নতুন প্রজন্মের আত্মা। তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি ডিজিটাল ও মানবিক মজিনগরের। যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না, যেখানে উদ্যোক্তা হওয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে নিজ উপজেলাতেই। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণরা মেধাবী, শুধু তাদের একটু সুযোগ আর সঠিক দিকনির্দেশনা দরকার। আমি সেই সেতু হতে চাই।”

তার চলাফেরা, তার কথা বলার ভঙ্গি, তার মানুষকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা – সবকিছুতেই একটা আধুনিক অথচ শিকড়-ছোঁয়া ভাব আছে। তিনি ফেসবুক লাইভে যেমন তরুণদের সাথে ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেন, তেমনি বটতলায় বসে বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে দোয়া নিতেও ভোলেন না। এই সমন্বয়টাই তাকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

ভালোবাসার রাজনীতি, প্রতিহিংসার নয়
বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন, হিংসা-বিদ্বেষ নতুন কিছু নয়। কিন্তু নাসিম সুলতান সোহেল শুরু থেকেই একটি বার্তা স্পষ্ট করেছেন – তিনি ভালোবাসার রাজনীতি করতে চান।

তার নির্বাচনী প্রচারে কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি নেই, কোনো প্রতিহিংসার সুর নেই। আছে শুধু একটি আহ্বান – “আসুন, আমরা সবাই মিলে মজিনগরকে গড়ি।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে যাচ্ছেন, সকলের দোয়া চাইছেন। হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরীব, আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-সাধারণ মানুষ – সবার কাছেই তার একটাই পরিচয়, তিনি সেবক হতে চান।

এই উদারতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। মানুষ বুঝতে পারছে, এই ছেলেটা চেয়ার চায় না, মানুষের মনের চেয়ারে বসতে চায়।

তার চোখে আগামীর মজিনগর
দোয়া ও ভালোবাসা চাওয়ার পাশাপাশি নাসিম সুলতান সোহেল একটি সুস্পষ্ট রূপরেখাও মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি শুধু আবেগ দিয়ে নয়, পরিকল্পনা দিয়েও মানুষের মন জয় করতে চান।

তার স্বপ্নের মজিনগর এমন হবে যেখানে –
১. শিক্ষা হবে সবার অধিকার: প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত লাইব্রেরি, গরীব মেধাবী ছাত্রদের জন্য বিশেষ বৃত্তি এবং মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন।
২. স্বাস্থ্যসেবা থাকবে দোরগোড়ায়: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন, প্রতিটি ইউনিয়নে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিনামূল্যে ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো।
৩. কৃষক হাসবে: কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্য পায়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা।
৪. নারীর ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা।
৫. স্বচ্ছ উপজেলা পরিষদ: উপজেলা পরিষদের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত থাকবে। কোনো কাজের জন্য কাউকে ঘুষ দিতে হবে না – এটাই হবে তার প্রথম অঙ্গীকার।

শেষ কথা: দোয়াই তার শক্তি
নাসিম সুলতান সোহেল জানেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় আছে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা পাওয়া তার চেয়েও বড়। তাই তিনি ভোট চাওয়ার আগে দোয়া চাইছেন। তিনি প্রতিটি মানুষের কাছে গিয়ে হাত জোড় করে বলছেন, “আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। আমাকে একবার সুযোগ দিন, আমি আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই কাজ দিয়ে।”

মুজিনগরের আকাশে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। নতুন প্রজন্ম জেগে উঠেছে। আর সেই জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছেন নাসিম সুলতান সোহেল। তিনি শুধু একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী নন, তিনি একটি প্রজন্মের প্রত্যাশা, একটি জনপদের নতুন দিনের স্বপ্ন। এখন দেখার পালা, মজিনগরের মানুষ তাদের ভালোবাসা ও দোয়ার হাত কার মাথায় রাখেন।

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ :
.

You might like

About the Author: priyoshomoy