
কথিকা :
অফিস থেকে এসে মায়ের রুমে ঢুকলাম। দীর্ঘদিন মায়ের রুমে যাই না। বলা চলে একেবারেই যাওয়া হয়ই না। যাবোই বা কীভাবে? সময় পাই না। খুবই ব্যস্ত। একটা এনজিওতে কাজ করি। সারাদিন অফিসে কাজ আর কাজ। একটার পর একটা। আট ঘন্টার ডিউটি। অর্থাৎ ষোল ঘন্টার কাজ দিয়ে রেখেছে। তাই নাকে মুখে খৎ দিয়ে সে সব কাজ শেষ করে তবেই বাসায় আসতে হয়। কাজ না করতে চাইলে চাকুরিটাই ছেড়ে দিতে হবে। আবার চাকুরি ছেড়ে দিলে বাঁচবে কীভাবে?

এই ভেসে এখনো কাজ করে চলেছি। আমার মতো সবারই একই অবস্থা। কিন্তু পরিবারের লোকজন সেটা মোটেও বুঝে না। কোনোদিন বুঝবে বলে মনেও হয় না। তো, মায়ের রুমে দীর্ঘদিন যাওয়া হয় না। তাছাড়া মায়ের সাথে খুব একটা সময়ও কাটানো হয়ে উঠে না। ছুটির দিনে সময় পেলে বউকে নিয়ে বাইরে যেতেই হবে ঘুরতে।
ভালো করে দেখি ময়ের রুমটা দারুণ এলোমেলো। মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। মায়ের বয়স হয়েছে। তাছাড়া তার শরীরটাও বেশ খারাপ যাচ্ছে। অনেকদিন তার সাথে দেখা হয় না, কথাও হয় না। অথচ একই ঘরে বাড়িতে থাকছি দিনের পর দিন। আমার মতো এ রকম কতজনের আছে আমি জানি না। সারাদিন অফিস করে রাত করে বাসায় আসি।
এসে খেয়ে দেয়ে ঘুমায় পড়ি। সকালে উঠে আবার অফিসে চলে যায়। এভাবে প্রতিদিন চলে যায়। মাকে নিয়ে চিন্তারও সময় নেই আমার। দিপালীকে ডাক দিলাম। সে হস্তদন্ত হয়ে এসে বললো,
– কী হলো তোমার। এতো ষাড়ের মতো চিৎকার করছো কেনো?
-মায়ের রুমটা দেখছি বেশ নোংরা, তাছাড়া এলোমেলোও রয়েছে।
-তাহলে আমি কী করবো?
-একটু পরিস্কার তো করতে পারো?
-আমি কি কাজের লোক নাকি? তোমার বুড়ে মায়ের সারাদিন সেবাযতœ করবো। আমি মাস্টার্স পাস একটা মেয়ে। এভাবে বাড়িতে থেকে থেকে কাজের লোকের মতো বাড়ির কাজ আর বুড়ো মহিলার সেবা করতে পারবো না, বুঝলে?
আমার মাথাটা গরম হয়ে গেলো। চিৎকারে করে বলে দিলাম। তোমার মতো শিক্ষিত মেয়ে আমার দরকার নেই। তুমি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। দিপালী হতবিহŸলের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।
হঠাৎ মায়ের দিকে তাকিয়ে ভেতরটা চেঁৎ করে উঠলো!
দিপালী হয়তো তার ভুলটা বুঝতে পেরেছে; অথবা মোটেও কিছু বঝতে পারেনি!
আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, চাঁদপুর রিপোর্ট গুজব প্রচার করে না
১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৮ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহররম ১৪৪২ হিজরি, শনিবার










