

মো. মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ একটি ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা। মূলত কৃষি ও প্রবাসী-নির্ভর এ পৌরসভাটি। নিম্নমানের পৌরসেবার পরও বারবার নানধরণের অতিরিক্ত ফি যুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ পৌরবাসীর। এবার পৌরসভার অটোচালকরা অভিযোগ করেছেন অটোরিকশার অতিরিক্ত লাইসেন্স ফি নিয়ে।

জানা গেছে, পৌরসভার অটোরিকশা পিছু লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টাকা। আর এ ফি আদায়ের জন্য সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রায় অর্ধশত অটোরিকশাচালকদের রিকশাসহ অর্ধবেলা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এত বেশি ফি প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করায় চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অঙ্গীকারনামায় সহি-স্বাক্ষর রেখে ৪ দিনের মধ্যে লাইসেন্স ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স করার জন্য বলা হয়।
এদিকে ফরিদগঞ্জের পার্শ্ববর্তী পৌরসভা (ক-শ্রেণির) শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জে অটোরিকশার লাইসেন্স ফি মাত্র ৩-৫ হাজার টাকা। এছাড়া দৈনিক পৌর কর শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জে অটো পিছু ১০ টাকা নিলেও ফরিদগঞ্জে নিচ্ছে ১৫ টাকা।
এ সমস্যা সমাধানে অটোচালক ও মালিকরা চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানকেও অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।
১১ মাসের বেতন-ভাতা না পেয়ে ফরিদগঞ্জ পৌর কর্মচারীদের মানবেতর জীবন
অটোরিকশাচালক মো. বিল্লাল হোসেন জানায়, সোমবার ত্রিশ টাকার ভাড়া নিয়ে বাজারে আসার পর পৌরসভার কর্মকর্তা/কর্মচারীরা জোরপূর্বক আমাদের অটোরিকশা পৌরসভার মাঠে নিয়ে আটকে রাখে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বাড়িতে পরিবারের জন্য চাল-ডাল কিছুই নিতে পারিনি। এতো টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে আমরা কোনভাবেই দু’বেলা-দু’মুঠো ভাত জোগাড় করতে পারব না।
পৌরসভার অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক হাজারের মধ্যে আপাতত ৫০০ অটোরিকশাকে লাইসেন্সের আওতায় আনতে যাচ্ছে পৌরসভাটি।
উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করুক পৌর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আমিও এমপিকে অবহিত করেছি।’
পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান পরান জানান, মাসিক সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অটো রিকশার লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হয়েছে। সে মোতাবেক লাইসেন্স ফি প্রদানপূর্বক অটোরিকশা চালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পৌরমেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনি অফিসে এসে কথা বলুন। এভাবে কথা বলা যাবে না’। পরে বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ (২৯ সেপ্টেম্বর) এ প্রতিবেদক পৌরসভার কার্যালয়ে গেলে পৌরমেয়র দেখা করার অনুমতি দেননি।
পৌরসভার সচিব একেএম মো. খোরশেদ আলম জানান, পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক লাইসেন্স ফি ১৪ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ পূর্বক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এমপি মহোদয় বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন : শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়
আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ
আরো পড়ুন : পাইলস রোগে করণীয়
আরো পড়ুন : জেনে নিন দীর্ঘক্ষণ মিলনের ঔষধ
আরো পড়ুন : একজিমা হলে কী করবেন?










