হনুমান বিচার চাইলো আদালতে : জিএম মুছা

শিশু-কিশোরদের উপদেশমূলক গল্প

তোমরা শুনে হয়তো অবাক হবে,নিষ্ঠুর ও দুষ্টু প্রকৃতির মানুষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত এক হনুমান বিচার পাওয়ার আশায় ছুটে গেল বিচারকের আদালতে। বেশ কিছুদিন ধরে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার সদরে বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি কালোমুখো হনুমান দলবেঁধে ঘুরে বেড়াতো হঠাৎ দলছুট এই হনুমানটিকে ০৬ জুলাই ২০১৬ ইংরেজি তারিখে কে বা কাহারা কুপিয়ে জখম করে, তখনই স্থানীয় লোকজন হনুমান টি কে উদ্ধার করে এবং প্রাণিসম্পদ কার্যালয় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ছেড়ে দেয়।

২০ শে জুলাই ২০১৬ ইংরেজি তারিখে খুলনা জেলার পাইকগাছা আদালত ভবনে হঠাৎ করে আহত হনুমানটি এসে আশ্রয় নেয়। আদালত বন্ধ থাকায় হনুমাটি আদালত ভবনে কিছুক্ষণ থেকে প্রায় আধা ঘন্টা পর বেরিয়ে আসে, পরের দিন আবারো হনুমানটি আদালত চত্বরে এসে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এক সময় সে পাইকগাছা উপজেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয় যায়, এবং এক লাফে উঠে পড়ে টেবিলে,উপস্থিত সকল আইনজীবী ও আগত বিচার প্রার্থীদের কে বারবার হনুমাটি তার ক্ষতস্থান দেখাতে লাগল, ওই সময়ে হনুমান টির চোখ দিয়ে অঝোর
ধারায় পানি ঝরছিল, হনুমান টির তোমরা প্রতি এই নিষ্ঠুর অমানবিক আঘাতের বিচার চায় তাই সে সকলকে বুঝাতে সক্ষম হল।

তোমরা শুনে হয়তো খুশি হবে বন্ধুরা তখন হনুমানটির পক্ষে তাকে আহত করার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জনাব জি এম আব্দুস সাত্তার নিজ খরচে চব্বিশে জুলাই দুই হাজার ষোল তারিখে সেখানকার সিনিয়র হাকিম এর আদালতে একটি মামলা রুজু করেন।

বিজ্ঞ বিচারক জনাব গাজী জামশেদুল হক মামলাটি আমলে গ্রহণ করেন এবং মামলাটি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পাইকগাছা থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

শুধু কি তাই মামলা হওয়ার পর হনুমানটি কিন্তু বসে থাকেনি,কয়েকদিন পর পর আবারো হনুমানটি আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে কেসের খোঁজখবর নিত এবং মামলার বাদীর টেবিলের উপর কিছুক্ষণ বসে সবকিছু দেখতো, বিশ্রাম নিত, টেবিলের উপর শুয়ে থাকতো, হনুমানের ওই বুদ্ধি ও তার কার্যকলাপ দেখে সকল আইনজীবীরা বিস্ময় প্রকাশ করত এবং আদালত প্রাঙ্গণে বিচারকের কার্যালয়ের আশাপাশে তার ঘোরাঘুরিতে বাদী ও অন্যান্য আইনজীবী সাধারণ মানুষ বুঝতে পারলেন হনুমান টি আসলে তার ন্যায় বিচার চায়, তবে তার মামলাটি আদালতে চলমান অবস্থা ছিলো …।

You might like