
যুবক অনার্য :
মারিয়া,তুমি বলেছিলে বইমালায় এলে আমাকে স্মরণ করবে মেসেঞ্জারে না হলেও অন্তত সেল ফোনে।বলেছিলে-আমার হাতে মেলায় প্রকাশিত তোমার কবিতার পান্ডুলিপ ” শুক্লপক্ষের কৃষ্ণযাত্রি” আর “যে বাঁচা নিদ্রিত নয় ” আমার হাতে তুলে দিয়ে খুব ক্লোজলি দাঁড়িয়ে সেল্ফি তুলে পোস্ট দিবে তোমার টাইম লাইনে :”কবি যুবক অনার্য’র হাতে আমার কবিতার বই তুলে দিতে পেরে আমি ধন্য এবং আনন্দিত”।

কিন্তু তুমি তা করোনি।এতে আমি বরং খুশি হয়েছি এবং বেঁচে গেছি কেননা আমি, কবি তো দূরের কথা,এমন কেউ নই যার হাতে কবিতার পান্ডুলিপি কেউ তুলে দিতে পেরে ধন্য হয়ে যাবে।তবু তুমি কী এক অদ্ভুত কারণে এসব কথাগুলো আমাকে বলেছিলে, সেই কারণ আমার পক্ষে আবিষ্কার করা সম্ভব নয় যেমন নয় তোমাকে আবিষ্কার করা।
প্রশ্ন করেছিলাম মেলায় গিয়েছিলে কিনা, তোমার উত্তর ছিলো-“না যাই নি”।
কথা ছিলো মেলায় গেলে তুমি আমাকে জানাবে।
আমি জানি তুমি মেলায় গিয়েছিলে হাঁটু ভাঙা ‘দ ‘ রকমের ছেলেটিকে নিয়ে।এসবে আমার কোনো আপত্তি বা মাথা ব্যথা নেই।
তুমি যাকে খুশি তাকে নিয়েই যেতে পারো
যেখানে গিয়ে তুমি সুখ সুখ গন্ধ আপোষে না হলে অগত্যা ছিনিয়ে নিতে পারো।
আমার বিবমিষা অনুভূতিটুকু হল এই:
তোমাকে আমি ভীষণ কাব্যময়ী ভেবেছিলাম
কিন্তু তুমি তা নও।

তোমার পান্ডলিপিতে যে-সকল লেখা আছে
সবগুলোই বানিয়ে বানিয়ে লেখা যার সঙ্গে তোমার যাপিত জীবন ও বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।কারণ তোমার যাপিত জীবনে আছেন
একজন হাঁটু ভাঙা ‘দ’ কিন্তু যে চরিত্রগুলি তুমি উপস্থাপন করতে চাও তারা যেনো প্রত্যেকেই
একেকটি বুরহান।
আমাকে নিয়ে মেলায় যেতে চাওয়ার মিথ্যে ভুমিকায় আমাকে হচ্ছে লিখতেই:
মেলাতে তোমার পাশে হাঁটু ভাঙা ‘দ’ ই মানানসই
আর আমি বড্ড বেমানান কারণ আমি কৃষ্ণপক্ষের শুক্লযাত্রী আর তুমি শুক্লপক্ষের কৃষ্ণযাত্রী!
আমি তোমার জন্য কৃষ্ণ হয়েছিলাম
কিন্তু তুমি পারোনি রাধা হতে।
তবে কি মানুষেরা ভুল কোনো রাধার হাতেই
পরিয়ে দিতে চায় রাখি বন্ধন যে আসলে রাধা নয়!
যে মুলত তোমার মতন খুব সাধারন এক মারিয়া
যাকে নিয়ে বইমেলার মত একটি তীর্থ সরোবরে
ভেসে যাবার কোনো মানে নেই!










