

জি এম মুছা :
ছোট্ট বন্ধুরা আজ আমি তোমাদের সত্যি সত্যি একটা আজব ও অবিশ্বাস্য এবং লোমহর্ষক একটি গল্প শোনাবো, তোমরা হয়তো ভাবছো অনেক আজব গল্প তো তোমরা শুনেছো বা পড়েছো,আমি এমনকি আর আজব গল্প শোনাবো তাই না ঠিকই ধরেছো বন্ধুরা।

আজ আমি তোমাদের যে গল্পটি শুনাবো , গল্পটি শুনলে তোমরা নিশ্চয়ই অবাক না হয়ে পারবে না, শুধু অবাক হবে না বরং তোমরা রীতিমতো ভয়ে শিউরে উঠবে!
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা মাইকেল প্যাকার্ড লবস্টার এক অদম্য সাহসী গলদা চিংড়ি 🍤 শিকারী ১৬ এপ্রিল ২০২২ তারিখে তার বন্ধুকে নিয়ে একটি নৌকায় চড়ে সাগরের তলদেশে বড় গলদা চিংড়ির খোঁজ করছিলেন, ওই সময় হঠাৎ কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই কোথা থেকে ক্ষুধার্ত দত্যাকৃতির বিশাল একটি হ্যাম্পব্যাক তিমি 🐋 এসে মাইকেল প্যাকার্ড কে গিলে ফেলল, এরপর কি হলো জানো বন্ধুরা, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড ওই ডুবুরি গলদা চিংড়ি শিকারি মাইকেল প্যাকার্ড তিমির পেটের মধ্য থেকে গেলেন, কি সাংঘাতিক কথা ভাবা যায় বন্ধুরা, চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞ ডুবুরি চিংড়ি শিকারি মাইকেল প্যাকার্ড কোনো রকম বুঝতে পারলেন না ,যে সে বিশাল আকৃতির তিমির খাদ্যে পরিণত হয়ে তার পেটের মধ্যে ঢুকে যাবেন, এমন কথা তিনি কখনোও ভাবতেই পারেননি, তবে হ্যাঁ এই রূপ আশঙ্কা তাঁর স্ত্রী প্রায় করতেন, সে কারণে মাইকেল প্যাকার্ডের তার স্ত্রী তাকে বহুবার ডুবুরীর পেশা ছেড়ে অন্য কোন চাকরি করার কথা বললেও তিনি স্ত্রীর কথা খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন না, তাছাড়া দীর্ঘ চল্লিশ বছরের পুরানো পেশা বলে কথা,সেটি ছাড়া কি সহজ কথা, তবে কিছুটা হলেও মাইকেল প্যাকার্ড ঐ সময় নিশ্চিত মৃত্যুর কথা ভেবে স্ত্রী ও সন্তানের কথা মনে করে অনেকখানি অনুতপ্ত হচ্ছিলন, যখন, ৫০ ফিট লম্বা ৬৩ টন ওজনের হ্যাম্পব্যাক তিমির পেটের মধ্যে অন্ধকারের বাসিন্দা হয়ে গেলেন ,তখন বারবার তিনি তার স্ত্রী দুই সন্তানের কথা ভাবছিলেন , এবং এযাত্রা যদি তিনি বেঁচে যান, সত্যি সত্যি তিনি তার পেশা পরিবর্তন করে অন্য কোন চাকরিতে নেবেন ।
ছাপ্পান্ন বছর বয়স্ক বড় গলদা চিংড়ির শিকারি মাইকেল প্যাকার্ড তার সহযোগী বন্ধুকে নিয়ে নিজেদের নৌকা চড়ে সকালে হেরিং কোভে যান, ওই সময় সেখানকার পরিবেশ ছিল বেশ ছিমছাম চমৎকার মনোরম, এর পানি ছিল বেশ শান্ত ও নিবিড়, দৃষ্টিসীমা ছিল ২০ ফুট, তার বন্ধুকে নৌকায় রেখে তিনি পানিতে নেমে পড়লেন এবং ডুব দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশাল একটা ধাক্কা অনুভব করলেন, চোখের সামনে সবকিছু কেমন যেন ঘন কালো অন্ধকার দেখতে লাগলেন, তিনি তখন ধারণা করেছিলেন, হয়তো সে বিশালাকৃতির সাদা তিমির হামলার শিকার হয়েছেন, ওই এলাকায় সাদা তিমিরা সব সময় পানিতে দাপিয়ে বেড়ায়, গলদা চিংড়ি শিকারি বুলবুলি মাইকেল প্যাকার্ড অনুভব করলেন চারিদিকে নরম কিছুর, সেখানে শক্ত কোন দাত নেই এবার তিনি বুঝতে পারলেন তিনি তিমির মুখের ভিতর চলে গেছেন এবং নিশ্চিত তার খাবারে পরিণত হয়েছেন, তিমিটি বারবার খুব শক্তি নিয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে তাকে গিলে ফেলার চেষ্টা করছে, মনে মনে মাইকেল প্যাকার্ড মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, মহান সৃষ্টি কর্তাকে মনে মনে ডাকতে লাগলেন, ওই সময় তার মনে হচ্ছিল এটাই তার শেষ সময় তিনি খুব তাড়াতাড়ি মারা যাবেন, ভাবতে ভাবতেই একসময় তিমিটি হঠাৎ করে খুব দ্রুত গতিতে পানির উপরে ভেসে উঠলো, এবং প্রবল ভাবে মাথা নাড়তে লাগলো, মাইকেল প্যাকার্ড তখন ভেবেছিল, কেযেন তাকে দূর থেকে খুব জোরে বাতাসে ছুঁড়ে ফেলে দিলো, হঠাৎ মাইকে প্যাকার্ড নিজেকে সমুদ্রের পানিতে ভাসতে দেখলেন, তখন তিনি মনে করলেন তিনি সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত মুক্ত, মনে মনে আবারও তিনি সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে লাগলেন, ওদিকে তার সহযোগী বন্ধু পাগলের মত পানিতে তাকে খুঁজতে লাগলেন, তার বন্ধু দ্রুত নৌকা চালিয়ে তাকে শুধু পানিতে মাইকেল প্যাকার্ডের অক্সিজেনের বুদবুদ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন, নিজের সঙ্গীকে অসহায় এবং দুর্বল অবস্থায় সাগরের পানিতে ভাসতে দেখে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করলেন।।










