

জিএম মুছা :
ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা নিশ্চয়ই জানো, পড়ছে বা শুনেছো, এই পৃথিবীতে মানুষকে অনেক সংগ্রাম, লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়, তোমরা তো জানো বন্ধুরা” জীবন মানেই সংগ্রাম” যেমন ধরো তোমাদের বার্ষিক পরীক্ষা যখন নিকটে আসে তখন তোমাদের পরিশ্রম আর সংগ্রাম বেড়ে যায়,কি তাই না বন্ধুরা?

তাছাড়া তোমারা তখন নতুন কোন কিছু শিখতে যাও, তখন ও কিন্তু তোমাদের অনেক পরিশ্রম সংগ্রাম আর লড়াই করেই তবে শিখতে হয়, আসলে কি জানো বন্ধুরা, এই পৃথিবীতে কোনো কিছু সহজ সাধ্য নয়, কোন কিছু অর্জন করতে হলে বা কিছু পাইতে হলে অবশ্য তার জন্য আমাদের ইচ্ছা পরিশ্রম সংগ্রাম -লড়াই অবশ্যই থাকতে হবে, ঠিক তেমনি আজ আমি তোমাদের একটা বাঘ সংগ্রামী অদম্য সাহসী এবং মৃত্যুঞ্জয়ী একজন মানুষের গল্প শোনাবো, অবশ্য অবশ্যই কিন্তু গল্পটা তোমাদের মন দিয়ে পড়তেই হবে, তা না হলে জানবে কিভাবে, কোন কিছু জানতে হলে তো তোমাদেরকে প্রথমেই পড়তে হবে, তোমরা যত পড়বে তত বেশী জানবে এবং শিখবে, কি ঠিক বলেছি না ছোট্ট বন্ধুরা?
তোমরা নিশ্চয়ই চাঁদপাই রেঞ্জের পূর্ব সুন্দরবনের কথা শুনেছো , এখানকার কিছু অভাবি মানুষ সুন্দরবনের নদী নালা এবং জঙ্গলের কাছে, মাছ কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে, ওই পূর্ব সুন্দরবনে নিকটবর্তী এলাকার মানুষ আবুসালেহ নামে একজন জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণের শিকার হয় , ১৭ এপ্রিল২০২২ ইং জীবন জীবিকার জন্য মোড়েলগঞ্জ থানার বাসিন্দা জেলে আবুসালেহ বন বিভাগ থেকে অনুমতি পত্র সংগ্রহ করে ওই দিন সকালে ৭ঘটিকার দিকে জিউধরা নিকটবর্তী এলাকায় শুয়োর মারা খালে নৌকা চড়ে জাল পাট দিয়ে মাছ ধরছিলেন, একসময় জেলে আবু সালেহা নৌকা থেকে নেমে নদীর কিনারায় খালের পাশে জঙ্গলের নিকটবর্তী জাল পেতে অপেক্ষা করছিলেন, হঠাৎ বনের মধ্য থেকে ক্ষুধার্ত হিংস্র একটি বাঘ এসে জেলে আবু সালেহর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শুরু, হয় জীবন বাঁচানোর জন্য বাঘ আর মানুষের মধ্যে তুমুল জীবন মরণ লড়াই- সংগ্রাম, বাঘের আক্রমনের সাথে সাথে আবু সালেহ র সঙ্গে হয় হাতাহাতি ধস্তাধস্তি, সেই মুহূর্তে জেলে আবুসালেহ কোনো উপায়ান্তর না দেখে জোরে চিৎকার করতে করতে, খালি লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে কিনারে উঠার চেষ্টা করতে থাকে, এবং বাঘ বাঘ , বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে, আবু ছালেহ র সঙ্গে থাকা তার চাচতো ভাই আসাদুজ্জামান চিৎকার শুনে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকে, অন্যদিকে তাদের চিৎকারে শখালের অপর প্রান্তে থাকা স্থানীয় লোকজন জেলেরা হাতে লাঠি সোটা নিয়ে জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে এবং পানিতে শব্দ করতে থাকে একসময় হিংস্র বাঘটি অনেক লোকের চিৎকার শুনে কিছু সময় থমকে দাঁড়ায়ে, এক পলকে তার শিকার জেলে আবু সালেহ র দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে চোখ পাকিয়ে মোচ পাকাতে পাকাতে লেজ নাড়তে নাড়তে , রাগের দাঁত কটমট করে কয়েকবার বিকট শব্দ তুলে সামনে ও পিছনের পা দিয়ে সজোরে কয়েকবার মাটিতে আঘাত করে, মাটি হাছড়াতে হাছড়াতে সেখান থেকে বাঘটি শিকারে ব্যর্থ হয়ে দ্রুত সেখান থেকে গভীর জঙ্গলের মধ্যে চলে গেলো, বাঘের কবল থেকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যাওয়া বাঘ সংগ্রামী মৃত্যুঞ্জয় অসহায় জেলে আবুসালেহ কে দ্রুত তার সঙ্গী চাচতো ভাই আসাদুজ্জামান জেলে হানিফ ও খালের অপর পাশে কিছু দূরে থাকা অন্যান্য নিশ্চিত মৃত্যুর জজ দুয়ার থেকে ফিরে আসা এক বাঘ সংগ্রামী মৃত্যুঞ্জয়ী ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত আহত অব্যস্থায় খাল আবুআবু সালেহকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে সুস্থ করে তোলে।










