
যুবক অনার্য :
আজ রাতটাও কেটে যাবে।পড়া হবেনা ‘খোয়াবনামা’, পড়া হবে না আবুল হাসানের ‘অবহেলা করার সময়’। কেটে যাবে আজকের রাত্রিটিও ঘুমহীন, কেটে যাবে রমণীহীন কেবলি সঙ্গীনীহীন যাবে কেটে।প্রতিটি রাত কেটে যাচ্ছে এরকমই তাৎপর্যহীন।কি মানে হয় এইভাবে বেঁচে থাকবার!

আজ রাত তো কেটে যাবেই তবু জানা হবে না সুদর্শনা আমাকে কেনো ফিরিয়ে দিয়েছিলো। জানা হবে না আমি কেনো সুদর্শনাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম একদিন বিরুলিয়া গ্রামে বৈশাখী মেলায় ওর চোখের দিকে তাকিয়ে। জীবন বাবু হলে লিখতেন- ‘কি ছিলো তার চোখে, তাহার চোখে!’ আচ্ছা অনেকদিন ধরেইতো দেখা হচ্ছে না চৈতিদির সাথে।আমার যখন ২১ বছর বয়স, চৈতিদিই পৃথিবির শ্রেষ্ঠ শব্দটিকে চিনিয়ে দিয়েছিলো।অর্ধ বিকেল বেলায় অশত্থ গাছের নিচে দুজনে পাশাপাশি, বলেছিলো – ‘তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?’ ভালোবাসা!বাহ কী চমৎকার শব্দ তো – এমন একটা ভাব যেনো এই শব্দটি এর আগে শুনি নি কখনও কোনোকালে।আমি বলেছিলাম-‘বাসি না।ভালোবাসা কি তাও বুঝি না।’ চৈতিদি বলল তারপর- ‘আমার চুলের ঘ্রাণ শুঁকে দেখ,তাহলেই বুঝবি ভালোবাসা কাকে বলে।”
আমি সেদিন ঘ্রাণ শুঁকেও বুঝতে পারি নি ভালোবাসা কী তবে হয়েছিলো একটা আলদা রকমের অনুভূতি ।আজ বুঝি -সেই অনুভূতি ভালোবাসা নয়,শুধুমাত্র শরীরবৃত্তীয় রসায়ন।এরপর চৈতিদির সঙ্গে দেখা হলে বলে দেবো: ‘ভালোবাসা কী যখন বুঝতে শিখলাম,তখনই ভালোবাসা হারিয়ে গেলো।দি,আজও তোমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা ভালোবাসা শব্দটিই কানের মধ্যে রিনিঝিনি বেজে চলে যদিও টের পাই -আজকাল ভালবাসাটাসা রকমের কিছু আছে কিনা সন্দেহ জাগে মনে।’- এসব টুকরো টুকরো কথাগুলি ভেবে ভেবে আজ রাত যাবে কেটে কেবলি অর্থহীনভাবে।কেটে যাবে এই প্রশ্ন জেগে – ‘যে-মামুন আমাকে কান ধ’রে নামিয়ে এনেছিলো কবিতার মাঠে, সেই মামুন টগর কিবরিয়া হ’য়ে পুনরায় মামুন-য়েই ফিরে গেলো-কেনো?
টিপু ভাই মানে ছড়াকার টিপু কিবরিয়া আমাকে একদিন টগর কিবরিয়া-কে না নিয়েই একা একা শিশু একাডেমিতে যেতে বলেছিলো কেনো সেই নব্বইয়ের দশকে কোনো এক পড়ন্ত দুপুরে।আজ রাত্রেও তা না জেনেই রাত কেটে যাবে।রিটন ভাই – আমাদের প্রিয়তম ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ভাইকে একদিন ‘শার্লি-কে লেখা চিঠি’ শুনিয়ে অবাক করে দিয়েছিলাম অমর একুশে গ্রন্থমেলায় – সে কথা রিটন ভাইয়ের কি আজও আছে মনে!
না জেনেই কেটে যাবে এই রাত।জানা তো হবে না যেকোনো ভাবেই – মৃত্যুর পর আসলে কী হয় বা হতে পারে- এসব নিয়ে কোনো মীমাংসিত সত্যে সমগ্র মানুষ জাতী মিলেও পারলো না পৌঁছুতে কেনো!না পারলেও আজ রাত তবু কেটে যাবে।কেটে তো যাবেই আজ রাতেও আমি কোনো কবিতা লিখতে না পারলেও, যেমন পারি নি জীবনের একটি রাতেও।যাক না।সমস্যা তাতে নেই।শুধু এইটুকু ভেবে মনে হয় আজ রাতটি না হয় নাইবা কেটে গেলো, থেকে গেলো না হয় চিরন্তন এক অনন্ত রাত্রি হয়ে,যেহেতু আজ রাতে,সুদর্শনা, তোমাকে পড়ছে মনে ,শুধু তোমাকেই।










