ইডিপাস ইজ এভরিম্যান

যুবক অনার্য :

‘এই মুহুর্তে আমি বসে আছি একটি ঘরে।’- এটা একটি স্ট্রেইট লাইন।বিনয় মজুমদার শহীদ কাদরী আল মাহমুদ বা আবুল হাসান হলে বোলতেন না এভাবে নিশ্চয়ই,তাই তারা হলেন তারা আর আমি হলাম না লায়েক আমি। আমি যে- ঘরে বসে আছি তার একটি দরোজা আছে, দরোজাটি বন্ধ একটিমাত্র ঘুলঘুলি আছে আর একটি জানালা।জানালাটি অর্ধ খোলা।বাইরে বনাঞ্চল।এখানে আমাকে কে বা কারা আটকে রেখেছে- আমি জানি না।তবে এটুকু নিশ্চিত -এই মহান কম্মটি মানুষেরাই করেছে।

কেনো করেছে তাও আমার জানা নেই। ব্যাপারখানা ষোলাআনাই রহস্যময়।আমাকে বেলায় বেলায় একটা ষোড়শী মেয়ে খাবার পৌঁছে দেয়।এটাও রহস্যময় আর মেয়েটাকে ঘিরেও রয়েছে আরেক রকমের রহস্যময়তা।মেয়েটিকে কিছু জিজ্ঞেস করলে কখনো জবাব দেয় না।সে কি কথা বোলতে পারে না নাকি বোবা আমি ঠিক জানি না।নাকি তাকে আদেশ করা হয়েছে আমার সঙ্গে কথা না বোলতে!মেয়েটির প্রসঙ্গ আপাতত থাক।এখানে আসার পর আমি একদিনও স্নান করি নি, করতে দেয়া হয় নি।

কারো সঙ্গে দু’য়েকটা কথা বলবো সেরকমও কেউ নেই।সম্ভবত জায়গাটি বনের অনেক ভেতরে এবং যারা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে জায়গাটি ভালোমতো কেবল তাদেরই দখলে, তাই এদিকটায় কেউ আসে না।আমি জানি না আমাকে এরা বাঁচিয়ে রাখবে নাকি মেরে ফেলবে, ফেললেও সেটা কবে কোনদিন!- এসব চিন্তার চেয়েও বেশি হাহাকার তৈরি করেছে- কথা বলার একটি মানুষও নেই।এমন কেউ এসে এই কথাটুকুও বলে না যে – তোমার সঙ্গে কোনো কথা বলবো না- কিছুকাল কথা বলা কিংবা যোগাযোগ বন্ধ থাকুক।

পৃথিবীতে এরকম জীবনও যে রয়েছে – এ আমার নিজেরই বিশ্বাস করতে বিষ্ময় লাগে।প্রশ্ন হলো – আমি কে! কে এই আমি! -আমি হলো সেই হরিণ যার চারপাশে জেগে আছে রাষ্ট্রীয় চিতার অশ্লীল কুচকাওয়াজ!

You might like