
যুবক অনার্য :
তোকে একজনমে ভালোবেসে বুঝতে পারি -তোকে ভালোবাসতে হলে আমার অনন্তজনম প্রয়োজন কিন্তু অনন্তজনম বোলে কিছু আছে কিনা আমার জানা নেই,থাকলে সেই জীবনে তোর সঙ্গে আমার দেখা হবে কিনা জানা নেই তাও।এবং আমি এটুকু নিশ্চিত যে আমি যেভাবে ভাবছি তুই মোটেও ভাবছিস না সেইভাবে কারণ তোর আর আমার সম্পর্কটা কোনোভাবেই সেরকম নয়।তাহলে কোন রকম? তুই বল নাকি আমি বোলবো!আচ্ছা প্রথমে তুই বল।

যুথি: তুমি আমার খুব ভালো বন্ধু, এর বাইরে তোমাকে অন্য কিছু আমি ভাবিনি কখনোই
আমি: আমিও অন্যকিছু ভাবিনি।শুধু বুঝতে পেরেছি তোকে ধারণ করার মত পুরুষ ইহজগতে এই অবিনাশ ছাড়া অন্য কেউ নেই
যুথি: কেনো এরকম অদ্ভুত কথা মনে হলো!
আমি: মনে হলো কারণ আমি তোর সর্বস্ব জানি হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে তোকে চিনে নিয়েছি
যুথি: অন্য কেউ এসেও তো চিনে নেবার সুযোগটা হারিয়ে যাচ্ছে না,তাইনা?
আমি: হ্যাঁ, তাই কিন্তু পুরনো দেয়ালে রঙ কাজ করার আগে পুরনো দাগগুলো মুছে নিতে হয় শিরিষ কাগজ দিয়ে।তুই কোনো দেয়াল নস তাই আমি যে -দাগ বসিয়ে দিয়েছি সেই দাগ মুছে ফেলবার কোনো শিরিষ কাগজ কারো কাছ নেই কেননা ওটা আবিষ্কার হয় নি হবেও না
যুথি: তুমি সুপারিওরিটি কমপ্লেক্সে ভুগছো
আমি: হোক না সুপারিওরিটি কমপ্লেক্স, তাতে কি এসে যায়!
যুথি: এসে যায় কারণ তুমি যেভাবে ভাবছো বাস্তবতা সেরকম নয়
আমি: আমি অযৌক্তিক বাস্তবতায় বিশ্বাসী নই, সে তুই জানিস ভালো করেই
যুথি: ফেন্টাসিতে ডুবে থাকতে থাকতে কেউ এসে বনের সমস্ত ফল সন্তর্পণে নিয়ে যাবে
আমি: যুথি,তুই নিজেই চাচ্ছিস কেউ এসে নিয়ে যাক।সেক্ষেত্রে আমার আসলে কিছুই করবার নেই।শুধু বোলবার আছে- অনন্তজনম তোকে পাবো না কিন্তু অনন্তজনম যাবো ভালোবেসে
যুথি: ঠিক আছে, তাতে যদি তুমি সান্ত্বনা পাও আমার অসুবিধে নেই
এতো কিছু বোলবার পরেও যুথিকে বোঝানো গেলো না।আমরা বসে ছিলাম রাধা পুকুরের পাড়ে।আমি উঠে যেতে যেতে বোল্লাম: তোর সবকিছুই আমার কিন্তু তুই অন্যজনের
যুথি: সমস্যা হবে না।আমি ঠিক মানিয়ে নেবো
আমি: দুঃখজনক।পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে মেয়েদেরকেই মানিয়ে নিতে হয়,কেউ মেয়েদের সঙ্গে মানিয়ে নেয় না
যুথি: কি করবো বলো- আমিও তো সেই পুরুষতন্ত্রেরই শিকার
এরপর আমার তেমন কিছু বোলবার থাকেনা।ইচ্ছেটাও হারিয়ে যায়।ফেরার সময় ওর চিবুক ছুঁয়ে বোল্লাম – আমাকে ভুলে যেতে পারলে তুই সুখী হতিস কিন্তু তুই তা পারবি না।
যুথি: সুখী হতে হলে যদি তোমাকে ভুলে যেতে হয় তবে সেই সুখ আমি চাই না
ওর কথায় আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।বলে কি মেয়ে!
বোল্লামঃ তাহলে বাধাটা কোথায়!
যুথি: ধর্ম
আমি: বাঘ শেয়াল পাখি মাছ গাছ কারুরই ধর্ম নেই শুধু মানুষেরই ধর্ম আছে।আমি জানি তুই আমার কথায় স্বস্তি বোধ করবি না তবু বোলছি- ধর্মের দৌরাত্ন্য শুধু মানুষের জীবদ্দশায়। চিতার আগুনে পুড়িয়ে দেবার পর বা পুড়ে যাবার পর ধর্মের সমস্ত কারসাজি শেষ।সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায় শুধু ছাইটুকু থাকে।ধর্ম মানে কয়েক কেজি ছাই,এর বেশি কিছু নয়।
যুথি: এসব বোলো না, পাপ হবে।
আমি হো হো করে হেসে ফেলে বোল্লাম: আমার কাছে পাপ বলে কিছু নেই।ধর্মকে ভাঙানোই আমার কাছে প্রধানতম পাপ মনে হয়।
যুথি এরপর আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না।আমাকে আলতো করে ছুঁয়ে চলে গেলো।পেছন থেকে যুথির দিকে চেয়ে আমার মনে হলো- আমার কাছ থেকে ধর্ম যুথির শরীরকে ছিনিয়ে নিতে পেরেছে, পারেনি মনটাকে ছিনিয়ে নিতে।শরীরকে বাদ দিলে ধর্ম পঙ্গু হয়ে যাবে, তাইতো শরীর নিয়েই ধর্মের চুড়ান্ত খেলা।মনের কাছে শরীর হেরে যায়, তাহলে মনের কাছে ধর্মও হেরে যাচ্ছে।মনের কাছে ধর্ম হেরে যায় বোলেই আমি যুথিকে অনন্তকাল ভালোবেসে যেতে পারি অর্থাৎ মনের কাছে ধর্মের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং যারা ধর্ম নামক আফিমটি বানিয়েছিলো তাদের কোনো মন নেই,থাকতেই পারে না এবং পারে না কিছুতেই! তারা মূলত শরীর সর্বস্ব প্রাণী যারা নিজেদের শরীর চরিতার্থ করে অন্যদের শরীরের উপর জারি করে দেয় জলপাই রঙের কারফিউ।
ReplyForward










