রোদ্দুর রায়- কে নিয়ে লেখা একটি মক্সা

যুবক অনার্য :

তার সঙ্গে আমার দেখা হয় নি হবেও না কোনোদিন।একদিন রবীন্দ্রভারতীতে শুরু হলো তোলপাড় তুমুল আর অই ইশকুলের মেয়েগুলিও শুরু করে দিলো তার বিতর্কিত প্যারোডি যে প্যারোডি বস্তুত নাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো প্রাতিষ্ঠানিক অবদমন আর কূটচক্রের ভীত:”যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে সালা চাঁদ উঠেছিল গগণে”।রাবীন্দ্রিক আঁতেল সুশীল সমাজ এমনকি সম্মানিত শিক্ষক-সমাজ তেড়ে এলো।”গেলো গেলো” রব তুলে তারা এলো।তারপর মামলা এফ আই আর আরও কতোকিছু।

এরকমই হয়।এটাইতো মুক্তবাদের ইতিহাস- সেই যে কবে থেকে- সক্রেটিস জিওর্দানো ব্রুনো…বিট জেনারেশন হাংরি জেনারেশন আরও কতোশত উদাহরণ। ক্ষমতার ভাষার বিরুদ্ধে বললে সকল কালেই নিয়তি আলাদা রকমের কিছুতো নয় বরং অভিন্ন এবং অনুরূপ।

কমল কুমার মজুমদার বলেছিলেন: ভাষাকে যিনি আক্রমন করেন তিনিই ভাষাকে রক্ষা করেন।রোদ্দুর রায়ের গানকে ভাবা হচ্ছে তিনি রবীন্দ্রনাথকে আক্রমন করেছেন,তাহলে তো বলতে হয় তিনি রবীন্দ্রনাথকে রক্ষাও করছেন।তিনি কি রবি ঠাকুরকে ভালোবাসেন না? নিশ্চই বাসেন।তিনি তার মতো করেই বাসেন যেমন নাকি বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথকে আক্রমন করেছেন এবং ভালোওবেসেছেন তার মতো করেই।রোদ্দুর প্যারোডির জন্য বেছে নিয়েছেন রবি বাবুর একটি গান কিন্তু তিনি তো রবি বাবুর উদ্দেশে বিদ্বেষমুলক কিছু বলেন নি কারণ রোদ্দুরও জানেন শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথই রবীন্দ্রনাথ, আর কেউ রবীন্দ্রনাথ নয় এবং হয়তো আর সম্ভবও নয়।

রোদ্দুর রায়, সংক্ষেপে শেষ করছি আমি,জানি এ কথা যদিও পৌঁছে যাবে না আপনার কাছে ভার্চুয়ালি কিংবা সশরীরে।আসলে হয়েছে কি জানেন – আপনার কবিতা আর গান আর তীব্র প্রতিবাদী মক্সা যা মনে করিয়ে দেয় দাদাইজম স্যুররেয়ালিজম,মেয়েগুলিকে নাচাতে পেরেছিলো যা পারে নি প্রতিষ্ঠান তথাকথিত সুশীল সভ্যজন- মুলত এই ঈর্ষা থেকেই উহারা তেড়ে এসেছিলো।আপনি ছিঁড়তে পেরেছেন যা পারে নি ওরা পারবেনা তাই আপনার পিছনে লেগে গেলো ডাল কুত্তার মতো।অথচ আপনি তো জানেন বটেই,জানি আমিও: মনে মনে আড়ালে আবডালে সুযোগ বুঝে এ সকল সুশীলও বা… চো… ভো… ইত্যাদি শব্দমালা আউড়ে যায় আর খুব গোপনে যেন “চরম ক্যাওরা” টিও টের না পায় ,গেয়ে চলে আপনারই মক্সা মানে রোদ্দুর রায়ের প্যারোডি:” যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে সালা চাঁদ উঠেছিল গগণে বা… চাঁদ উঠেছিল গগণে…”

You might like