

(যাকোব ৪:১-৫ পদ)
সুখ মানে সুখ , আনন্দ , স্বাচ্ছন্দ্য, আনন্দ বা পরমানন্দ। সুখের প্রকৃত অর্থ হল তৃপ্তি এবং সুস্থতার একটি অবস্থা, যা আনন্দ, তৃপ্তি এবং পরিপূর্ণতার অনুভূতি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এটি শুধুমাত্র নেতিবাচক আবেগের অনুপস্থিতি নয় বরং মনের একটি ইতিবাচক অবস্থা যা নিজের এবং অন্যদের সাথে উদ্দেশ্য এবং সংযোগের অনুভূতি অন্তর্ভুক্ত করে। সুখ কামনা কার হৃদয়ে নাই? সকলেরই হৃদয়ে এ কামনা রয়েছে; এবং তা’ চিরকালের জন্যে। জীবনে সুখের জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা প্রত্যেকটি মানুষেরই রয়েছে। সুখ একটি মানবিক অনুভূতি।
সুখ মনের একটি অবস্থা বা অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সমাজে ধনী,গরিব,সুখী,অসুখী; বিভিন্ন ধাঁচের মানুষের বসবাস।তবে বর্তমানে সুখী মানুষ খুঁজে পাওয়া সোনার পাথর বাটির মতো। সকলেই সুখী হতে পারে না। তবে সুখী হতে পয়সা লাগে না। নিজের ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই সুখী হওয়া সম্ভব। নিজের যতটুকু আছে তন্মধ্যে সন্তুষ্ট থাকলে, আনন্দ খুঁজে পেলে সুখী হওয়া কঠিন কিছু না। সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। তবে মনে রাখতে হবে, ধনবান ব্যক্তি হলেই সুখী হওয়া যাবে, তা নয়। ছোট কুটিরেই সুখ লাভ করা যায়। আজকাল সুখ একটি ঝাপসা ধারণা এবং ভিন্ন ভিন্ন লোকের কাছে তার অর্থ ভিন্ন মনে হতে পারে। ব্যাপক অর্থে সুখ হল একটি পরিবারের জন্য আনন্দদায়ক একটি অবস্থা, যেমন আনন্দ, পরিতৃপ্তি, সন্তুষ্টি, উষ্ণতা এবং জয়লাভ। সুখ পুরোপুরি বহিরাগত বিষয় নয় এমনকি মুহূর্তের আনন্দ থেকেও তা প্রাপ্ত হয় না। সুখের সত্য হলো, সুখ এমন কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু নয় যেখানে আমরা পৌঁছাতে পারি এবং চিরকাল সেখানেই থাকতে পারি। সুখ একটি গতিশীল প্রক্রিয়া; যার মধ্যে উত্থান-পতন, চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ, বৃদ্ধি এবং পরিবর্তন জড়িত। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া আনন্দ এবং সৌন্দর্যের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে উপলব্ধি করুন। গীতসংহিতা ১০ : ২ পদে রয়েছে, “সানন্দে সদাপ্রভুর সেবা কর; আনন্দগানসহ তাঁহার সম্মুখে আইস।” শাস্ত্রের এ অংশের বিষয়টিকে আমরা ভোবে গ্রহণ করতে পারি যে, সুখে থাকার বাসনায় অন্ধ হয়ে পাপ কাজে লিপ্ত থেকে সুখ আসে না; বরং জগতের মিত্রতা হেতু ঈশ্বরের শত্রু হতে হয়।

মানুষের মধ্যে যুদ্ধ ও বিবাদ সুখ নষ্ট করে ঃ চারিদিকে তাকালে আমরা দেখি প্রতিটি মানুষই সুখের জন্যে মরিয়া হয়ে আছে। সুখে থাকার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে। আর সুখে থাকতেই মানুষ বিবাদে লিপ্ত হয়। কেননা বিবাদে জয়ী হলেই সুখ পাওয়া যাবে-এমন ভাবনা মনে স্থির হয়ে থাকে। যুদ্ধ এবং সুখ সাধারণত একসাথে বেমানান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। যুদ্ধ সাধারণত সহিংসতা, ধ্বংস, এবং মানবিক কষ্টের সাথে সম্পর্কিত। যুদ্ধের সময় মানুষ মারা যায়, পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়, সম্পদ নষ্ট হয় এবং সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। এসবকিছুই মানুষের সুখ ও শান্তির পরিপন্থী। সুখ সাধারণত নিরাপত্তা, সুস্থতা, সম্পর্কের স্থিতি এবং মানসিক প্রশান্তির সাথে সম্পর্কিত। যুদ্ধ এসব উপাদানগুলোকে ধ্বংস করে; যা’ মানুষের সুখের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। যুদ্ধের মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ব্যক্তির উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যুদ্ধজনিত ট্রমা, হতাশা, এবং উদ্বেগ সুখের বিপরীতমুখী; যা’ কেউ প্রত্যাশা করে না। যুদ্ধ সমাজ ও অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। স্থায়ী উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি অবহেলিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুখ অর্জন করা কঠিন হয়ে যায়। যদিও যুদ্ধ সাধারণত সুখের পরিপন্থী, কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধের পরে বা যুদ্ধের কারণে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজস্ব উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যমে সন্তুষ্টি বা আনন্দ অনুভব করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত জনগণ যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতা অর্জন করলে এক ধরনের আনন্দ ও তৃপ্তি অনুভব করতে পারে। তবে এ আনন্দ যুদ্ধের সময়কালীন কষ্ট ও দুঃখকে প্রশমিত করে না। সুতরাং, যুদ্ধ এবং সুখ সাধারণত বেমানান বিষয়। যুদ্ধ মানবিক মূল্যবোধ ও সুখের মৌলিক উপাদানগুলির সাথে বিরোধপূর্ণ। শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুখের জন্যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী, যা’ যুদ্ধের পরিপন্থী। আর বিবাদ অপছন্দনীয় কাজ হওয়া উচিত; কেননা তা’ সুখ নষ্ট করে। পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ হলেই হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা, গালি দেয়া চলমান থাকে। কারণ ঝগড়া-বিবাদের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বাধানো সুখ ধ্বংসের কারণ। যেসব কাজ দ্বারা পরস্পরের ঝগড়া-বিবাদ, ঘৃণা-বিদ্বেষ ও মনোমালিন্য দূর হয়ে যায় তা’ করার জন্যে উৎসাহ দিতে হবে।
কেননা এর দ্বারা আমাদের প্রত্যাশিত সুখ নষ্ট হয়ে যায়। কারণ, মানুষ ঝগড়া-বিবাদ করলে নানা পাপাচারে লিপ্ত হয়। আর অন্তর থেকে সত্যের আলো হ্রাস পেতে থাকে। কেননা সামান্য বিষয়ে রাগারাগি, বকাঝকা ও গালাগাল করার মাধ্যমেও সুখ নষ্ট হয়। এতে করে পরস্পরের মতামত শোনার মনোভাব থাকে না। তখন তারা হয় অহংঙ্কারী, উদ্ধত, রুক্ষ, নির্দয় ও একগুঁয়ে স্বভাবের। এ স্বভাবের মানুষের ঘর-সংসার নরকসম। রাগী মানুষ শুধু নিজেই অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকে তা’ নয়; এ স্বভাবের মানুষের চারপাশের লোকদের মানসিক কষ্ট-যাতনা ও অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দাম্পত্য জীবন থেকে ভালোবাসা, হৃদ্যতা ও সুসম্পর্ক বিদায় নেয়।
সর্বদা ঝগড়াঝাঁটি ও বিবাদ-কলহ লেগে থাকে। এমন লোকের কারণে সমাজে প্রচুর সমস্যা ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে এ স্বভাবের মানুষ বন্ধু ও সঙ্গীহীন হয়ে পড়ে। সুতরাং কারও ভালো কিংবা মন্দ কথায় হুট করে রেগে না যাওয়া, চিৎকার চেচামেচি না করা। রাগী আচরণ কোনো সমাধান নয়, সুন্দর ও কোমল ভাষায় শান্তভাবে কথা খুব কঠিন পরিস্থিতিরও সমাধান দিতে পারে এবং সেখানে সুখ থাকে।
মানুষের সুখাভিলাষ অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে তারা সুখাভিলাসে গা ভাসিয়ে দিতে গিয়ে প্রকৃত সুখকেই নষ্ট করে ফেলছে। কেননা অভিলাষ করার কারণেই সুখ প্রাপ্তি হয় না। ১ পিতর ৪:৩ পদে রয়েছে, “কেননা পরজাতীয়দের বাসনা সাধন করিয়া, লমপটতা, সুখাভিলাষ, মদ্যপান, রঙ্গরস পানার্থক সভা ও ঘৃণার্হ প্রতিমাপূজারূপ পথে চলিয়া যে কাল অতীত হইয়াছে, তাহাই যথেষ্ট।” ২ পিতর ২:১৮ পদে রয়েছে, “কারণ তাহারা অসার গর্বের কথা বলিয়া মাংসিক সুখাভিলাষে, লমপটতায়, সেই লোকদিগকে প্রলোভিত করে, যাহারা বিপথগামীদের নিকট হইতে সমপ্রতি পলায়ন করিতেছে।”
জগতে একশ্রেণীর কিছু মানুষের সুখাভিলাষ অতিরিক্ত হওয়ায় তাদের কারণে বিরাট জনগোষ্ঠী যাতনায় ভোগছে। এতে কোনো সুখ আসতে পারে না। মানুষ আজ জগতের ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে আসল উদ্দেশ্য ভুলে গেছে। জগতের পেছনে জীবন-মরণ সাধনা করতেছে; অথচ বাড়ি-গাড়ি সম্পদ কোনোকিছুই সঙ্গে যাবে না। ইয়োব ১:২১ পদে রয়েছে, “…আমি মাতার গর্ভ হইতে উলঙ্গ আসিয়াছি, আর উলঙ্গ সেই স্থানে ফিরিয়া যাইব; সদাপ্রভু দিয়াছিলেন, সদাপ্রভুই লইয়াছেন; সদাপ্রভুর নাম ধন্য হউক।” পার্থিব এ ক্ষণস্থায়ী জীবনের জন্যে আমরা কতো কিছুই না করি। ভালো-মন্দ ভুলে গিয়ে নানান পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ছি। আমরা আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে এ ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতি বেশি মনোযোগি হয়ে যাই। অথচ জগতের চাকচিক্য, সৌন্দর্য, আমাদের মধ্যে পারস্পরিক আত্মশ্লাঘা এবং ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা মাত্র। অথচ আজ আমরা পার্থিব জীবনের জন্যেই যাচ্ছেতাই করে যাচ্ছি। তাই কখনো কখনো কোনো কোনো মানুষ খারাপ কাজ করেই ক্ষ্যান্ত হয় না; বরং তারা পৃথিবীকে সারাজীবনের আবাসস্থল ভেবে পৃথিবীর মোহে আকৃষ্ট থাকে।
তাদের কাছে পার্থিব জগতটাই সব, পরকাল নিয়ে তাদের কোন চিন্তা নেই। অথচ তারা একবারের জন্যও ভাবে না যে, তাদের অর্থের দম্ভ আর বাহ্যিকতার আজ কোনই মূল্য নেই। তাই আমরা যদি এই ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের মায়া ত্যাগ করে, একবার পরকালের চিন্তা করে কাজ করি তাহলে হয়তো নিজে এবং আমাদের পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে পারব। তাই আসুন, পার্থিব ভোগবিলাসে মত্ত না হয়ে পরকালের কথা স্মরণ করে যাবতীয় মন্দ কাজ পরিহার করি আর সৎপথে জীবনযাপন করার চেষ্টা করি।
সুখ না পাওয়ার কারণ : আমরা সুখ চাই; কিন্তু পাই না। কেননা আমরা যথাযথভাবে ঈশ্বর হতে সুখ চাইতে পারি না। আমরা মন্দভাবেই চাই। আর মন্দভাবে চাওয়ার উদ্দেশ্য হলো-যেন আসরা ভোগবিলাস করতে পারি। আমাদের যা আছে- সেটা ঘরবাড়ি পরিবার চাকরি স্বাস্থ্য বন্ধু চেহারা ইত্যাদি যাই হোক- এসবের এক বা একাধিক জিনিস নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট না। আমরা আরও বেটার কিছু চাই। এজন্যই আমরা সুখ পাই না। সত্যিকারে আমাদের বর্তমান যা’ আছে সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট না এজন্যেই আমরা সবসময় আরো ভালো কিছু চেয়ে অসুখী হই? এর উত্তর লুকায় আছে মানব সভ্যতার বিকাশে। এখন আমরা মানব সভ্যতাকে যেভাবে দেখি এইটা কখনোই এরকম ছিলো না। হিসেব করলে এ মাত্র হলো-মানুষ কৃষিকাজ করা শিখছে, খাবার জমানো শিখছে; ফ্রিজ-ওভেন এগুলো ত ধরেন কালকের ঘটনা। এসবই আমাদেরই সুখে থাকার জন্যে। আগে মানুষ কষ্টকর জীবন কাটাতো।
তখনও মানুষের আরো সুখের জন্যে চেষ্টা করতো। এভাবে করতে করতে পৃথিবীর কতো উন্নতি হয়েছে; তবুও আমরা সুখী হতে পারছি কোথায়? আমাদের আরো উন্নতি দরকার। আমাদের মানসিকতা প্ররোচিত করে, কারণ যদি পরেরদিন খাবার না থাকে, এ ভয় আমাদের মজ্জায় মজ্জায় ঢুকে গেছে। যারা ৪ তলা বাড়ি আছে, সেও চিন্তা করে যদি ৫ তলা করতে পারতাম। মনের কল্পনায় যদি ভাবি, আমি একটা ফলের বাগান পেয়ে গেছি। তাই আগামী দুই মাস খাওয়া নিয়ে চিন্তা নাই, থাকার জায়গা নিয়েও চিন্তা নাই। কিন্তু আমি তো মনের সুখে দিনরাত ঘুমাবো না। আমার মাথায় চিন্তা কাজ করবে। আমি সুখী হতে পারবো না। আমি তখন চিন্তা করবো – আরেকটা ফলের বাগান খুঁজে বের করতে আরও দূরে। কারণ হাতের কাছের ফলের বাগান শীতকালে ফল দিবে না।
এ ফলের বাগানের আশায় থাকলে সামনের শীতকালে না খেয়ে মরতে হবে পুরা ফ্যামিলিসহ। এভাবেই চলছে মানবসভ্যতা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। নিজের বর্তমান অবস্থায় যে একটু সুখী হয়েছে, যার তীব্র কম্পিটিশন করার মনোভাব একটু কমে গেছে তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেছে। যারা প্রতিনিয়ত প্রচন্ড অসুখী ছিল, প্রচন্ড প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার ছিল, প্রতিনিয়ত খাবারের ভাগ নিয়ে কামড়াকামড়ি করেছে তারাই টিকে গেছে; কিন্তু সুখী হতে পারলো কোথায়। সুখী হওয়া আমাদের ন্যাচারাল বৈশিষ্ট্য না। সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু আমাদের ন্যাচারাল বৈশিষ্ট্য না একই কারণে। ন্যাচারালি সুখী হওয়া সম্ভবও না কারণ আমরা সচেতনভাবে টের না পাইলেও লক্ষ কোটি বছরের ট্রমা আমরা আমাদের ব্রেনে বয়ে বেড়াচ্ছি। আর সুখী হতে না পারলে ঈশ্বরকে দোষারোপ করতেও দ্বিধাবোধ করি না। কিন্তু আমরা যে মন্দভাবে চাইছি সেটা মোটেও চিন্তা করছি না।
জগতের মিত্রতাই ঈশ্বরের সাথে শত্রুতার সৃষ্টি করছে। কেননা জগত ও জগতের সবকিছুকেই বেশি ভালোবাসি এবং তাতে মত্ত হই। জাগতিক কার্যক্রমে আমরা সময় ব্যয় করছি বেশি; কিন্তু ঈশ্বরকে সময় দেয়ার সময় আমাদের নেই। ১ যোহন ২ অধ্যায় ১৫ থেকে ১৭ পদে রয়েছে, “তোমরা জগৎকে প্রেম করিও না, জগতীস্থ বিষয় সকলও প্রেম করিও না। কেহ যদি জগৎকে প্রেম করে, তবে পিতার প্রেম তাহার অন্তরে নাই। কেননা জগতে যাহা কিছু আছে, মাংসের অভিলাষ, চক্ষুর অভিলাষ, ও জীবিকার দর্প, এই সকল পিতা হইতে নয়, কিন্তু জগৎ হইতে হইয়াছে। আর জগৎ ও তাহার অভিলাষ বহিয়া যাইতেছে; কিন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে, সে অনন্তকালস্থায়ী।” অথচ জগতকেই আমরা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। জাগতিক আনন্দ কোনো আনন্দই না; প্রকৃত আনন্দ ঈশ্বরকে ভালোবাসার মাধ্যমেই পাওয়া যায়। সুতরাং পরস্পরকে আহ্বান করা উচিত যে, ‘জাগতিক আনন্দ নয়; আধ্যাত্মিক আনন্দে আনন্দিত হন।’ তাই আমরা দেখতে পাই যে, পতিত, কলুষিত এবং পাপে আচ্ছন্ন জগতের অনুসারী হয়ে আমাদের কোন লাভ হবে না।
সমস্ত জাগতিক জিনিসেরই শেষ হবে। কিন্তু যারা যীশু খ্রীষ্টকে অনুসরণ করে তারা কখনও বিনষ্ট হবে না। হিতোপদেশ ১০:২৫ ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুষ্ট আর নেই: কিন্তু ধার্মিকরা চিরস্থায়ী ভিত্তি। মাংসে ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সরাসরি বলেন যে, সমস্ত জগৎ, তার সমস্ত বন্ধুত্ব এবং সম্পদ, এমনকি সমগ্র জগৎ, অর্জন করা সম্পূর্ণরূপে মূল্যহীন। মার্ক ৮:৩৬ পদ অনুযায়ী- কারণ একজন মানুষ যদি সমগ্র জগৎ লাভ করে এবং তার আত্মা হারায় তাহলে তার কী লাভ! আমরা কীভাবে আমাদের আত্মা হারানোর এবং চিরকালের জন্য ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিণতি এড়াতে পারি? রোমীয় ১০:৯,১০ পদে রয়েছে, “কারণ, যদি তুমি তোমার মুখে স্বীকার করো যে যীশু হলেন প্রভু এবং তোমার হৃদয়ে বিশ্বাস করো যে ঈশ্বর তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করেছেন, তাহলে তুমি পরিত্রাণ পাবে। কারণ হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে এবং ধার্মিক গণিত হয়, এবং মুখ দিয়ে স্বীকার করে এবং পরিত্রাণ পায়।”
ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন; কিন্তু ন¤্রদিগকে অনুগ্রহ প্রদান করেন। যাকোব ৪:৬ বলে, “ঈশ্বর অহংকারীদের বিরোধিতা করেন কিন্তু নম্রদের অনুগ্রহ দান করেন।” এ পদটি জোর দিয়ে বলে যে ঈশ্বর সক্রিয়ভাবে অহংকারীদের প্রতিরোধ করেন। হিতোপদেশ ১৬:১৮ বলে, “অহংকার ধ্বংসের পূর্বসূরী, অহংকারী মন পতনের পূর্বসূরী।” এই প্রবাদটি সতর্ক করে যে অহংকার পতনের পূর্বসূরী। ১ পিতর ৫:৫-৬ পদে বিশ্বাসীদের উৎসাহিত করে, “নম্রতার বর্ম পরিধান কর… কারণ ঈশ্বর অহংকারীদের বিরোধিতা করেন কিন্তু নম্রদের অনুগ্রহ দান করেন।” এই অংশটি নম্রতার গুরুত্ব এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহের সাথে এর সংযোগকে মজবুত করে। পবিত্র বাইবেলে, অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যেখানে ব্যক্তিরা তাদের অহংকারের কারণে নেতিবাচক পরিণতির সম্মুখীন হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, বাবিলের রাজা নবুখদ্নেৎসর, অহংকারী হওয়ার পর ঈশ্বরের দ্বারা নত করা হয়েছিল (দানিয়েল ৪)। অহংকার ঈশ্বর-কেন্দ্রিক নয় এমন হৃদয় থেকে উদ্ভূত হয়। এটি আত্ম-পূজা এবং নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছার ফল।
অহংকার একাকিত্ব, সংঘাত এবং অবশেষে আধ্যাত্মিক পতন ঘটাতে পারে। এটি ঈশ্বর এবং অন্যদের সাথে আমাদের সম্পর্ককে বাধা দেয়। অহংকার অন্যান্য পাপের সাথে যেমন ঈর্ষা, লোভ এবং ক্রোধের সাথে হাত মেলায়। আমাদের নিজস্ব অহংকারের প্রবণতা স্বীকার করা এটিকে কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আর পবিত্র আত্মাই আমাদের জীবনে অহংকার চিহ্নিত এবং কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের সাহায্য করতে পারেন। অহংকার সম্পর্কে বাইবেলের শিক্ষা বুঝতে এবং আমাদের নিজের জীবনে প্রয়োগ করে, আমরা নম্রতা অভ্যাস করতে এবং ঈশ্বরের সাথে গভীর সম্পর্ক অর্জন করতে পারি। নম্রতা অহংকারের প্রতিষেধক। এতে ঈশ্বরের উপর আমাদের নির্ভরতাকে স্বীকার করা এবং আমাদের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা জড়িত। ঈশ্বর জানেন যে কীভাবে গর্বিত, আত্ম-অহংকারী, দাম্ভিক এবং দেমাকিদের বাধা দিতে হয়, প্রতিরোধ করতে হয়, কীভাবে তাদের আটকাতে হয় তা তিনি জানেন। কিন্তু যিনি বিনয়ী, নম্র, নিরহংকারী, যিনি তার কৃতকর্মের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত, পাপবোধে পীড়িত ঈশ্বর তাকে প্রতিরোধ করেন না, বাধা দেন না। সদাপ্রভুর দাস ন¤্রতার সাথে বলেছিলেন “আমি কি লইয়া সদাপ্রভুর সম্মুখে উপস্থিত হইব, ঊর্ধ্বস্থ ঈশ্বরের সম্মুখে প্রণত হইব?
আমি কি হোমবলি লইয়া, একবর্ষীয় গোবৎসদিগকে লইয়া তাঁহার সম্মুখে উপস্থিত হইব? সহস্র সহস্র মেষে ও অযুত অযুত তৈলপ্রবাহে কি সদাপ্রভু প্রসন্ন হইবেন? আমি আপন অধর্মের নিমিত্ত কি আপনার প্রথমজাত পুত্রকে দিব? আমার প্রাণের পাপ প্রযুক্ত কি শরীরের ফল দান করিব? হে মনুষ্য, যাহা ভালো, তাহা তিনি তোমাকে জানাইয়াছেন; বস্তুতঃ ন্যায্য আচরণ, দয়ার অনুরাগ ও নম্রভাবে তোমার ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন, ইহা ব্যতিরেকে সদাপ্রভু তোমার কাছে আর কিসের অনুসন্ধান করেন?” মীখা ৬:৬-৮ পদ।
শাস্ত্রের বচন ফলহীন হতে পারে না। বরং শাস্ত্রের বচনই জগতে পূর্ণ। কিন্তু শাস্ত্রকে আমরা মান্য করি না, অবাধ্য হই। আর আমরা প্রকৃত সুখ হারিয়ে জগতের সুখে মত্ত হই; যা’ আমাদের ঈশ্বরের সাথে শত্রুতার সূচনা করে। মন্দভাবে চাই বলেসুখ পাই না। সুখের জন্যে অন্যকে হত্যাও করতে দ্বিধাবোধ করি না, তবুও সুখ আমাদের জীবনে আসে না। জগতে নষ্ট হওয়ার অনেক পথ রয়েছে। জগতে ব্যভিচারিণীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তারা ও তাদের কার্যকলাপ আমাদেরকে তাদের চলতি পথে তাদের সাথে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা সেই মোহে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলছি। চারিদিকে মানুষের হৃদয়ে ঈর্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে হানাহানি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা বৃদ্ধি পেয়েছে। চারিদিকে অস্থিরতা, পরিবারে অশান্তি, সুখের নেশায় বুদ্ হয়ে থাকা, প্রতিক্ষণে উত্তেজনা লক্ষ্যণীয়। উগ্রতায় সৃজনশীলতা হারিয়ে গেছে-এসবই সুখের পেছনে ছুটতে গিয়ে হচ্ছে। আমাদের মন থেকেই যুদ্ধের উৎপত্তি। শয়তান বা দিয়াবলের পািরচালনায় যখন চলি, তখনই আমাদের মনে হিংসা আসে; আর হিংসার কারণে আমরা আমাদের সুখের ঠিকানা হারাই। ২ পিতর ২:১৩ পদে রয়েছে, “অন্যায়ের বেতনস্বরূপে অন্যায় ভোগ করিবে। তাহারা দিনমানে উদরতৃপ্তিকে সুখ জ্ঞান করে; তাহারা কলঙ্ক ও মলস্বরূপ, তাহারা তোমাদের সহিত ভোজন পান করিয়া আপন আপন প্রেম ভোজে বিলাস করে।” দ্বিতীয় বিবরণ ২৮:৬৫ পদে রয়েছে, “আর তুমি সেই জাতিগণের মধ্যে কোন সুখ পাইবে না ও তোমার পদতলের জন্য বিশ্রামস্থান থাকিবে না, কিন্তু সদাপ্রভু সেই স্থানে তোমাকে হৃৎকম্প, চক্ষুর ক্ষীণতা ও প্রাণের শুষ্কতা দিবেন।”
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ খ্রি.
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন











