বিশ্বাস

ক্ষুদীরাম দাস

বিশ্বাস ও আস্থা, ভরসা, আশ্রয়, অবলম্বন ইত্যাদি সমার্থক শব্দ। আর বিশ্বাস মানে পারিপার্শ্বিক বস্তুসমূহ ও জগত সম্পর্কে যেকোনো ব্যক্তির স্থায়ী প্রত্যক্ষণকৃত ধারণা, উপলব্ধি, জ্ঞান ও তার নিশ্চয়তার ওপর আস্থা। বিশ্বাসের প্রকার করলে দাঁড়ায় সরল বিশ্বাস, জটিল বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস, কূটিল বিশ্বাস, কঠিন বিশ্বাস, তরল বিশ্বাস, বায়বীয় বিশ্বাস, গরল বিশ্বাস, দৃঢ় বিশ্বাস, স্বল্প বিশ্বাস, মাঝারি বিশ্বাস, ভারী বিশ্বাস, টলটলায়মান বিশ্বাস, লোক দেখানো বিশ্বাস ইত্যাদি ইত্যাদি।

কোনো বিষয় সত্য না মিথ্যা তা বিচার করে-সত্য মনে হলে তা’ বিশ্বাস করা অথবা মিথ্যা মনে হলে অবিশ্বাস করা আর মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশি মনে হলে সন্দেহ করা হয়। বিশ্বাস মানে হতে পারে আস্থা, ভরসা। বিশ্বাসের দৃঢ়তা (বিশ্বাস যত বেশি সন্দেহ তত কম) খুব বেশি হলে তাকে বলা যায় ভক্তি বা অন্ধবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস হলো বিশ্বাস বা বিশ্বাসের অনুভূতি যে কোনো ব্যক্তি বা জিনিস নির্ভরযোগ্য বা নিজের উপর বিশ্বাস। আত্মবিশ্বাসের সাথে একটি ইতিবাচক বিশ্বাস জড়িত, যে একজন সাধারণত ভবিষ্যতে যা’ করতে চায় তা’ সম্পন্ন করতে পারে। আত্মবিশ্বাস আত্মসম্মানের মতো নয়, যা’ একজনের মূল্যের মূল্যায়ন। আর নিজের মনের উপর ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা যায়। একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন একজন ব্যক্তি যিনি এক বা একাধিক অন্যান্য পক্ষের (ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গোষ্ঠী) সাথে আস্থার একটি নৈতিক সম্পর্ক রাখেন। সাধারণত, একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি বিচক্ষণতার সাথে অন্য ব্যক্তির জন্যে অর্থ বা অন্যান্য সম্পদের যতœ নেয়। তবুও জীবনের কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরাজিত হলেই বিশ্বাস বা ভরসার স্থানটি দুর্বল হয়ে যায়; যেক্ষেত্রে বিশ্বাস দৃঢ় থাকে, তা’ পরাজিত হওয়ার কারণে হারিয়ে যায় (লূক ১১:২২)।

খ্রীষ্টে বিশ্বাস-যীশুতে বিশ্বাস কেবল একটি মানসিক স্বীকৃতি নয়, বরং এটি তাঁর কাছে আমাদের জীবনের সমর্পণ । এর অর্থ হল স্বীকার করা যে তিনি আমাদের জীবনের প্রভু এবং তিনি যেখানেই যান না কেন আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে ইচ্ছুক। যীশুর কাছে আমাদের জীবন সমর্পণ করে, আমরা তাঁর প্রতিশ্রুত প্রচুর জীবন উপভোগ করতে পারি। যোহন ৩:১৮ পদে রয়েছে, “যে তাঁহাতে বিশ্বাস করে, তাহার বিচার করা যায় না; যে বিশ্বাস না করে, তাঁহার বিচার হইয়া গিয়াছে, যেহেতু সে ঈশ্বরের এক জাত পুত্রের নামে বিশ্বাস করে নাই।” খ্রীষ্টকে অনুসরণ করা তাঁর উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীলতাকে বোঝায়। তিনি তাঁর শিষ্যদেরকে বলেছেন,‘‘আমিই আংগুর গাছ, আর তোমরা তা ডালপালা। যদি কেউ আমার মধ্যে থাকে এবং আমি তার মধ্যে থাকি তবে তার জীবনে অনেক ফল ধরে, কারণ আমকে ছাড়া তোমরা কিছুই করতে পার না। যদি কেউ খ্রীষ্টকে তাদের পাপের ক্ষমাকরী হিসেবে বিশ্বাস করে তাহলে তাঁর একটি নতুন জীবন শুরু হয়— ‘‘যদি কেউ খ্রীষ্টের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে সব নতুন হয়ে উঠেছে।’’ সেই ব্যক্তি খ্রীষ্টের একজন অনুসারী হয়ে ওঠে। আর যীশুর একজন অনুসারী হিসেবে সে শুধুমাত্র তার পাপের ক্ষমার জন্যই না, বরং তার জীবনের র্প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে যীশুর ওপর নির্ভর করে। খ্রীষ্টে বিশ্বাস করার অর্থ হল এই যে আপনি স্বর্গে যাবার জন্য আর নিজের উপর ভরসা করছেন না, কিন্তু আপনি যীশুর উপরে ভরসা করছেন। আমরা চিন্তা করি যে আমাদের ভাল কাজগুলো ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু সেগুলোর দ্বারা আমরা কখনই স্বর্গে যেতে পারব না। আর অবশ্যই যারা ঈশ্বরের পুত্রে বিশ্বাস করে তারা অনন্ত জীবন পেয়েছে-একটি নিশ্চয়তা! ১ যোহন ৫:১৩ পদে রয়েছে, “তোমরা যাহারা ঈশ্বরের পুত্রের নামে বিশ্বাস করিতেছ, আমি তোমাদিগকে এই সকল কথা লিখিলাম, যেন তোমরা জানিতে পার যে, তোমরা অনন্ত জীবন পাইয়াছ।”

যারা বিশ্বাস অস্বীকার করে না-আর যারা কোনো মতেই বিশ্বাস অস্বীকার করে না; বরং দৃঢ় থাকে শয়তানকে পরাজিত করতে পারে। প্রকাশিত বাক্য ২:১৩ পদে রয়েছে, “আমি জানি, তুমি কোথায় বাস করিতেছ, সেখানে শয়তানের সিংহাসন রহিয়াছে। আর তুমি আমার নাম দৃঢ়রূপে ধারণ করিতেছ, আমার বিশ্বাস অস্বীকার কর নাই; আমার সেই সাক্ষী, আমার সেই বিশ্বস্ত লোক আন্তিপা যখন তোমাদের মধ্যে তথায় নিহত হইয়াছিল, যেখানে শয়তান বাস করে, তখনও বিশ্বাস অস্বীকার কর নাই।” এটি একটি শক্তিশালী অর্জন যে, একজনকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করার উপযুক্ত; যা’ আমরা এখানে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

যীশুকে বিশ্বাস করেছি-জগতকে জয় করেছি। ১ যোহন ৫:৫ পদে রয়েছে, “কে জগৎকে জয় করে? কেবল সেই, যে বিশ্বাস করে, যীশু ঈশ্বরের পুত্র।” আমাদের প্রভু তাঁর শিষ্যদের বলেন, “জগতে তোমরা ক্লেশ পাইতেছ; কিন্তু সাহস কর, আমিই জগৎকে জয় করিয়াছি” (যোহন ১৬:৩৩)। তিনি আমাদেরকে আরো বলেন যেন আমরা বিশ্বাসে চলি; তিনি বলেন, “তোমরা সর্পের ন্যায় সতর্ক এবং কপোতের ন্যায় অমায়িক হও” (মথি ১০:১৬)। আমরা বিশ্বাস করি যে, প্রভুই আমাদের প্রায়শ্চিত্তকারী হয়েছেন। আর আমরা জানি যে, আমারা যারা বিশ্বাস করি যে, প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে চিরকালের জন্য মোচন করেছেন, আমাদের সকলকে প্রভু সেই বিশ্বাস দান করেছেন, যার দ্বারা আমরা এই জগতকে জয় করতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের প্রভুই আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন; আমাদের সমস্ত মোচনের জন্য তিনিই আমাদের প্রায়শ্চিত্তকারী হয়েছেন, আর এইজন্য তিনি আমাদের সমস্ত পাপ গ্রহণ করলেন এবং এই পাপগুলোর জন্য দন্ড ভোগ করলেন। অন্যকথায়, আমরা প্রকৃতরূপেই বিশ্বাস করি যে, যোহন বাপ্তাইজের নিকট নেওয়া বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ নিজে গ্রহণ করলেন, আমাদের জায়গায় নিজে ক্রুশে হত হলেন এবং মৃত্যু হতে পুনরুত্থিত হলেন। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তাদের সকলকে পিতা ঈশ্বর এই বিশ্বাস দান করেছেন, যা দ্বারা তারা জগৎকে জয় করতে পারে। যীশু স্বয়ং আমাদের পালক ও ত্রাণকর্তা হয়েছেন। প্রভু জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে ধৌত করে আমাদেরকে তুষারের মত সাদা করে দিয়েছেন। আমাদের প্রভু জল ও রক্ত দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ মোচন করেছেন। যর্দন নদীতে যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা তিনি আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে তুলে নিয়েছেন। তারপর, তিনি, আমাদের সমস্ত পাপের দন্ড ভোগের ক্রুশে হত হতে হলেন; মৃত্যু থেকে তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হলেন এবং এভাবে যারা তাঁতে বিশ্বাস করে, তাদের ত্রাণকর্তা হলেন। আমাদের প্রভু আমাদের পালক হয়েছেন। তিনি আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, যুগান্ত পর্যন্ত তিনি আমাদের সাথে সাথেই থাকবেন। আর এই প্রতিজ্ঞা অনুসারে, তিনি এখন পবিত্র আত্মার বেশ ধরে আমাদের হৃদয়ে বাস করছেন। যখন আমরা প্রভুর ধার্মিকতায় থাকি, তখন আমরা এই জগৎকে জয় করতে পারি। আজকের এই শাস্ত্রাংশটিতে যীশু বলেছেন, “আমাতে থাক, আর আমি তোমাদের মধ্যে থাকি; শাখা যেমন আপনা হইতে ফল ধরিতে পারে না, দ্রাক্ষালতায় না থাকিলে পারে না, তদ্রƒপ আমাতে না থাকিলে তোমরাও পার না” (যোহন ১৫:৪)। যদি আমরা বিশ্বাসে প্রভুর ধার্মিকতায় এবং ঈশ্বরের মন্ডলীতে থাকি, তাহলে আমরা এই জগৎকে সব সময় জয় করতে পারব। তাই, আমাদের নিজেদেরকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করাটা খুবই গুরত্বপূর্ণ। আমাদের নিজেদেরকে যাচাই করতে হবে যে, আমরা প্রভুর মধ্যে আছি কি না? এখানে, যোহন ১৫ অধ্যায়ে প্রভু বলেছেন যে, যদি আমরা তাঁর মধ্যে থাকি, তাহলে আমরা প্রচুর ফলে ফলবান হব। আমাদের প্রভু আমাদেরকে আরো আশীর্বাদ দান করেছেন যেন, আমরা এই জগতে প্রচুর আত্মিক ফল উৎপন্ন ও সঞ্চয় করতে পারি। এইজন্য, সমস্ত ধার্মিক ব্যক্তিদের ঈশ্বরের মধ্যে থাকতে হবে, তাঁর নিজের মানুষ হিসেবে। আর আমাদের সকলের অবশ্যই প্রভুতে বিশ্বাস থাকতে হবে, সত্যিকারভাবে বিশ্বাসে চলতে হবে, এবং ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক থাকতে হবে। ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক থাকা এবং ঈশ্বরে থাকা একই কথা। যখন আমরা ঈশ্বরের মন্ডলীতে থাকি, তখন আমরা তাঁর বাক্য শুনতে পাই; এবং এইভাবে, বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরে থাকতে পারি। ১ যোহন ৫:৪ পদে লেখা রয়েছে, “কারণ যাহা কিছু ঈশ্বর হইতে জাত, তাহা জগৎকে জয় করে; এবং যে জয় জগৎকে জয় করিয়াছে, তাহা এই, আমাদের বিশ্বাস।”

কর্ম ও বিশ্বাস পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কেননা কর্মহীন বিশ্বাস মৃত। বিশ্বাস শব্দটির অর্থ অনেক গভীর। বিশ্বাস মানুষের মনের একটি বিমূর্ত ভাবনা। অর্থাৎ বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হলো মন। কোন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, ঘটনা বা ধারনাকে কেন্দ্র করে মানুষের বিশ্বাস গড়ে উঠে। মানুষের ধর্মীয় অনুশাসন এবং মূল্যবোধও এই বিশ্বাস কেন্দ্রিক। বিশ্বাস মানুষের জীবনাচরনে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বিশ্বাসের সাথে মানুষ আধ্যাতিক চেতনা ও যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গিও জড়িত। যাকোব ২:১৮ পদে রয়েছে, “কিন্তু কেহ বলিবে, তোমার বিশ্বাস আছে, আর আমার কর্ম আছে; তোমার কর্মবিহীন বিশ্বাস আমাকে দেখাও, আর আমি তোমাকে আমার কর্ম হইতে বিশ্বাস দেখাইব।” আবার যাকোব ২:২০ পদে লেখা রয়েছে, “কিন্তু হে অসার মনুষ্য, তুমি কি জানিতে চাও যে, কর্মবিহীন বিশ্বাস কোন কাজের নয়।” আমাদের জীবনকে যা গুরুত্ব প্রদান করে, মূল্যবান করে তোলে তাই এক কথায় বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আমাদের কর্মে প্রতিফলিত হয়। বিশ্বাসের ভিত্তির উপর গড়ে উঠে মূল্যবোধের কাঠামো।মানুষ তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করে। জীবনের প্রতিটি স্তরে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে মূল্যবোধকে প্রয়োগ করে। যেমন একজন ব্যক্তি মানবিকতায় বিশ্বাসী। তিনি জীবজগতের প্রতি সবসময় সহানুভূতিশীল। এখানে তার বিশ্বাস তাকে মানবিক আচরন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সে কারনে তিনি মানবিক আচরনকে গুরুত্ব দেন বা মূল্য দেন। এটাই তার মূল্যবোধ বলে মনে করি।

যারা বিশ্বাস করে না, তাদের প্রতি অনুযোগ। মনের কঠোরতার কারণে যীশুকেও কেউ কেউ বিশ্বাস করতে পারে না। অন্যের বিশ্বাস দেখেও কারো কারো অনুশোচনা জেগে উঠে না। মথি ২১:৩২ পদে রয়েছে, “কেননা যোহন ধার্মিকতার পথ দিয়া তোমাদের নিকটে আসিলেন, আর তোমরা তাঁহাকে বিশ্বাস করিলে না; কিন্তু করগ্রাহী ও বেশ্যারা তাঁহাকে বিশ্বাস করিল; আর তোমরা তাহা দেখিয়া শেষেও এইরূপ অনুশোচনা করিলে না যে, তাঁহাকে বিশ্বাস করিবে।” কিন্তু হৃদয় কঠিন না করে যীশুতে বিশ্বাস স্থাপন করা উচিত। ইব্রীয় ৩:১৫ পদে রয়েছে, “আজ যদি তোমরা তাঁর কণ্ঠ শুন, তবে তোমাদের হৃদয় কঠিন করো না।” মথি ২৭:৪৩ পদে রয়েছে, “তাহা হইলে আমরা উহার উপরে বিশ্বাস করিব; ও ঈশ্বরে ভরসা রাখে, এখন তিনি নিস্তার করুন, যদি উহাকে চান ; কেননা ও বলিয়াছে, আমি ঈশ্বরের পুত্র।”

মন পরিবর্তন ও সুসমাচারে বিশ্বাস পরিত্রাণের নিশ্চয়তা। কিন্তু আমরা আমাদের মন ফেরাতে চাই না; সুসমাচার আমাদের কাছে বিরক্তবোধ হয়। মার্ক ১:১৫ পদে রয়েছে, “তোমরা মন ফিরাও, ও সুসমাচারে বিশ্বাস কর।” জগতের দিকে চলে যাওয়া হৃদয়কে ঈশ্বরের প্রতি ফিরিয়ে আনাই হল অনুতাপ। আমাদের কখনোই রাজা শৌলের মতো হওয়া উচিৎ নয়, যে নিজের ইচ্ছামতো ঈশ্বরের বাক্যকে ব্যাখা করেছিলো এবং আংশিকভাবে এটা পালন করেছিল। তার বদলে, আমাদের রাজা হিষ্কিয়ের মত নিস্তারপর্ব পালন করা উচিৎ, আমাদের হারানো হৃদয়কে জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনা উচিৎ এবং যেমন মালাখির পুস্তকে লেখা আছে দশমাংশ ও দানের দ্বারা ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসা উচিৎ। এটাই হল অনুতাপ। প্রভু যীশু প্রথম প্রচার কার্য শুরু করেছিলেন উক্ত বাক্য দিয়ে। ““দিন সম্পূর্ণ হয়েছে, ঈশ্বরের রাজ্য কাছে এসে গেছে; তোমরা পাপ থেকে মন ফেরাও ও সুসমাচারে বিশ্বাস কর।” আজও পবিত্র আত্মা বলে চলেছে: “সময় প্রায়ই শেষ হতে চলেছে, প্রভুর আগমন সন্নিকটে, তোমরা মন ফিরাও, ও সুসমাচারে বিশ্বাস করো।” তবুও আজ অনেকে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি মন ফেরাতে। হ্যাঁ, কিছুতেই মন পরিবর্তন করতে পারছিনা কারণ আমাদের মন আজ অন্য কোথাও লাগিয়ে রেখেছি। আমরা জানি যে, শেষ সময়ের মধ্যদিয়ে আমরা চলছি। বর্তমানে এ জগতে যা কিছু হচ্ছে, তাও আমরা অবগত আছি। একের পর এক যে সকল ভয়ানক বিপর্যয় ঘটেই চলেছে, তাও আমরা শুনছি ও দেখছি। আমাদের দিনগুলো কেমন যাচ্ছে তা আমরা যে কেউ এক নিঃশ্বাসে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলে দিতে পারবো। আমরা কি কখনো একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেছি যে, এ সমস্ত ঘটনার মধ্যদিয়ে পিতা ঈশ্বর আমাদের কি বলতে বা বোঝাতে চাইছেন।

বিশ্বাস সহজভাবে নেয়া উচিত নয়; বিশ্বাসঘাতকের উপর ভরসা বোকামী। বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়ার পর মানুষ মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে,তবে বিশ্বাসঘাতককে ক্ষমা করে দেয়ার পরেও তাকে কিন্তু পুনরায় আর আগের মতো বিশ্বাস করা যায় না,সে যতই শোধরাক না কেন! আর এই বিশ্বাস করা যায় না বলেই নিজের মধ্যে এক অসহায়বোধ কাজ করে।আর যখন পুনরায় বিশ্বাস ভেঙ্গে দেয়,ঠিক তখন নিজেকে নিজেরই শেষ করে ফেলতে ইচ্ছে করে!না তাকে কিছু বলা যায়, আর না নিজেকে সান্ত¡না দেয়া যায়।বিশ্বাস ভেঙ্গে যা-ও সম্পর্কেও ভালো কিংবা শান্তিতেও থাকা যায় না! একটি সম্পর্কে পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।তবে সম্পর্কে পরস্পরের যেকোনো একজন বিশ্বাসঘাতকতা করলে,সম্পর্ক থাকলেও;সম্পর্কের প্রতি কিংবা সম্পর্কের মানুষটার প্রতি কোনো গুরুত্ব কিংবা টান থাকে না! বিশ্বাসঘাতক কখনোই পাল্টায় না,তারা কেবল শিকার পাল্টায়! একের পর এক একটা মানুষ যখন বিশ্বাসঘাতকতা করেই যায়। হিতোপ ২৫:১৯ পদে রয়েছে, “সঙ্কটের সময়ে বিশ্বাসঘাতকের উপর ভরসা ভগ্ন দন্ত ও বিকল চরণের তুল্য।” যিরমিয় ১২:৬ পদে রয়েছে, “বস্তুতঃ তোমার ভ্রাতৃগণ ও তোমার পিতৃকুল, তাহারাই তোমার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছে, তাহারাই তোমার পশ্চাতে ‘ধর ধর’ বলিয়া ডাকিতেছে; তাহারা তোমাকে ভাল ভাল কথা কহিলেও তাহাদের কথায় বিশ্বাস করিও না।” কাজেই এ জাতীয় মানুষকে বিশ্বাস করা মোটেও উচিত হবে না। যদি বিশ্বাস করা হয়, তাহলে পুনরায় নিজেকে মাকড়সার জালের মতো জড়িয়ে রাখা হয়। ইয়োব ৮:১৪ পদে রয়েছে, “তাহার ভরসা উচ্ছিন্ন হয়, তাহার আশ্রয় মাকড়সার জাল মাত্র।”

আমাদের বিশ্বাস ও বিশ্বাসের গভীরতা ঈশ্বর জানেন। আর বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার অধিকার লাভ করা যায়। ঈশ্বরের বাক্যে আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করা। ঈশ্বরের বাক্য সত্যস্বরূপÑআমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি। প্রকাশিত বাক্য ২:১৯ পদে রয়েছে, “আমি জানি তোমার কর্ম সকল ও তোমার প্রেম ও বিশ্বাস ও পরিচর্যা ও ধৈর্য, আর তোমার প্রথম কর্ম অপেক্ষা প্রচুরতর শেষ কর্ম আমি জানি।” যোহন ১১:৪২ পদে রয়েছে, “আর আমি জানিতাম, তুমি সর্বদা আমার কথা শুনিয়া থাক; কিন্তু এই যে সকল লোক চারিদিকে দাঁড়াইয়া আছে, ইহাদের নিমিত্তে এই কথা কহিলাম, যেন ইহারা বিশ্বাস করে যে, তুমিই আমাকে প্রেরণ করিয়াছ।” প্রেরিত ২৬:২৭ পদে রয়েছে, “হে রাজন্ আগ্রিপ্প, আপনি কি ভাববাদিগণকে বিশ্বাস করেন? আমি জানি, আপনি বিশ্বাস করেন।”

ঈশ্বরে যে বিশ্বাস না করে, সে মিথ্যাবাদী। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন; আমাদের প্রতিপালনের জন্যে সবকিছু দিয়েছেন। কতো আশ্চর্যভাবে তিনি আমাদের সৃজন করে এ জগতে পাঠালেন। অথচ আমরাই তাকে বিশ্বাস করি না। ১ যোহন ৫:১০ পদে রয়েছে, “ঈশ্বরের পুত্রের উপর যে বিশ্বাস করে, ঐ সাক্ষ্য তাহার অন্তরে থাকে; ঈশ্বরে যে বিশ্বাস না করে, সে তাঁহাকে মিথ্যাবাদী করিয়াছে; কারণ ঈশ্বর আপন পুত্রের বিষয়ে যে সাক্ষ্য দিয়াছেন, তাহা সে বিশ্বাস করে নাই।” তবে আমাদের আশ্বাস এতোটুকু যে, যাত্রাপুস্তক ৪:৮ পদে রয়েছে, “‘তাহারা যদি তোমাকে বিশ্বাস না করে, এবং ঐ প্রথম চিহ্নেও মনোযোগ না করে, তবে দ্বিতীয় চিহ্নে বিশ্বাস করিবে।”
যীশুতে বিশ্বাস করাটা আমাদের জীবনের জন্যে পরিত্রাণের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করে। ১ যোহন ৫:১ পদে রয়েছে, “যে কেহ বিশ্বাস করে যে, যীশুই সেই খ্রীষ্ট, সে ঈশ্বর হইতে জাত; এবং যে কেহ জন্মদাতাকে প্রেম করে; সে তাঁহা হইতে জাত ব্যক্তিকেও প্রেম করে।” পরিত্রাণের নিশ্চয়তা লাভের উপলব্ধি হচ্ছে সমৃদ্ধশালী খ্রীষ্টিয় জীবনের ভিত্তি। এ উপলব্ধি ব্যতিত খ্রীষ্টিয়ানরা যীশুর প্রতিজ্ঞা অনুসারে সমৃদ্ধশালী জীবনে প্রবেশ করতে পারেন না। আধুনিক খ্রীষ্টিয় জীবনে পরিত্রাণের নিশ্চয়তাকে অনেকসময় একেবারেই অবজ্ঞা করা হয়; কিংবা এমন লোকেরা তা’ পাওয়ার দাবি করে থাকে-যাদের আসলে তা’ পাওয়ার কোনো অধিকারই নেই। অনেকলোকই বিশ্বাস করে থাকে যে, তারা পরিত্রাণ পেয়েছে; যার কারণ হলো কেউ না কেউ তাদেরকে এ কথা বলেছে। তারা নিজেদেরকে পরীক্ষা করে দেখে না। তারা ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি তাদের নিশ্চয়তা পরীক্ষা করে দেখে না। তাদেরকে এ কথা শেখানো হয় যে, তাদের পরিত্রাণ অর্জিত হতে পারে একমাত্র আত্মিক স্বাস্থ্য অর্জন এবং বৃদ্ধি লাভের মধ্যদিয়ে। তথাপি এদের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের মাঝে আত্মিক সুস্বাস্থ্য কিংবা বৃদ্ধি লাভের কোনো প্রমাণ মেলে না। বাইবেল নিশ্চিত করে যে, যারা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস রাখে তারা পরিত্রাণ পাবে এবং কোনোকিছুই তাদের খ্রীষ্টের হাত থেকে ছিঁড়ে ফেলবে না। ১ যোহন ৪:১৬ পদে রয়েছে, “আর ঈশ্বরের যে প্রেম আমাদের মধ্যে আছে, তাহা আমরা জানি ও বিশ্বাস করিয়াছি। ঈশ্বর প্রেম; আর প্রেমে যে থাকে, সে ঈশ্বরে থাকে এবং ঈশ্বর তাহাতে থাকেন।” যীশুতে বিশ্বাস কেবল একটি মানসিক স্বীকৃতি নয়, বরং এটি তাঁর কাছে আমাদের জীবনের সমর্পণ । এর অর্থ হল স্বীকার করা যে তিনি আমাদের জীবনের প্রভু এবং তিনি যেখানেই যান না কেন আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে ইচ্ছুক। যীশুর কাছে আমাদের জীবন সমর্পণ করে, আমরা তাঁর প্রতিশ্রুত প্রচুর জীবন উপভোগ করতে পারি। ১ যোহন ৩:২৩ পদে রয়েছে, “আর তাঁহার আজ্ঞা এই, যেন আমরা তাঁহার পুত্র যীশু খ্রীষ্টের নামে বিশ্বাস করি এবং পরস্পর প্রেম করি, যেমন তিনি আমাদিগকে আজ্ঞা দিয়াছেন।” গালাতীয় ২:১৬ পদে রয়েছে, “তথাপি বুঝিয়াছি, ব্যবস্থার কার্য হেতু নয়, কেবল যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা মনুষ্য ধার্মিক গণিত হয়। সেই জন্য আমরাও খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাসী হইয়াছি, যেন ব্যবস্থার কার্য হেতু নয়, কিন্তু খ্রীষ্টে বিশ্বাস হেতু ধার্মিক গণিত হই; কারণ ব্যবস্থার কার্য হেতু কোন মনুষ্য ধার্মিক গণিত হইবে না।” গালাতীয় ৩:২৬ পদে রয়েছে, “কেননা তোমরা সকলে, খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাস দ্বারা, ঈশ্বরের পুত্র হইয়াছ;” যোহন ১২:১১ পদে রয়েছে, “কেননা তাহারই নিমিত্ত যিহূদীদের মধ্যে অনেকে গিয়া যীশুতে বিশ্বাস করিতে লাগিল।” প্রেরিত্ ১৬:৩১ পদে রয়েছে, “তাঁহারা কহিলেন, তুমি ও তোমার পরিবার প্রভু যীশুতে বিশ্বাস কর, তাহাতে পরিত্রাণ পাইবে।” রোমীয় ৩:২৬ পদে রয়েছে, “যেন এক্ষণে যথাকালে আপন ধার্মিকতা দেখান, যেন তিনি নিজে ধার্মিক থাকেন, এবং যে কেহ যীশুতে বিশ্বাস করে, তাহাকেও ধার্মিক গণনা করেন।”

বিশ্বাসের গুরুত্ব ও মূল্য রয়েছে; তাই সকল আত্মাকে বিশ্বাস করা অনুচিত। ১ যোহন ৪:১ পদে রয়েছে, “প্রিয়তমেরা, তোমরা সকল আত্মাকে বিশ্বাস করিও না, বরং আত্মা সকলের পরীক্ষা করিয়া দেখ, তাহারা ঈশ্বর হইতে কি না; কারণ অনেক ভাক্ত ভাববাদী জগতে বাহির হইয়াছে।” বিশ্বাস গড়ে তোলা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার এমন অভিজ্ঞতা থাকে যে মানুষ বা ধারণার উপর আস্থা রাখা উচিত নয় যারা সেই বিশ্বাসের অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যে বিশ্বাস থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং একটি পরিপূর্ণ এবং সুখী জীবনযাপন। পরকালে বিশ্বাস মানুষের জীবনের বাঁক বদলে দেয়। মানুষকে নিয়মমাফিক ও বিধিবদ্ধ জীবনাচারে বাধ্য করে। যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষকে সৎকর্মশীলতার ওপর দৃঢ় রাখে তার বিশ্বাস। এটা না থাকলে ঝুঁকির মুখে পদস্খলন ঘটার সমূহসম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ঈশ্বরে বিশ্বাস সকলেই করে থাকে। যাকোব ২:১৯ পদে রয়েছে, “তুমি বিশ্বাস করিতেছ যে, ঈশ্বর এক, ভালই করিতেছ; ভূতেরাও তাহা বিশ্বাস করে এবং ভয়ে কাঁপে।” রোমীয় ৩:৩০ পদে রয়েছে, “কেননা বাস্তবিক ঈশ্বর এক, আর তিনি ছিন্নত্বক্ লোকদিগকে বিশ্বাস হেতু, এবং অচ্ছিন্নত্বক্ লোকদিগকে বিশ্বাস দ্বারা ধার্মিক গণনা করিবেন।”

যারা বিশ্বাসপ্রাপ্ত হয়েছে, তারা ধন্য! ২ পিতর ১:১ পদে রয়েছে, “শিমোন পিতর, যীশু খ্রীষ্টের দাস ও প্রেরিত- যাঁহারা আমাদের ঈশ্বরের ও ত্রাণকর্তা যীশু খ্রীষ্টের ধার্মিকতায় আমাদের সহিত সমরূপ বহুমূল্য বিশ্বাস প্রাপ্ত হইয়াছেন, তাঁহাদের সমীপে।” কোন বিষয়ের প্রমাণ কারো নিকট থাকে আর কারো নিকট থাকে না। প্রমাণ হলো দেখা, শুনা, ত্বক দ্বারা অনুভব ও যুক্তি দ্বারা বুঝা। কাজেই সকল বিশ্বাসের সঠিকতার প্রমাণ নেই ঘটনা এমন নয় বরং কোন কোন বিশ্বাসের সঠিকতার প্রমাণ রয়েছে আর কোন কোন বিশ্বাসের সঠিকতার প্রমাণ নেই। যে সব বিশ্বাস কারো অনুমানের ভিত্তিতে করা হয় সে সব বিশ্বাসের সঠিকতার প্রমান নাও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। কোন কিছু সঠিকও হতে পারে আবার বেঠিকও হতে পারে এমন মনভাব বিশ্বাস নয় বরং সন্দেহ। অনেকে সন্দেহকে বিশ্বাস বলে ঘোষণা প্রদান করে যা ঠিক নয়।বাপ-দাদা করেছে সেজন্য আমিও করি এটা বিশ্বাসতো নয় এমনকি সন্দেহ থেকেও নিম্নমানের।সে জন্য বিশ্বাস এমনি এমনি আসেনা। এটা যুক্তি ভিত্তিক অনুমানে অর্জন করে নিতে হয়। কেউ যুক্তিহীন অনুমাণে বিশ্বাস করে। কেউ যুক্তিযুক্ত অনুমাণে বিশ্বাস করে।যুক্তিযুক্ত অনুমাণে বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়। যুক্তিহীন অনুমানে বিশ্বাস ভুল ও শুদ্ধ দু’টোই হতে পারে। ভুল অনুমানে প্রাপ্ত বিশ্বাস সঠিক নয়।বান্তব উপলব্ধি সঠিক বিশ্বাসের মহা সহায়ক। যোহন ১৪:১ পদে রয়েছে, “তোমাদের হৃদয় উদ্বিগ্ন না হউক; ঈশ্বরে বিশ্বাস কর, আমাতেও বিশ্বাস কর।”

ঈশ্বরে বিশ্বাস করলে আনন্দে পরিপূর্ণ হওয়া যায়। প্রেরিত্ ১৬:৩৪ পদে রয়েছে, “পরে সে তাঁহাদিগকে উপরে গৃহমধ্যে লইয়া গিয়া তাঁহাদের সম্মুখে আহারীয় দ্রব্য রাখিল; এবং সমস্ত পরিবারের সহিত ঈশ্বরে বিশ্বাস করাতে অতিশয় আহ্লাদিত হইল।” রোমীয় ৪:৩ পদে রয়েছে, “কিন্তু ঈশ্বরের কাছে নাই; কেননা শাস্ত্রে কি বলে? “অব্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস করিলেন, এবং তাহা তাঁহার পক্ষে ধার্মিকতা বলিয়া গণিত হইল।” এখানে আমরা দেখতে পাই, অব্্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস করলে বলে ধার্মিকতা বল্যে গণ্য হলেন। গালাতীয় ৩:৬ পদে রয়েছে, “যেমন অব্রাহাম “ঈশ্বরে বিশ্বাস করিলেন, আর তাহাই তাঁহার পক্ষে ধার্মিকতা বলিয়া গণিত হইল।” যাকোব ২:২৩ পদে রয়েছে, “তাহাতে এই শাস্ত্রীয় বচন পূর্ণ হইল, “অব্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস করিলেন, এবং তাহা তাঁহার পক্ষে ধার্মিকতা বলিয়া গণিত হইল”, আর তিনি “ঈশ্বরের বন্ধু” এই নাম পাইলেন।” ১ পিতর ১:২১ পদে রয়েছে, “তোমরা তাঁহারই দ্বারা সেই ঈশ্বরে বিশ্বাসী হইয়াছ, যিনি তাঁহাকে মৃতগণের মধ্য হইতে উঠাইয়াছেন ও গৌরব দিয়াছেন; এইরূপে তোমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা ঈশ্বরের প্রতি রহিয়াছে।” আর যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না তারা পরিত্রাণ লাভ করতে পারে না। গীত ৭৮:২২ পদে রয়েছে, “কেননা তাহারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করিত না, তাঁহার পরিত্রাণে নির্ভর করিত না।” দানিয়েল ৬:২৩ পদে রয়েছে, “তখন রাজা অতিশয় আহ্লাদিত হইলেন, এবং দানিয়েলকে খাত হইতে তুলিতে আজ্ঞা করিলেন। তাহাতে দানিয়েলকে খাত হইতে তুলিয়া লওয়া হইল, আর তাঁহার শরীরে কোন প্রকার আঘাত দৃষ্ট হইল না, কারণ তিনি আপন ঈশ্বরে বিশ্বাস করিয়াছিলেন।” যোনা ৩:৫ পদে রয়েছে, “তখন নীনবীয় লোকেরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করিল; তাহারা উপবাস ঘোষণা করিল, এবং মহান হইতে ক্ষুদ্র পর্যন্ত সকলে চট পরিধান করিল।” ঈশ্বর হলেন সর্বোচ্চ সত্তা, স্রষ্টা এবং বিশ্বাসের প্রধান অভিপ্রায়। বিশ্বাসী হওয়া প্রশংসিত ব্যাপার; প্রথাগতভাবে ভালো মানুষ, সৎ মানুষ, মহান মানুষ বলতেই বোঝায় বিশ্বাসী মানুষ। মার্ক ১১:২২ পদে রয়েছে, “যীশু উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখ।” আর বিশ্বাস দ্বারাই আনন্দে ও শান্তিতে পরিপূর্ণ হওয়া যায়। রোমীয় ১৫:১৩ পদে রয়েছে, “প্রত্যাশার ঈশ্বর তোমাদিগকে বিশ্বাস দ্বারা সমস্ত আনন্দে ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন, যেন তোমরা পবিত্র আত্মার পরাক্রমে প্রত্যাশায় উপচিয়া পড়।” অতএব, প্রতিটি মানুষের বিশ্বাসের দ্বারাই মনোবল বৃদ্ধিলাভ হয়। যোহন ৫:৪৬ পদে রয়েছে, “কারণ যদি তোমরা মোশিকে বিশ্বাস করিতে, তবে আমাকেও বিশ্বাস করিতে, কেননা আমারই বিষয়ে তিনি লিখিয়াছেন।”

যীশুতে বিশ্বাস স্থাপনের মধ্যদিয়ে ধৈর্যে পবিত্র হওয়া যায় এবং ঈশ্বরের আদেশ পালনের মাধ্যমে বিশ্বাসে জীবনযাপন সম্ভব হয়। প্রকাশিত বাক্য ১৪:১২ পদে রয়েছে, “এইস্থলে সেই পবিত্রগণের ধৈর্য দেখা যায়, যাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করে ও যীশুর বিশ্বাস ধারণ করে।” আর যারা পবিত্র তাদের মধ্যে ধৈর্য ও বিশ্বাস পরিলক্ষিত হয়। প্রকাশিত বাক্য ১৩:১০ পদে রয়েছে, “যদি কেহ বন্দিত্বের পাত্র থাকে, সে বন্দিত্বে যাইবে; যদি কেহ খড়্গ দ্বারা হত্যা করে, তাহাকে খড়্গ দ্বারা হত হইতে হইবে। এইস্থলে পবিত্রগণের ধৈর্য ও বিশ্বাস দেখা যায়।” আর বিশ্বাসে জীবনযাপনকারী প্রত্যেকেই পবিত্র জীবনযাপন করতে পারে। প্রেরিত্ ১৮:৮ পদে রয়েছে, “আর সমাজাধ্যক্ষ ক্রীষ্প সমস্ত পরিবারের সহিত প্রভুতে বিশ্বাস করিলেন; এবং করিন্থীয়দের মধ্যে অনেক লোক শুনিয়া বিশ্বাস করিল, ও বাপ্তাইজিত হইল।” বিশ্বাসের দৃঢ়তা হারালে সত্য অগ্রাহ্য হয়; কিন্তু বাস্তবিক তা’ গুরুত্বপূর্ণ বলেই গণ্য্য হতে পারে। ১ পিতর ২:৭ পদে রয়েছে, “অতএব তোমরা যাহারা বিশ্বাস করিতেছ, ঐ মহামূল্যতা তোমাদেরই জন্য; কিন্তু যাহারা বিশ্বাস করে না, তাহাদের জন্য “যে প্রস্তর গাঁথকেরা অগ্রাহ্য করিয়াছে, তাহাই কোণের প্রধান প্রস্তর হইয়া উঠিল;” কেননা বিশ্বাসেই পরিবর্তি পদক্ষেপে পবিত্র বিশ্বাসের জন্ম দেয়; যা’ আমরা প্রত্যাশা করি। যোহন ৫:৪৭ পদে রয়েছে, “কিন্তু তাঁহার লেখায় যদি বিশ্বাস না কর, তবে আমার কথায় কিরূপে বিশ্বাস করিবে?”

মিথ্যায় যারা বসবাস করে, তারা ভুল করে ও সেই মিথ্যায় বিশ্বাসে স্থির হয়ে নিজেদের জীবন শেষ করে দেয়। ২ থিষলনীকীয় ২:১১ পদে রয়েছে, “আর সেই জন্য ঈশ্বর তাহাদের কাছে ভ্রান্তির কার্যসাধন পাঠান, যাহাতে তাহারা সেই মিথ্যায় বিশ্বাস করিবে;” অতএব, যা’ কিছু অবিশ্বাস্য; তাতে বিশ্বাস করা মোটেও উচিত নয়। যিরমিয় ৭:৪ পদে রয়েছে, “তোমরা এই মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করিও না, যথা, সদাপ্রভুর মন্দির, সদাপ্রভুর মন্দির, সদাপ্রভুর মন্দির এই সকল।” কেননা মিথ্যায় কোনো উপকার পাওয়া যায় না। যিরমিয় ৭:৮ পদে রয়েছে, “দেখ, তোমরা মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করিতেছ, তাহা উপকার করিতে পারে না।” যিরমিয় ১৩:২৫ পদে রয়েছে, “ইহাই তোমার নির্দিষ্ট অধিকার, আমা দ্বারা নিরূপিত তোমার অংশ, এই কথা সদাপ্রভু কহেন; যেহেতু তুমি আমাকে ভুলিয়া গিয়াছ, এবং মিথ্যাতে বিশ্বাস করিয়াছ।” যিরমিয় ২৮:১৫ পদে রয়েছে, “তখন যিরমিয় ভাববাদী হনানিয় ভাববাদীকে কহিলেন, হে হনানিয়, শুন; সদাপ্রভু তোমাকে প্রেরণ করেন নাই, কিন্তু তুমি এই লোকদিগকে মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করাইতেছ।” যিরমিয় ২৯:৩১ পদে রয়েছে, “তুমি সমস্ত নির্বাসিত লোকের কাছে এই কথা বলিয়া পাঠাও, সদাপ্রভু নিহিলামীয় শময়িয়ের বিষয়ে এই কথা কহেন, আমি শময়িয়কে প্রেরণ না করিলেও সে তোমাদের কাছে ভাববাণী বলিয়া মিথ্যা কথায় তোমাদের বিশ্বাস জন্মাইয়াছে।” হোশেয় ১০:১৩ পদে রয়েছে, “তোমরা দুষ্টতারূপ চাষ করিয়াছ, অধর্মরূপ শস্য কাটিয়াছ, মিথ্যার ফল ভোজন করিয়াছ; কারণ তুমি আপনার পথে, আপনার বীরসমূহে বিশ্বাস করিয়াছ।” হবক্ ২:১৮ পদে রয়েছে, “ক্ষোদিত প্রতিমায় উপকার কি যে, তাহার নির্মাতা তাহা ক্ষোদন করে? ছাঁচে ঢালা প্রতিমার ও মিথ্যার শিক্ষকেই বা [উপকার কি] যে, আপনার নির্মিত বস্তুর নির্মাতা তাহাতে বিশ্বাস করিয়া অবাক্ অবস্তু নির্মাণ করে?”

তবে কাজের মাধ্যমে মানুষ ধার্মিক গণিত হতে পারে; বিশ্বাসের দ্বারা হতে পারে না। যাকোব ২:২৪ পদে রয়েছে, “তোমরা দেখিতেছ, কর্মহেতু মনুষ্য ধার্মিক গণিত হয়, শুধু বিশ্বাস হেতু নয়।” আর বিশ্বাস অন্তরের বিষয়; যা’ প্রতিটি মানুষ লালন করে; এটি ছাড়াও কোনো মানুষ সম্পূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে না। প্রেরিত্ ৩:১৬ পদে রয়েছে, “আর তাঁহার নামে বিশ্বাস হেতু, এই যে ব্যক্তিকে তোমরা দেখিতেছ ও জান, তাঁহারই নাম ইহাকে বলবান করিয়াছে; তাঁহারই দত্ত বিশ্বাস তোমাদের সকলের সাক্ষাতে ইহাকে এই সম্পূর্ণ সুস্থতা দিয়াছে।”

যারা বিশ্বাস করে তারা লজ্জিত হয় না। কেননা ঈশ্বর কর্তৃক যা’ কিছু মনোনীত ও স্থিরিকৃত তাতে আমাদের বিশ্বাস থাকা উচিত। ১ পিতর ২:৬ পদে রয়েছে, “কেননা শাস্ত্রে এই কথা পাওয়া যায়, “দেখ, আমি সিয়োনে কোণের এক মনোনীত মহামূল্য প্রস্তর স্থাপন করি; তাঁহার উপর যে বিশ্বাস করে, সে লজ্জিত হইবে না।” আর ঈশ্বরে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তারা কখনোই লজ্জিত হবে না। গীত ২২:৫ পদে রয়েছে, “তাঁহারা তোমার নিকটে ক্রন্দন করিয়া রক্ষা পাইতেন, তোমাতে বিশ্বাস করিয়া লজ্জিত হইতেন না।” আমাদের মহান ঈশ্বর আমাদের ক্রন্দন শুনেন; যখন আমরা তার কাছে বিশ্বাসে কিছু প্রত্যাশা করি। কিন্তু এ জন্যে আমাদের নিজেদেরকে তাঁর কাছে সমর্পণ করতে হবে। ১ বংশাবলি ৫:২০ পদে রয়েছে, “তাহারা তাহাদের বিরুদ্ধে সাহায্য পাইল; তাহাতে হাগরীয়েরা ও তাহাদের সঙ্গী সমস্ত লোক তাহাদের হস্তে সমর্পিত হইল, কেননা তাহারা যুদ্ধে ঈশ্বরের নিকটে ক্রন্দন করিল, আর তিনি তাহাদের প্রার্থনা শুনিলেন, যেহেতু তাহারা তাঁহাতে বিশ্বাস করিল।” আমরা কখনো কখনো স্বর্গীয় বিষয়ে বিশ্বাসে দুর্বল হই। যোহন ৩:১২ পদে রয়েছে, “আমি পার্থিব বিষয়ের কথা কহিলে তোমরা যদি বিশ্বাস না কর, তবে স্বর্গীয় বিষয়ের কথা কহিলে কেমন করিয়া বিশ্বাস করিবে?”

বিশ্বাসীরাই আনন্দ করতে পারে; আর সেই আনন্দ অনির্বচনীয় ও গৌরবযুক্ত হয়। উল্লাসে মেতে উঠা পবিত্র শিশুদের মতো। ১ পিতর ১:৮ পদে রয়েছে, “তোমরা তাঁহাকে না দেখিয়াও প্রেম করিতেছ; এখন দেখিতে পাইতেছ না, তথাপি তাঁহাতে বিশ্বাস করিয়া অনির্বচনীয় ও গৌরবযুক্ত আনন্দে উল্লাস করিতেছ,” আমরা ক্ষণস্থায়ী, ঈশ্বর তিনি চিরস্থায়ী। আমরা দুর্বল, তিনি সর্বশক্তিমান। আমরা গরীব, তিনি সর্বাপেক্ষা ধনী। এ কাক্সিক্ষত সম্পর্কের দ্বারাই দেখা যায় যে, আমাদের ঈশ্বরের প্রয়োজন রয়েছে। আর যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে তাঁর পালক ও প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে না, সে খুব সম্ভব ঈশ্বর ছাড়া অন্য কাউকে দেবতা হিসেবে গ্রহণ করবে। যদিও কেউ মহান ঈশ্বর ছাড়া অন্যের মাঝে সন্তুষ্টি বা আনন্দ খুঁজে পায় তবে তা’ টিকবে না। কেননা যখন কেউ কোনো বস্তু বা ব্যক্তির প্রতি বিরক্ত হয়ে যায়, তখন সে অন্যটা খোঁজ করে। যোহন ৩:১৬ পদে রয়েছে, “কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার এক জাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” এখানে আমরা ঈশ্বরের প্রেমের সম্পর্কে বুঝতে পারি। আর সেই প্রেমে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করলে আমরা অনন্ত জীবন পেতে পারি।

বিশ্বাস থাকলেও যদি তাতে প্রেম না থাকে; তবে তাতে কোনো মূল্য নেই। আমরা ভাববাণী পেলেও, সববিষয়ে নিগূঢ়তত্ত্বেও জ্ঞানে পারদর্শী হয়ে বিশ্বাসী হলেও; সেখানে প্রেমশূন্য থাকলে কোনো অস্তিত্ব আশা করা যায় না। ১ করিন্থীয় ১৩:২ পদে রয়েছে, “আর যদি ভাববাণী প্রাপ্ত হই, ও সমস্ত নিগূঢ়তত্ত্বে ও সমস্ত জ্ঞানে পারদর্শী হই, এবং যদি আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকে যাহাতে আমি পর্বত স্থানান্তর করিতে পারি, কিন্তু আমার প্রেম না থাকে, তবে আমি কিছুই নহি।” কিন্তু আমাদের জীবনে বিশ্বাস, প্রত্যাশা, প্রেম এসবের মধ্যে প্রেমই শ্রেষ্ঠ; কেননা প্রেমের অনুপস্থিতিতে বিশ্বাস ও প্রত্যাশার মূল্য কমে যায় (১ করিন্থীয় ১৩:১৩)। আর যাদের মধ্যে প্রেম থাকে তারা পবিত্রভাবে ঈশ্বরের গৌরব করতে সুযোগ পায় (ইফিষীয় ১:১৫; কলসীয় ১:৪)। তাই আমাদের প্রত্যেকের মিতাচারী হওয়া, বিশ্বাস ও প্রেমরূপ বুকপাটা পরিধান করা উচিত এবং পবিত্রাণের আশারূপ শিরস্ত্রাণ মস্তকে দেয়া উচিত (১ থিষলনীকীয় ৫:৮)। কেননা আমরা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে বাধ্য; কারণ তা করা আমাদের উপযুক্ত-যখন আমাদের অতিশয় বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং পরস্পরের প্রতি প্রেম উপচিয়া পড়ে (২ থিষলনীকীয় ১:৩; ১ তীমথিয় ১:১৪)। ১ তীমথিয় ১:৫ পদে রয়েছে, “কিন্তু সেই আদেশের পরিণাম প্রেম, যাহা শুচি হৃদয়, সৎবিবেক ও অকল্পিত বিশ্বাস হইতে উৎপন্ন;” অতএব, আমরা যেহেতু হে ঈশ্বরের লোক; তাই সমস্ত পাপ হতে আমাদের পলায়ন করা উচিত এবং ধার্মিকতা, ভক্তি, বিশ্বাস, প্রেম, ধৈর্য, মৃদুভাবের অনুধাবন করা উচিত (১ তীমথিয় ৬:১১)। কিন্তু আমাদের জীবনে যৌবনকাল গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ঐ সময় অভিলাষ আমাদের জীবনকে অশুচি করে। তাই যৌবনকালের অভিলাষ হতে পলায়ন কর এবং যারা শুচি হৃদয়ে প্রভুকে ডাকে, তাদের সাথে ধার্মিকতা, বিশ্বাস, প্রেম ও শান্তির অনুধাবন করা উচিত (২ তীমথিয় ২:২২)। আমাদের উচিত ঈশ্বরের শক্ষা, আচার-ব্যবহার, সঙ্কল্প, বিশ্বাস, দীর্ঘসহিষ্ণুতা, প্রেম, ধৈর্য, নানাবিধ তাড়না ও দুঃখভোগের অনুসরণ করা (২ তীমথিয় ৩:১০)। আমরা যেন চিরজীবন ঈশ্বরের প্রেম ও বিশ্বাস, যীশুর প্রতি ও পবিত্র ঈশ্বরের প্রতি অটল থাকতে পারি (ফিলীমন ১:৫)।
জীবনে বিশ্বাস ও সৎবিবেক রক্ষা করতে গিয়ে বিশ্বাসরূপ নৌকা ভেঙ্গে পড়ে। ১ তীমথিয় ১:১৯ পদে রয়েছে, “যেন বিশ্বাস ও সৎবিবেক রক্ষা কর; সৎবিবেক দূরে ফেলাতে কাহারও কাহারও বিশ্বাস-রূপ নৌকা ভগ্ন হইয়াছে।” নদীতে ভাসমান নৌকা যদি ভেঙ্গে যায়, তাহলে নিশ্চিত যে, তা’ পানিতে তলিয়ে যাবে; আর এতে মৃত্যু নিশ্চিত! কিন্তু আমাদের সকলকে বিশ্বাসে অটল থাকতে হবে। কিন্তু কারো কারো তা’ করতে গিয়ে বিশ্বাস হারিয়ে যায় এবং জীবন শেষ হয়ে যায়। আমরা অব্রাহামের বংশের উদাহরণ অনুসরণ করতে পারি যে, তারা বিশ্বাসে অটল ছিলেন (রোমীয় ৪:১৬)। কিন্তু অব্রাহামের মধ্যে প্রত্যাশাযুক্ত বিশ্বাস থাকায় তিনি বহুজাতির পিতা হয়েছিলেন (রোমীয় ৪:১৮)। কেননা ঈশ্বর বিশ্বাস হেতু পরজাতিদিগকেও ধার্মিক গণনা করে থাকেন (গালাতীয় ৩:৮); আর তারা যেন বিশ্বাস দ্বারাই অঙ্গীকৃত আত্মাকে প্রাপ্ত হয় (গালাতীয় ৩:১৪)।

যারা ঈশ্বরের শক্তিতে বিশ্বাস করে তারা পরিত্রাণের নিমিত্তই বিশ্বাস দ্বারা রক্ষিত হয়; যে পরিত্রাণ শেষকালে প্রকাশিত হওয়ার জন্যে প্রস্তুত থাকে; আমেন (১ পিতর ১:৫)। যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারাই ঈশ্বর ধার্মিকতা দিয়ে থাকেন (রোমীয় ৩:২২)। কেননা ঈশ্বর যীশুর রক্তে বিশ্বাস দ্বারা প্রায়শ্চিত্ত বলিরূপে প্রদর্শন করেছেন; যেন তিনি আপন ধার্মিকতা দেখান (রোমীয় ৩:২৫)। রোমীয় ৩:২৮ পদে রয়েছে, ”কেননা আমাদের মীমাংসা এই যে, ব্যবস্থার কার্য ব্যতিরেকে বিশ্বাস দ্বারাই মনুষ্য ধার্মিক গণিত হয়।” রোমীয় ৩:৩১ পদে রয়েছে, ”তবে আমরা কি বিশ্বাস দ্বারা ব্যবস্থা নিষ্ফল করিতেছি? তাহা দূরে থাকুক; বরং ব্যবস্থা সংস্থাপন করিতেছি।”

বিশ্বাস ক্রিয়ার সহকারী হয়; আর কর্ম হেতুই বিশ্বাস সিদ্ধ হতে পারে (যাকোব ২:২২)। সিদ্ধতার উদাহরণ আমরা যিশাইয় ২৮:১৬ পদে দেখতে পাই, “এই কারণ প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, দেখ, আমি সিয়োনে ভিত্তিমূলের নিমিত্ত এক প্রস্তর স্থাপন করিলাম; তাহা পরীক্ষাসিদ্ধ প্রস্তর, বহুমূল্য কোণের প্রস্তর, অতি দৃঢ়রূপে বসান; যে ব্যক্তি বিশ্বাস করিবে, সে চঞ্চল হইবে না।” আর এটা বিশ্বাস করা উচিত যে, ঈশ্বর যা’ কিছু বলেন, তা’ সিদ্ধ হবে (লূক ১:৪৫)।

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like